মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জেকেজির ডা. সাবরিনা ৩ দিনের রিমান্ডে

নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অনুমতি বাতিল হওয়া জেকেজি হেলথকেয়ারের ‘চেয়ারম্যান’ ডা. সাবরিনাকে গতকাল সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট ডেলিভারি দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফকে ৩ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে চারদিনের রিমান্ডে চেয়েছিল পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তেজগাঁও থানা পুলিশ এদিন সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে। অন্যদিকে পুলিশের রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে সাবরিনার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন ওবায়দুল হক, সাইফুল ইসলাম সুমনসহ কয়েকজন আইনজীবী। শুনানি চলাকালে বিচারকের উদ্দেশ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডা. সাবরিনা বলেন, ‘জেকেজির চেয়ারম্যান আমাকে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি জেকেজির চেয়ারম্যান না।’ এর আগে রোববার দুপুরে আলোচিত চিকিৎসক সাবরিনাকে তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গতকাল রিমান্ড ও জামিন আবেদনের ওপর শুনানিতে আইনজীবী সুমন আদালতকে বলেন, ডা. সাবরিনা ‘সরল ও সৎ বিশ্বাসে’ তার স্বামীর প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তিনি জেকেজির অপকর্মের কথা ‘আগে জানতে পারেননি’। জানলে সম্পর্কচ্ছেদ করতেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কমকর্তা এস আই ফরিদ মিয়া বলেন, সাবরিনা তার স্বামীর সহযোগী হয়ে কাজ করেছেন। রোগীদের ভুয়া কোভিড-১৯ সনদপত্র (সার্টিফিকেট) সরবরাহ করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবরিনা বিচারকের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে এই চিকিৎসককে তিন দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসা ডা. সাবরিনা জেকেজি হেলথকেয়ার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী। সে কারণে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী নামেই তিনি পরিচিত। করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে এক ভুক্তভোগীর করা এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে সাবরিনার স্বামী আরিফুল বর্তমানে কারাগারে আছেন।
‘আমি জেকেজির চেয়ারম্যান না’ শুনানি চলাকালে বিচারকের উদ্দেশ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডা. সাবরিনা বলেন, ‘জেকেজির চেয়ারম্যান আমাকে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি জেকেজির চেয়ারম্যান না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি নির্দোষ। আমি চেয়ারম্যান হতে যাবো কেন? এটা তো একটা ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান। ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমি নির্দোষ।’
যেভাবে এলো ডা. সাবরিনার নাম : রোববার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ২২ জুন জেকেজির সাবেক গ্রাফিক্স ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে আটক করে পুলিশ। হিরু আমাদের জানায়, সে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেটের ডিজাইন তৈরি করতো। এই ভয়ানক তথ্য জানার পর আমরা তাকে জিজ্ঞেস করি এর সাথে কারা জড়িত। সে স্বীকার করেছে, কোর্টেও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে যে, ভুয়া রিপোর্টের সাথে জেকেজি গ্রুপের লোকজন জড়িত। ডিসি হারুন বলেন, তখন জেকেজির সিইও আরিফুলসহ চারজনকে আটক করি। গ্রেফতার সিইওকে আমরা জিজ্ঞেস করি, ‘এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী।’ এরপর একে একে ছয়জনই এক উত্তর দিলেন।
প্রতারণা ও জালিয়াতি
ডা. সাবরিনার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক
জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) কমিশন থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।
প্রনব জানান, সরকারি চাকরিতে (জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট-এ কর্মরত) বহাল থেকে তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর সহায়তায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করে ১৫,৪৬০টি ভুয়া মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রস্তুত ও সরবরাহ করে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
এর আগে কমিশনের সংশ্লিষ্ট অণুবিভাগগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি, গণমাধ্যম, ভার্চুয়াল মাধ্যমসহ বিভিন্ন উৎস হতে ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংগ্রহ করে। এসব তথ্য-উপাত্ত সংবলিত অভিযোগ কমিশনের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল কমিশনে উপস্থাপন করলে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশনের বিশেষ তদন্ত অণুবিভাগের মাধ্যমে এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ