শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বন্যার আরো অবনতি পানিবন্দীদের চরম দুর্গতি

কুড়িগ্রামে বন্যা

মোহাম্মদ নুরুজ্জমান, রংপুর অফিস: তিস্তাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়ে তিস্তা নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ ডানতীর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী পানির ঢল এবং গত  কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে তিস্তা সহ রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তি এলাকা সমূহের জনবসতি এবং সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে উঠতি এবং মাঠের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। সৃষ্ট বন্যায় হাজার হাজারপরিবারের কয়েকলাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েেেছ। পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তার ডানতীর বন্যানিয়ন্ত্রণ ডানতীর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধের উভয় পাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের ফোটামারী টি-হেড গ্রোয়েন থেকে আলসিয়াপাড়া স্পার পর্যন্ত তিস্তার বন্যানিয়ন্ত্রণ ডানতীর রক্ষা বাঁধ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় গঙ্গাচড়া উপজেলার বৈরাতি এলাকায় বন্যানিয়ন্ত্রণ রক্ষা বাঁধের ২০ মিটার অংশ প্রবল পানির তোড়ে ভেসে দেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আলমবিদিতর ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ২ বছর পুর্বে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যায়ে এই বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। এদিকে নোহালী ইউনিয়নের কচুয়া থেকে গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক পর্যন্ত র্দীঘ এলাকায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে। ঘাটুপাড়া এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার অংশ ইতোমধ্যে ভাঙনের শিকার হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে তিস্তার বন্যানিয়ন্ত্রণ ডানতীর রক্ষা বাঁধ বিপন্ন হতে পাড়ে। অবস্থার অবনতি হলে তিস্তার পানি ঘাঘট নদীর সাথে তিস্তার সংযোগ হয়ে নগরীর শ্যামা সুন্দরী ক্যনেল হয়ে রংপুর মহানগরীসহ জেলার উত্তর অংশে ব্যাপক বন্যা দেখা দিতে পারে। নোহালী ইউনিয়নের ফোটামারী এলাকার জনগন অভিযোগ করেন, প্রায় ৪ মাস পুর্বে তিস্তার বন্যানিয়ন্ত্রণ ডানতীর রক্ষা বাঁধের ২’শ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। সময় মত এর সংস্কার না করায় র্দুভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, তিস্তার বন্যানিয়ন্ত্রণ ডানতীর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। ভাঙন কবলিত অংশ গুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করা হচ্ছে। পাউবো কর্মকর্তারা র্সাবক্ষনিক ভাবে পরিস্থিতি নজরদারী করছে।
গাইবান্ধায় ৫০ হাজার মানুষ আবার পানিবন্দী
গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী: গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়াসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত আছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘট নদীর পানি ১২ ঘণ্টায় ১৯ সেন্টিমিটার বেড়ে গাইবান্ধা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ছুঁই ছুঁই করছে। আর করতোয়া, কাটাখালি, বাঙ্গালী ও যমুনা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। সেই সঙ্গে ঘাঘট, কাটাখালি, বাঙালী ও করোতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি দ্বিতীয় দফায় আবার অবনতি হয়েছে। সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বসতবাড়ি আবারও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে এবং ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ছেড়ে গবাদি পশু নিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। আকস্মিক বন্যার তীব্র স্রোতে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধসহ ফুলছড়ি ও সাঘাটা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রমের ফলে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নিম্নাঞ্চল ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, খাটিয়ামারী, ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা ও যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দী, নলছিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
 বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার সদরে ৫টি গ্রাম, সুন্দরগঞ্জে ১৫টি, ফুলছড়িতে ১৫টি ও সাঘাটাতে ১৫টি গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যার ধকল কাটাতে না কাটাতে এই চার উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ফের পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ বন্যার অতঙ্কে রয়েছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর ঘেঁষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, খাটিয়ামারী ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। এ উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
 সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি দেখা দিয়েছে। গত ৪ দিন থেকে একটানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানির ঢলে উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর পানিতে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাড়ি-ঘরের ভিতর পানি থাকায় রান্নার অভাবে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন তারা। সরকারি ভাবে পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পরিবার পরিজন, গবাদি পশু-পাখি নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেরি বাঁধ ও উঁচু স্থানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জ্বালানি না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৩০ পরিবারের ৩৫ হাজার ৭২০ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এরমধ্যে তারাপুর ইউনিয়নে ৫০০, বেলকায় এক হাজার ৮০০,হরিপুরে ৩ হাজার ৮০, কঞ্চিবাড়ীতে ২৫০, শ্রীপুরে ৩০০, চন্ডিপুরে ২৫০ ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে ৩ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। তবে সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত পানিবন্দীর সংখ্যা আরো অনেক বেশী হবে বলে স্থানীয়রা জানান। দিন দিন পানি বন্দীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান সদ্য করোনামুক্ত হওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আতিকুর রহমান জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি মেরামতে সঠিকভাবে কাজ করা হলে বড় ধরনের বন্যাতেও ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো না। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুকনো মৌসুমে ঢিলেঢালা কাজ করে আর বন্যা এলে দ্রুত কাজ শেষ করে। ফলে বাঁধগুলো পানির চাপে ভেঙে যায়। পানি বৃদ্ধির ফলে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাঁশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দী, নলছিয়াসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভূমি অফিসার শাকিল আহম্মেদ জানান, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং ডাকা হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যার কবলিত মানুষদের জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্যোগ মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন বলেন, বন্যার স্থায়ীত্ব ও ভয়াবহতা উপলব্ধি করে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি রক্ষায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, তি¯তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী মজুত আছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।সার্বিক বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন জানান, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভার মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষ যেকোনো প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের (০১৭৪৬৪৯৯৩৪২/০৫৪১৫১৩৮) নম্বরে যোগাযোগ করলে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিস্তার অববাহিকার মানুষজন চরম আতংকে
নীলফামারী কামারুজ্জামান: ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢল হু হু করে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। এতে করে তিস্তা নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ বর্ষা মৌসুমে তিস্তার এটাই সর্বোচ্চ বিপদসীমা বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে রবিবার রাতে তিস্তায় লাল সংকেত জারি করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টার পর থেকে পানি কমতে থাকায় রেড অ্যালার্ট প্রত্যাহার করে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিকেল তিনটায় পর থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট  খুলে রাখা হয়েছে। নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সর্তকীকরণ কেন্দ্র  জানায়, ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভারত গজলডোবা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেয়ায় সেই পানি হু হু করে ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের তিস্তা নদীতে। এতে করে তিস্তা নদী ফুলে ফেঁপে অশান্ত হয়ে উঠছে। বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষ। ২টি উপজেলার ব্যাপক আমনের বীজতলা ও রোপিত আমন চারা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে অসংখ্যক পুকুরের মাছ। এদিকে প্রতিনিয়ত তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়  চরম আতংক আর উৎকন্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছে দু’টি উপজেলার মানুষজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায়  রাতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তিনি জানান রবিবার রাতে  মাইকিং করে তিস্তা নদীর উজান ও ভাটি এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে  নেয়া হয়। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় জানান  পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা মনিটরিং টিম গঠন করেছি। বন্যা কবলিত মানুষজনের মাঝে শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম : ধেয়ে আসছে বড় বন্যা
মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম : ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেয়ায় এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে কুড়িগ্রামের ওপরদিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রক্ষপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমোরসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রথম দফা বন্যার রেশ কাটতে না কাটতে দ্বিতীয় দফা বন্যায় চরম বেকায়দায় পড়েছে পানিবিন্দী মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্যসহ সবধরণের সংকট। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যে  ভারতের আসাম ও মেঘালয়সহ উজানে ভারী বৃষ্টিপাত’র প্রভাবে চলতি সপ্তাহ শেষে আরও বড় বন্যার শঙ্কা রয়েছে। এ বন্যা এক মাসেরও বেশি সময় অবস্থান করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ভয়ংকর রূপ ধারণ করায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে ভাটি এলাকার তিস্তায়, পানি বৃদ্ধির কারণে ব্রক্ষপুত্র, ধরলা দুধকুমরসহ রংপুর অঞ্চলের ৩৪টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, প্লাবিত হতে পারে দেশের ৪০ শতাংশ জেলার নিম্নাঞ্চল।
রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৭০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। দুইদিনে প্রায় দুই’শ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। এদিকে, অবিরাম বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলে আবারো জেলার প্রায় সাড়ে ৪শতাধিক চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হচ্ছে। কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ২য় দফা বন্যা এখন বানভাসীদের দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে চরমে। দ্বিতীয় দফা বন্যা সৃষ্টির ফলে কুড়িগ্রামের নদনদী তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ মারাত্মক সংকটে পড়েছেন।
দ্বিতীয় দফা বন্যা মোকাবেলায় জেলায় সার্বিক প্রস্ততি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং কুড়িগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব  জিয়াউল হাসান। এসময় জেলার বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান, সিভিল সার্জন ডা: হাবিবুর রহমান, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আবু মো: জাকির উল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুণর্বাসন কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা প্রমুখ। অপরদিকে কুড়িগ্রামে বানভাসিদের দুর্ভোগ চরমে। প্রথম দফা বন্যায় আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উঁচু বাঁধে থাকা মানুষগুলো আবারো বড় বন্যার আশঙ্কায় বাঁধেই থেকে যাচ্ছেন। আবার অনেকের ঘরবাড়ি পানির নিচে থাকায় যেতে পারেননি আপন গৃহে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা পানিবাহিত রোগ। স্বাস্থ্যবিভাগ কাজ করার কথা বললেও অনেক পরিবার খাবার স্যালাইন ও ওষুধ সংকটে রয়েছে। অন্যদিকে বন্যাদুর্গতরা সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়াও বিভিন্ন উঁচু স্থান, সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিয়ে অস্বাস্থকর পরিবেশে আছেন।এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম খাদ্য সংকটে রয়েছেন। নদ-নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রতিদিন বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। এতে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার। ভিন্নদিকে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছেন বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে।তবে প্রয়োজনের তুলুনায় তা একেবারেই অপ্রতুল মন্তব্য করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বন্যাদুর্গতরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকাল ৯টার তথ্য মোতাবেক জানা যায়, ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার, ব্রক্ষপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিসমটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসিমার ৫৪ সেন্টিমিটার এবং তিস্ত পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে
আব্দুস ছামাদ খান, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  ‘যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতে পানি বেড়ে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে জেলার পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ। বন্যায় ভোগান্তিতে পড়েছে বানভাসী মানুষ, বিশেষ করে গবাদিপশু ও ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে বিপাকে পড়েছে তারা। বাঁধের ওপর অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তুলে খোলা আকাশের নিচে চলছে রান্নার কাজ। বাঁধ ভেঙে শহরে যাতে পানি প্রবেশ করতে না পারে, এ জন্য বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বালুর বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ নদনদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বন্যার পানিতে জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা নদীর পানি কাজীপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, ‘ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার কাজীপুর, বেলকুচি, সদর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার ৩৩ ইউনিয়নের ২১৬টি গ্রামের দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের জন্য ২১৫ টন চাল এরই মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য ও গবাদি পশুর খাদ্যও বরাদ্দ দেওয়া হবে।
লালমনিরহাটে তিস্তা ধরলায় বিপদসীমার উপর পানি বন্দী প্রায় ৩০ হাজার পরিবার
মোঃ লাভলু শেখ লালমনিরহাট: লালমনিরহাট জেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা ও ধরলাসহ প্রায় সকল নদ-নদীর পানি হু-হু করে বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এদিকে লালমনিরহাট জেলার নদ-নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তিস্তার নদীর পর এবার ধরলা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাটের শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়ছে লালমনিরহাট শহর ও শহরতলীর লোকজন। ধরলা নদীর এমন অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। সোমবার দুপুর দেড়টায়  পাউবো জানান, সকাল  থেকে তিস্তার পানি ৬০ সেন্টিমিটার বীপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে ভারতের গজালডোবা ব্যারেজ থেকে ধেয়ে আসা পানি নিয়ন্ত্রণ করতে লালমনিরহাটের  হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে ব্যারেজের ভাটিতে থাকা  লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ২৮হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বানভাসী এসব মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। গত ৪দিনে এসব এলাকায় সরকারি পর্যায়ে তেমন কোন সাহায্য-সহযোগিতার তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ বানভাসী মানুষজনের। এসব মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা এান শাখা সোমবার জানান,  জেলায় পানি বন্দীদের জন্য ২৪৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার ৭ শত টাকা দেয়া হয়েছে।
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, বেড়েছে দুর্ভোগ
সিলেট ব্যুরো: সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি বাড়ছেই। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সকল নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এরমধ্যে সুরমা নদীর পানি সোমবার বিকেল ৩ টায় কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট এসব তথ্য জানিয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট বন্যায় সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের সদর উপজেলা, সীমান্তবর্তী গোয়াইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। এছাড়াও সুরমা পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। জানা যায়, কয়েকদিনের ব্যাবধানে দ্বিতীয় দফায় সৃষ্ট এ বন্যায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্লাবিত এসব এলাকায় বাঁধ ও পাকা রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেওয়া লোকজন বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও শৌচাগারের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যা কবলিত এলাকার বাঁধ, পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় মানুষ চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সিলেট জেলার মধ্যে ৫টি উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৩৭টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। এসব বন্যা কবলিত অঞ্চলে ২১৫ মেট্রিক টন চাল, ৫ লাখ টাকা নগদ এবং প্রায় ৯শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘কানাইঘাট ও ভারতের মেঘালয়ে প্রবল বর্ষণের কারণে সুরমা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অবশ্য আগামী চার-পাঁচ দিন পানি কমতে শুরু করবে। কিন্তু ১৯, ২০, ২১ ও ২২ জুলাই সিলেটে ভারী বর্ষণে আবারও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।’ আর সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় খাদ্য, নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা কবলিত এলাকায় বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ