সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সাহেদ; গ্রেফতার যেকোনো সময়

স্টাফ রিপোর্টার: সাত দিন আগে রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাব অভিযান চালালেও এখনো গ্রেফতার হয়নি আলোচিত মোহাম্মদ সাহেদ করিম। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ আট জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। অথচ এখনো অধরা মূল আসামি রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ। তবে র‌্যাব-পুলিশ বলছে, সাহেদ গোয়েন্দা নেটওয়ার্কেই আছে। পালানোর সুযোগ নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক- গ্রেফতার হতেই হবে। যে কোনো সময় খবর জানা যাবে। পুলিশ বলছে, বিদেশে পালানো ঠেকাতে ইমিগ্রেশনে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যহত আছে।
এরআগে র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেছেন, বর্তমানে সাহেদ তাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মধ্যে আছে। যেকোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি তার অপকর্মে মদদদাতাদেরও বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়া হবে না।
এদিকে শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারী দল। সেখান থেকে সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে হাসপাতাল ও প্রধান কার্যালয় থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক থাকা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করে ফেলে রিজেন্ট কর্তৃপক্ষ। তারা হার্ডডিস্ক নষ্ট করে ফেলেছে। মূলত সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টাই চালিয়েছে পুলিশ। এসময় রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি’র কক্ষ থেকে একটি কম্পিউটার, মোহাম্মদ সাহেদের পাসপোর্ট ও প্রধান কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকটি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, তল্লাশির সময় তাদের আরও ২০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
আত্মসমর্পণ করতে হবে, অন্যথায় গ্রেফতার- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী:  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, অন্যথায় গ্রেফতার করা হবে। তার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেই। গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
‘সাহেদ এখন কোথায় আছেন’ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম কথা সাহেদ কোথায় সেটা সাহেদ জানে। আমাদের পুলিশ এবং র‌্যাব সে (সাহেদ) কী ধরনের অন্যায় করেছে সেগুলো ইনকোয়ারি করছে। তদন্ত রিপোর্ট আসলে আমি আপনাদের জানাতে পারব তার অন্যায়ের গভীরতাটা কতটুকু।’ তিনি বলেন, সে যে অন্যায় করেছে তার জন্য ইতোমধ্যে র‌্যাব ব্যবস্থা নিয়েছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে। সে যেখানেই থাকুক তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, না হয় পুলিশ তাকে ধরে ফেলবে। ‘সে বিভিন্ন পত্রিকা বের করার অনুমতি নিলে সেক্ষেত্রে সিটিএসবি (নগর পুলিশের বিশেষ শাখা) রিপোর্ট দেয়। সেক্ষেত্রে একটা দুর্বলতা ছিল কি-না। তাছাড়া অভিযোগ রয়েছে, উত্তরা থানা সবসময় তাকে শেল্টার দিয়ে আসছিল। এগুলো আপনারা আমলে নিচ্ছেন কি-না’- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের এ উদ্ঘাটনের পর কেউ তাকে শেল্টার দেয়নি। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাকে ধরেছে। সে কী করেছে সেগুলো র‌্যাব ও পুলিশ তদন্ত করছে। তাকে অবশ্যই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’  সে কি দেশে আছে নাকি বাইরে চেলে গেছে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বাইরে যাওয়ার তো কোনো উপায় নেই। তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে, বর্ডার যাতে ক্রস করতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা খুঁজছি। আশা করি, শিগগিরই তাকে ধরতে সক্ষম হবো।’
গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা চলবে- আইজিপি : পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, তাকে (সাহেদ) গ্রেফতার না করা পর্যন্ত সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। গতকাল রোববার রাজধানীতে সাহেদকে দ্রুত গ্রেফতারের বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, চিকিৎসায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়, প্রতারণা ও সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান কার্যালয় উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানে নানা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে আটজনকে আটক করে র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়। এ ঘটনায় ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা থেকে আটক আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ৯ জনকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য, সাহেদের বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় ২টি, বরিশালে ১টি, উত্তরা থানায় ৮টি মামলাসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে প্রতারণার মামলায় তাকে একবার গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ