সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৭ জনের জীবন গেল করোনায়

মুগদা হাসপাতালে করোনা টেস্টের জন্য দীর্ঘ লাইন। ছবিটি গতকাল রোববারের -সংগ্রাম

* নতুন আক্রান্ত ২৬৬৬ জন
* মোট আক্রান্ত ১৮৩৭৯৫ জন
* মোট মৃত্যুর ২৩৫২ জন
* মোট সুস্থ ৯৩৬১৪ জন
স্টাফ রিপোর্টার : দেশে মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসে আগের দিনের চেয়ে আক্রান্ত কমলেও বেড়েছে মৃত্যু। তবে সুস্থতায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২ হাজার ৬৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এইসময়ে মধ্যে সারা দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন হয়েছে এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৩৫২ জনে দাঁড়িয়েছে।
 দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ২৪ দশমিক ১১ শতাংশের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পরদিন থেকে এক দিনের হিসাবে এই হার সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯টি। এতে ২ হাজার ৬৬৬ জন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে এই প্রথমবার একদিনে আক্রান্তদের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৫৮০ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৯৩ হাজার ৬১৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫০ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ ও এই সময়ের মধ্যে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।  ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৬ জন এবং নারী ১১ জন। এ পর্যন্ত যারা কোভিড আক্রান্ত মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১ হাজার ৮৬০ জন এবং নারী ৪৯২। মোট মৃত্যুর শতাংশ হিসেবে ৭৯ দশমিক ০৮ পুরুষ এবং ২০ দশমিক ৯২ শতাংশ নারী।
গতকাল রোববার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত বুলেটিনে সংযুক্ত হয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
ডা. সুলতানা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১১ হাজার ২১০টি। পরীক্ষা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৯ লাখ ৪০ হাজার ৫২৪টি নমুনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে ১১ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৬ জন ও ৮১ থেকে ৯০ বয়সীদের মধ্যে ২ জন  রয়েছেন।’
এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিভাজনে শতকরা মৃত্যুর হার শূণ্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে দশমিক ৬০ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছরে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরে ৭ দশমিক ০৬ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছরে ২৯ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ৪৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
ডা. সুলতানা বলেন, ‘যে ৪৭ জন গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন, খুলনা বিভাগে ৬ জন, বরিশাল বিভাগে ২ জন, সিলেট বিভাগে ৪ জন ও রংপুর বিভাগে ২ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৩ জন, বাড়িতে ৪ জন’
এ পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর শতকরা হার- ঢাকা বিভাগে ৫০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ, রংপুর ৩ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৭৩৭ জন, ছাড় পেয়েছেন ৯০৯ জন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে গেছেন ৩৬ হাজার ৫০৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ১৮৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৭ হাজার ৩১৯ জন।
ডা. সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৩১ জন। এ পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৯০০ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৭১ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৬৩ হাজার ৮৩ জন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২ হাজার ৩৫২ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬০ পুরুষ ও ৪৯২ জন নারী মৃত্যুরবণ করেছেন। শতকরা হারে ৭৯ দশমিক ০৮ শতাংশ পুরুষ এবং ২০ দশমিক ৯২ শতাংশ নারী করোনায় মারা গেছেন।
এদিকে, হঠাৎ করে এত রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার তথ্যে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোন হিসাবে একদিনে এত বিপুল সংখ্যক রোগী সুস্থ হলেন, মোট সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের কত শতাংশ বাসায়, কত শতাংশ হাসপাতাল কিংবা আইসোলেশন সেন্টার থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত দেয়া উচিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের।
গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন এক কোটি ২৮ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার প্রায়। তবে প্রায় পৌনে এক কোটি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ