বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৪ পুলিশসহ ১৬ আহত

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৪ পুলিশসহ ১৬ জন আহত হয়েছে।পুলিশ পরিস্থিতি নিয়নএনে আনলেও এ ঘটনায়  চমেক ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
চমেক সূএ বলছে, গতকাল রোববার  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চমেক হাসপাতালে একটি কর্মসূচিতে যান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি হাসপাতাল ত্যাগের পর চমেকে ছাত্রলীগের দু’পক্ষ ক্যাম্পাসে মারামারিতে জড়ায়। তবে উভয়পক্ষ তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলায় এক পক্ষের আহতরা হলেন- খোরশেদ বিন মেহেদী, ইমন সিকদার, অভিজিৎ দাশ, ফাহাদুল ইসলাম, হোজাইফা বিন কবির, কনক দেবনাথ ও সাজেদুল ইসলাম হৃদয়।অপর পক্ষের আহতরা হলেন- সানি হাসনাত প্রান্তিক, ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. মাসুম বিল্লাহ মাহিন, মাহতাব বিন হাসিম ও ডা. নুর মোহাম্মদ তানজিম। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারি থামাতে গিয়ে আহত হয়েছেন চার পুলিশ সদস্য। এদের মধ্যে রয়েছেন- হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জহিরুল হক ভুঁইয়া, পাঁচলাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আবু তালেব ও এসআই আলমগীর।
জানা গেছে,চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ দীর্ঘদিন ধরে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নিয়ন্ত্রণে আছে। তাদের একক আধিপত্যের বিপরীতে সম্প্রতি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী পরিচয়ে ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়েছে।মূলত এই দু’পক্ষের নেতাকর্মীরাই মারামারিতে জড়িয়েছিল।
নওফেলের অনুসারী ছাএলীগের একাংশ বলছে, উপমন্ত্রী নওফেলর গাড়ি হাসপাতাল এলাকা ত্যাগের পরই তাদের ওপর হামলা শুরু হয়। এসময় উপমন্ত্রীর নাম ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে মেয়র নাছিরের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও হকিস্টিক দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে। পুলিশ প্রথমে নির্বিকার থাকলেও পরে উভয়পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। হামলায় তাদের ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
 মেয়র নাছিরের অনুসারী চমেক ছাত্রলীগের  নেতাকর্মীরা বলছে , ‘উপমন্ত্রী   এসেছিলেন। আমরা উনাকে রিসিভ করি। উনার সঙ্গে কিছু বহিরাগত এসেছিলেন। উপমন্ত্রী চলে যাবার পর বহিরাগতরা আমাদের ওপর হামলা করে। ইন্টার্নি চিকিৎসকেরা ছিলেন, তাদেরও মারধর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছে, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। মারামারি থামাতে গিয়ে   চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ