বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ব্যাংক থেকে কত কোটি টাকা নিয়েছে সাহেদ?

স্টাফ রিপোর্টার: রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে ব্যাংকও। বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ না নিলেও নানা নামে অন্তত ৯ ব্যাংক থেকে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিদের দেওয়া তথ্য মতে, সাহেদ প্রথমে ব্যাংকগুলোতে ছোট অঙ্কের আমানত হিসাব খুলতো। এরপর সেই ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিতো এবং তারপর ঋণের আবেদন করতো। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাসপাতাল, গাড়ি ও ক্রেডিট কার্ডের বিপরিতে ছোট ছোট অঙ্কের ঋণ নিয়েছে সাহেদ। কিন্তু টাকা শোধ না করায় ৯ ব্যাংকের কাছে সে ঋণ খেলাপি। টাকা আদায়ে ব্যাংকগুলো মামলা করেছে, মামলা চলছে। তবে আমানত হিসেবে কয়েকটি ব্যাংকে তার রয়েছে অল্প কিছু টাকা, যার পরিমাণ মাত্র ১৭ লাখ টাকা।

করোনা চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণায় গ্রেফতার রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ ব্যাংকগুলোর কাছে সাহেদ করিম নামে পরিচিত। তার বাবার নাম সিরাজুল করিম ও মা সাফিয়া করিম এবং ঠিকানা ব্যবহার করেছেন ১০৮/১ আসাদগেট অ্যাভিনিউ।

জানা গেছে, সাহেদের কাছ থেকে এনআরবি ব্যাংক পাবে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। রিজেন্ট হাসপাতাল বেসরকারি এনআরবি ব্যাংক থেকে ২ কোটি টাকা ঋণ নেয়। পাশাপাশি সাহেদ করিম ওই ব্যাংকটি থেকে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করে। এখন ঋণের টাকাও খেলাপি, ক্রেডিট কার্ডের বিলও শোধ করছে না সাহেদ। টাকা আদায়ে ব্যাংকটি দুটি মামলা করেছে। এর মধ্যে একটিতে সুদসহ ঋণের পরিমাণ ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, আর ক্রেডিট কার্ডের ৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

এদিকে, পদ্মা ব্যাংক সাহেদের কাছ থেকে পাবে সোয়া দুই কোটি টাকা। যন্ত্রাংশ কেনার নামে পদ্মা (সাবেক ফারমার্স) ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখা থেকে ২০১৫ সালে ২ কোটি টাকা ঋণ নেয় রিজেন্ট হাসপাতাল। সেই টাকা এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি। বর্তমানে ব্যাংকটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নথি পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরু বলেন, ‘টাকা আদায়ে আমরা ব্যবস্থা নিতে দুদকে নথি পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হবে। এদিকে বেসরকারি পূবালী ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন সাহেদ করিম। এছাড়া ৫ লাখ টাকা গ্যারান্টি দিয়েছেন তিনি। এদিকে গ্যারান্টি দেওয়া ঋণও ইতোমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে। ফলে তার কাছে ব্যাংকটির পাওনা প্রায় ২০ লাখ টাকা।

অবশ্য রিজেন্ট কেসিএস, রিজেন্ট হাসপাতাল, অলবার্ট গ্লোবাল লিমিটেড, রিজেন্ট আর্কিটেক্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, মো. সাহেদ, মোহাম্মদ সাহেদ নামে আটটি আমানত হিসাব রয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংকে। এসব হিসাবে জমা রয়েছে প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এই ব্যাংকটি থেকেও সাহেদ ক্রেডিট কার্ড নিয়েছিল, যার খেলাপি ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে ২ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকে ১ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংকে ৪৪ হাজার, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ২৪ হাজার টাকা ঋণ খেলাপি রয়েছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকে তার নামে নেওয়া ১ লাখ টাকা খেলাপি পড়ে আছে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এই সময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমান পাওয়া যায়। এরপর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিল। পরে ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ