বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভ্যাকসিন পরীক্ষার শেষ ধাপে আশা জাগাচ্ছে মডার্না

স্টাফ রিপোর্টার : যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। লাখো মানুষ আবার ঘরবন্দী। গত মঙ্গলবার নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে দেশটির বিভিন্ন স্থানে। তবে তাদের মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মডার্না। শিগগিরই কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের মানব পরীক্ষা চালাবে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মডার্নার গবেষণার ফল নিয়ে সম্প্রতি ‘দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’ সাময়িকীতে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকার বিভিন্ন দেশ ও শহরে নতুন করে লকডাউন দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতেও এখন করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। দেশটিতে অর্থনীতির ওপর করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশটিতে ২৪ হাজার মানুষ মারা গেছে। দেশটির বেঙ্গালুরু এখন বৈশ্বিক সংক্রমণ ছড়ানোর কেন্দ্র বা হটস্পট হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাকসিন তৈরিতে সম্ভাব্য অগ্রগতির ঘোষণা এসেছে মডার্নার প্রথম ধাপের পরীক্ষার ইতিবাচক ফল দেখে। মডার্নার প্রথম ধাপের পরীক্ষায় ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবীর সবার শরীরেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দেখা গেছে।
‘নিউইয়র্ক টাইমস’–এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি ভ্যাকসিনটি প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার মডার্না জানিয়েছে, ২৭ জুলাই থেকে ৩০ হাজার মানুষকে নিয়ে ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যে এ পরীক্ষা শেষ হবে। ভ্যাকসিনটি নিরাপদ ও কার্যকর কি না, তখন নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
করোনারোধে ও নতুন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে ভ্যাকসিনটিকে একমাত্র ভরসা মানছেন বিশেষজ্ঞরা। বেশ কয়েকটি সংস্থা ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। গবেষকেরা বলছেন, একাধিক ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হবে। কারণ, কোনো একটি ভ্যাকসিন কোম্পানি কোটি কোটি ডোজ তৈরি করতে পারবে না।
নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অ্যাঞ্জেলা রামুসেন বলেছেন, ‘সবাই সুরক্ষিত না হলে আমরা কেউ সুরক্ষিত নই। শুধু আমরা নই, সবাইকে নিয়েই পৃথিবী।’
মডার্নার ভ্যাকসিন মূলত ম্যাসেঞ্জার আরএনএ (এমআরএনএ) ভিত্তিক, যা ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান বহন করে এবং শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়।
এর আগে ১৮ মে প্রথম ইতিবাচক ফল প্রকাশ করে মডার্না। কিন্তু ওই সময় বিস্তারিত তথ্য জানায়নি তারা। এ জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাদের। তবে বিস্তারিত ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, করোনাভাইরাস থেকে সেরা ওঠা ব্যক্তিদের মতোই ভ্যাকসিন পাওয়া ব্যক্তির শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া টি-সেল সৃষ্ট বিশেষ প্রতিক্রিয়ার মতো প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ