বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শেখ হাসিনার ‘কারাবন্দী’ দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার: দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মধ্যদিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যার যার জায়গা থেকে শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাস মহামারির কারণে জনসমাগম এড়িয়ে আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসহযোগি এবং বিভিন্ন সংগঠন স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলোচনা সভা, সমাবেশসহ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে ।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রমুখ। এ সময় আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, শেখ হাসিনাকে একাধিক বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ তারা জানে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে হলে নেত্রীকে হত্যা করতে হবে। পাপুল ও সাহেদরা দল ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। নেত্রী অবশ্যই এটা দেখবেন। অপকর্মকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সংগঠনের কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি  নির্মল রঞ্জন গুহ। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন-সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হক সাচ্চু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইসহাক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান নাঈম, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারেক সায়িদ প্রমুখ। এ সময় বক্তারা দলীয় নেতাকর্মীদের দল ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। অপরদিকে কৃষক লীগ এইদিনটি ‘গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস’ নামে পালন করেছে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ৪র্থ তলায়। শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করবেন কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দ। নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব, মোহাম্মদ হালিম খান, আবুল হোসেন প্রমুখ। এছাড়া যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের আহবানে দিনটিকে কালো দিবস আখ্যায়িত করে বাদ আসর সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু সুস্থতা কামনা করে যুবলীগের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার হোসেন বাবুর উদ্যোগে দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে পুরাতন ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কে অসহায়, গরিব, দুখী ও দুস্ত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শনিরআখড়ার আর এস টাওয়ারে এতিম-অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করেন ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী শহীদ সুলতানা কামালের ভাতিজি ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশি। এরআগে রায়েরবাগে খানকা শরিফের সামনে-হাসেম রোড, মোসলিমনগর-শামীম নগর ও মেরাজ নগর এলাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে ফলজ-বনজ ও ভেষজ গাছ বিতরণ করেন। একইসাথে এলাকাবাসির মধ্যে নিজ উদ্যোগে করোনা সামগ্রী প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ শেখ কামালের সহধর্মিণী সুলতানা কামালের ছোট ভাই গোলাম আহমেদ টিটু, যাত্রাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফারুক খান, ঢাকা মহানগর যুবলীগের দুক্ষিনের সম্পাদক ম-লীর সদস্য এস কে চান, মাতুয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. হারুনর রশীদ হারুন, ৬৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নীরু আমিন নুরুল ও সাধারণ সম্পাদক সাফায়েতুল ইসলাম সুজা, ৬৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ সভাপতি মো. সোহেল মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় ১১ মাস তাকে রাখা হয় সংসদ ভবন এলাকার বিশেষ কারাগারে। কারাগারে থাকাকালে শেখ হাসিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় চিকিৎসার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার মুক্তির জোরালো দাবি ওঠে। চাপের মুখে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ১১ জুন শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ওই বছরই ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এরপর টানা দুটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা, যে নজির বাংলাদেশে আর কারও নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ