বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

সাহেদের গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা থেকে ভোরে রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার মো. সাহেদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ‘কোমেডি’ না ‘ট্যাজেডি’  তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনের কার্যালয়ে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এই প্রশ্ন তুলেন।
তিনি বলেন, আপনি পিলকে খুঁজে পান, আপনি তাকে টিটো হায়দারকে(ছাত্রদল) খুঁজে পান, আপনি ছাত্র দলের আকরামুল হাসানকে(ছাত্রদল) বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান। সাহেদকে কী খুঁজে পাননি এতোদিন ধরে। তাকে নাকি পালানোর সময়ে নৌকার মধ্যে সাতক্ষীরার কোনো অঞ্চল থেকে ধরেছে। এই নাটক -কোমেডি না এটা ট্র্যাজেডির নাটক আমরা জানি না। নাটক রচনা করতে পারে আওয়ামী লীগের প্রশাসন। এটা নিঃসন্দেহে।
তিনি বলেন, এই সরকার মানুষকে মনে  করে বোকা। আমরা যা বলব সেটি তারা মানবে না। মিডিয়াকে তারা নিয়ন্ত্রণ করে বলানোর চেষ্টা করে।অতএব যা বলানোর তাই বলানোর তারা চেষ্টা করে। জনগণকে অবিশ্বাস করে বলেই, জনগণকে অবজ্ঞা করে বলেই তারা(সরকার) রাতের অন্ধকারে নির্বাচন করে, তারা ভোটার ছাড়া নির্বাচন করে। কারণ তারা জনগণ যে একটা শক্তি সেটাকে পাত্তাই দেয় না।
বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্তবর্তী কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর থেকে মো. সাহেদকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলীসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন।
রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার মো. সাহেদ প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, তার মা আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সাহেদ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য, সে আওয়ামী লীগের নামে  টেকশোতে অংশ নেন। এতো লুটপাট করে, বাটপারি করে টাকা ইনকাম করে সে হয়ে গেলো হাওয়া ভবনের লোক! সুধা ভবনের লোক হওয়া খেলে পরে হাওয়া ভবনের লোক হয়ে যায়। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের দিন। যত বাটপার, যত ঠক, যত ক্যাসিনো-দুর্নীতিবাজ সব বেরিয়েছে সুধা ভবন থেকে। যখন এটা প্রচার-প্রকাশ হয়ে গেছে তখন- না না এরা বিএনপি করতো, জামায়াত করতো না হলে হাওয়া ভবনের লোক। এসব কথা বলে তারা(সরকার) বিভ্রান্ত তৈরির চেষ্টা করে। জনগণ বিভ্রান্ত হয় না।
একাদশ নির্বাচনের আগে মো. সাহেদের একটি টকশো‘র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,  তার(মো. সাহেদ) একটা নির্বাচনের আগের টকশো ভিডিওতে দেখলাম। সে বলছে, সেনাবাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে সিপাহী সবাই এই সরকারকে চায়, পুলিশের আইজি থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সবাই এই সরকারকে চায়। কার বক্তব্য- সাহেদের বক্তব্য। বিরাট রাজনৈতিক বিশ্লেষক তিনি নির্বাচনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন কেনো আওয়ামী লীগ জিতবে। কী অদ্ভুত ব্যাখ্যা- সচিব থেকে চৌকিদার পর্যন্ত সবাই তো সরকারকে চায় তাহলে এখানে অন্যরা আসবে কি করে। যেমন সাহেদ তেমনি তার সরকার, তেমনি তার কথাবার্তা। মানে গবু চন্দ্র রাজার দেশে চারিদিকে হবু চন্দ্র মন্ত্রী থাকলে এই সমস্ত উদ্ভট, বাটপার এরা সমাজে খ্যাতিমান মানুষ হিসেবে পরিচিত হন, তারা টকসোতে আমন্ত্রণ পান।
‘আরেকটা নাটকের আশঙ্কা’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এখন আরেকটা নাটক করছে। বিএনপির শরিয়তপুরে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুউদ্দিন অপুকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। কেনো জানেন? আওয়ামী লীগের যেটা বৈশিষ্ট্য। তাকে টর্চার করে পুলিশের শেখানো বুলি তার মুখ দিয়ে বের করবে। এই যে আপনার জেকেজি, রিজেন্ট হাসপাতালের ভুয়া সনদ এবং এখানকার যে টকবাজী, বাটপারী সারা দেশ ও বিশ্বে যে ভাবে উন্মোচিত হয়েছে। এখন এটাকে আড়াল করার জন্য আরেকটা নাটক তৈরি করবে নুরউদ্দিন অপুকে দিয়ে, তাকে দিয়ে টর্চার করে নানাভাবে তার মুখ দিয়ে বলানোর চেষ্টা করবে যে এগুলোর সাথে আর কারো নাম দেয়ার চেষ্টা করবে। এই আরেকটা ষড়যন্ত্র চলছে।অর্থাৎ এতোদিন অত্যাচার, তার ওপর আক্রমন করলো আওয়ামী লীগ, নির্বাচনের মুহুর্তে তাকে ঢাকাতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হলো। তার ওপর কত রিমান্ড গেছে। এই মুহুর্তে আবার অপুকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাহলে নাটকটা এবার পরিষ্কার বুঝতে পারছেন। নাটকটাকে একেবারে ক্লাইমেক্সে নিয়ে যাওয়ার জন্যে আজকে এই ঘটনা করা হচ্ছে যে, বিএনপি নেতা অপুকে নতুন করে রিমান্ডে নিয়ে তার মুখ দিয়ে কিছু বলানোর জন্য। যাতে আজকে সাহেদ কান্ড, জেকেজি কান্ড এগুলো যেন আড়াল হয়ে যায় সেই চেষ্টাই তারা(সরকার) করছে।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।
নয়া পল্টনে হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(এইচ ড্যাব) এর উদ্যোগে করোনাভাইরাস সংক্রামণ প্রতিষেধক ঔষধ বিতরণ উপলক্ষে মেডিকেল ক্যাম্পের এই অনুষ্ঠান হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে হোমিও প্যাথিক ঔষধ বিতরণ করা হয় বিনামূল্যে।
সংগঠনের সভাপতি হোমিওপ্যাথিক চিকিতসক অহিদুল ইসলাম চৌধুরী স্বপনের সভাপতিত্বে মহাসচিব শাহজালাল আহমেদের পরিচালানায় অনুষ্ঠানে সিনিয়র সভাপতি সামছুজ্জোহা আলম, সহসভাপতি আজিজুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দল মহানগরের দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, শ্যামপুর থানা মহিলা দলের সভানেত্রী নাসিমা তালুকদার, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের কামাল ফয়েজী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ