বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

করোনা ভাইরাস সকল অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী 

করোনা ভাইরাস সকল অগ্রযাত্রা থাময়িে দয়িছেে : প্রধানমন্ত্রী 

স্টাফ রিপোর্টার:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস আমাদের সকল অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। আমি আশা করি জনগণ এ থেকে বেরোতে পারবে এবং আবার আমরা এগিয়ে যাব। এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশের না, বিশ্বব্যাপী। কাজেই সবাই যেন এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারি। 

গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এক কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সারা দেশে বনায়নে যেন সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টি হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তার স্মরণে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা এই পদক্ষেপ প্রতিবছরই নিচ্ছি।

তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশে বনায়ন সৃষ্টি। আমি যখন ’৯৬ সালে সরকার গঠন করি তখন মাত্র সাত ভাগ বনায়ন ছিল। আজ প্রায় ১৭ ভাগের উপরে আমরা করতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য সারা বাংলাদেশে ২৫ ভাগ বনায়ন করব। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এর বাইরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সেই ’৮৪ সালে আমরা কাজ শুরু করি। ’৮৪ থেকে শুরু করে আমরা প্রতিবছর পহেলা আষাঢ় সমগ্র বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণ করি। আমাদের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের ওপর দায়িত্ব থাকে। কৃষকলীগ এই উদ্যোগটা নেয় এবং সকল সহযোগী সংগঠন মিলে আমরা বৃক্ষরোপণ করি। আমরা মনে করি আমাদের দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশটা রক্ষা হওয়া দরকার। পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টির দরকার। আমরা তাদের খাদ্য এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কথা চিন্তা করি। আমি নির্দেশনা দিয়েছি শুরু থেকেই যে তিনটা গাছ লাগাতে হবে। একটা ফলের গাছ। একটা কাঠের জন্য যেটা আর্থিক সচ্ছলতা আনবে। আরেকটা ভেষজ গাছ। অর্থাৎ যে গাছ দিয়ে নানা ধরনের ওষুধ তৈরি হয়, সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এই ধরনের গাছ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি সবাইকে আহ্বান করব, যে যেখানে আপনার যতটুকু জায়গা আছে একটা গাছ লাগান। অথবা যারা শহরে থাকেন ছাদে বা বারান্দায় একটা টবে গাছ লাগান। যেভাবেই হোক একটা গাছ লাগালে ভালো লাগবে। মনটাও ভালো লাগবে। আর কিছুটা আপনার নিজের সচ্ছলতা আসবে আর নিজের হাতে লাগানো একটা গাছের একটা কাঁচামরিচ খেলেও কিন্তু ভালো লাগে। কাজেই সেইভাবে আমি আহ্বান করব- আসুন আমরা সবাই মিলে গাছ লাগাই। আমাদের দেশটা একটা বদ্বীপ, এই দেশটাকে আমরা রক্ষা করি এবং দেশটাকে উন্নত করি।

তিনি আরও বলেন, আজকের দিনটা একটা বিশেষ দিন কারণ ২০০৭ সালে তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাকে গ্রেফতার করেছিল। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, আমাদের দেশের জনগণের প্রতি, প্রবাসীদের প্রতি এবং বিশ্ব নেতাদের প্রতি। সেই সাথে আমি ধন্যবাদ জানাই, আমাদের সংগঠন। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ আমাদের সকল সংগঠন, সহযোগী সংগঠন। তারা প্রতিবাদ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ২৫ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে সেটা তত্ত্বাবধায়কের প্রধান উপদেষ্টার কাছে দিয়েছিলেন এবং এতে আমি জোর পেয়েছিলাম মনে এবং আন্তর্জাতিক চাপে আমাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। যদিও আমার বিরুদ্ধে বিএনপির আমলে ১২টা মামলা দেয়া হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আরও পাঁচটা মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। প্রতিটি মামলায় আমি বলেছি যে তদন্ত করে দেখতে হবে যে আমার দুর্নীতি আছে কিনা। ঠিক সেভাবে করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে আমি সবকিছু থেকে খালাস পেয়েছি। জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা যে তাদের সমর্থনে আমি মুক্তি পেয়েছিলাম।

তিনি বলেন, দেশের জন্য, জাতির জন্য কাজ করা এটা আমার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে শিখেছি। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলো। সৎ পথে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করো। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ