বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা ভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জেকেজি হেলথকেয়ারের জালিয়াতির মামলার তদন্তভার পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ মামলায় গ্রেফতার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক সাবরিনা শারমিন হুসাইন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
তেজগাঁও থানার ওসি সালাহ উদ্দীন মিয়া জানান, ‘সোমবার রাতে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ তেজগাঁও বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামী সাবরিনাকেও গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। তারাই এখন মামলাটি তদন্ত করছে।’
করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছিল ওভাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার- সংক্ষেপে জেকেজি। কিন্তু জুনের শেষ দিকে অভিযোগ আসে, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল জেকেজি। নমুনা পরীক্ষা না করে রোগীদের ভুয়া সনদও তারা দিচ্ছিল।
এ বিষয়ে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি বাড়ির কেয়ারটেকারের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ২২ জুন জেকেজি হেলথ কেয়ারের সাবেক গ্রাফিক ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ওভাল গ্রুপ ও জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীকেও গ্রেফতার করা হয়। জেকেজি হেলথ কেয়ারের নমুনা সংগ্রহের যে অনুমোদন ছিল, তাও ২৪ জুন বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আরিফুল হক চৌধুরী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসা ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইনের স্বামী। সে কারণে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী নামেই তিনি পরিচিত।
জেকেজি নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে ডা. সাবরিনার কথাই বলা হত। তবে দুর্নীতির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি দাবি করেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত দুই মাস ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত রোববার দুপুরে সাবরিনাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জালিয়াতির ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার তেজগাঁও থানার ওই মামলায় পুলিশ সাবরিনাকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রুবাইয়াত জামান জানান, জেকেজির বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতারণার মামলা এবং থানায় হামলা, ভাংচুর পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে। ওই মামলায় গত ২৩ জুন অরিফুলকে গ্রেফতার করার পর জেকেজি কর্মীরা তেজগাঁও থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ বাদী আরকেটি মামলা করে এবং তাতে জেকেজির ১৮ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। আরিফের গ্রেফতারের খবর পেয়ে দুইজন ব্যবসায়ী একই থানায় আরও দুটো মামলা করেন। এর একটিতে ১২টি ল্যাপটপ ভাড়া নেওয়ার নামে আত্মসাৎ করা এবং অন্যটিতে দুটি আর্চওয়ে এবং ২০টি ওয়াকিটকি কিনে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ