শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

৭ মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতি বছর ৭ মার্চ তারিখকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জারিকৃত এই বিষয়ক পরিপত্রের ‘ক’ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে যোগ দেন এবং অন্যান্য মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রস্তাবটি এসেছে। হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে যে দু’টি সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর একটি হল, ৭ মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা এবং দ্বিতীয়টি, প্রত্যেক উপজেলাতে যেন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘বর্ণিত রিটের রুলে প্রদত্ত নির্দেশনাসমূহ জন-আকাঙ্খার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বিধায় ৭ মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণার বিষয়ে মতামত চেয়ে সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রেরিত প্রত্রের অনাপত্তি পাওয়া গিয়েছে।’
সচিব বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এদেশের স্বাধীনতার মূল প্রেরণা। বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে এর স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো ভাষণটিকে ইতোমধ্যেই ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।’
খন্দকার আনোয়ার এ বিষয়ে আরো বলেন, ‘অর্থ বিভাগ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় পর্যায়ের দিবস পালনের তালিকায় ৭ মার্চকে ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয়ভাবে উদযাপনের সম্মতি প্রদান করেছে।’
এর ফলে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন/পালন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত পরিপ্রত্রের ‘ক’ ক্রমিকে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস/আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর পরে ৭ মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদিত হলো

শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইনে’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন
সংগ্রাম ডেস্ক : সকল বিভাগীয় শহরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সরকারি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, খুলনা ২০২০’এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
চিকিৎসা ক্ষেত্রের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা, গবেষণা, সেবার মানোন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণই এই আইন প্রণয়নের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যোগ দেন। পরে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘এই আইনের মাধ্যমে চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, সেবার মান ও সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন ঘটবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘চিকিৎসা শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ ও গবেষক তৈরী করার লক্ষ্যে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় মেডিকেল কলেজ সমূহের শিক্ষার মান সংরক্ষণ ও উন্নয়নই প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মুখ্য উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে খুলনা বিভাগে উন্নত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রণীত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই আইনটি প্রণীত হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনে মোট ৫৫টি ধারা রয়েছে এবং আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধিমালা, প্রবিধিমালা ও সংবিধি প্রণয়নের বিধান রাখা হয়েছে।
খন্দকার আনোয়ার বলেন, খুলনা বিভাগের আওতাধীন সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট এবং চিকিৎসা শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রস্তাবিত বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভূক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ধারাগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ভূমিকা, উপাচার্য, উপউপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও অন্যান্য কর্মচারিদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, ক্ষমতা ও দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অনুষদ, বিভাগ, প্রয়োজনীয় কমিটি এবং শৃঙ্খলা বোর্ড গঠন ও তাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ২০ ধারায় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি এবং স্পিকার মনোনীত প্রতিনিধিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন অংশীজন ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিন্ডিকেট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদেরকেও সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
সচিব এ বিষয়ে আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনটির এদিন নীতিগত অনুমোদিত হওয়ায় এটি এখন ড্রাফটিংএ যাবে এবং সেখানে পরীক্ষা-নীরিক্ষার পরে আবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হবে।’
এদিন বাংলাদেশ এবং পালাউ-এর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পালাউ প্রশান্ত মহাসাগীর ৪৬৬টি বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। যার জনসংখ্যা ২২ থেকে ২৪ হাজার। সেখানে ২ হাজার বাংলাদেশী ও কর্মরত রয়েছে। বাংলাদেশীরা সেখানে সুপারি (পান-সুপারি) সংরক্ষণ এবং সার্ফিং পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতসহ বিশ্বের ৮০টি দেশের সঙ্গে দেশটির কূটনেতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং বাংলাদেশ ও পালাউ উভয়েই জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য। ভিয়েনা কনভেনশন ১৯৬১ অনুসারে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশ এবং পালাউ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’
এই চুক্তিটি অনুসমর্থন হলে সেখানকার বাংলাদেশীদের স্বার্থ সংরক্ষণ সহজ হবে এবং এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে, বলেন সচিব।
এছাড়া, এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২০ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ) প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভার ১০টি বৈঠকে গৃহীত ৭১টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৪৬টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২৫টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৬৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ