বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

নগদ অর্থসহ পিপিআই প্রকল্পের শত কোটি টাকার সম্পত্তি জবরদখল ঢাকা ওয়াসার!

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: প্রোগ্রাম পর পারফরমেন্স ইমপ্রুভমেন্ট (পিপিআই প্রকল্প), রাজস্ব আদায়ে চুক্তিবদ্ধ ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি পরিচালিত প্রকল্পের নগদ অর্থসহ প্রায় শত কোটি টাকার সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ উঠছে  খোদ অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ওয়াসার বিরুদ্ধে। অভিযোগে প্রকাশ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করার কথা থাকলেও সেটি না বাড়িয়ে হঠাৎ চুক্তি বাতিল করে রাজস্ব আহরণে নিয়োজিত পিপিআই প্রকল্পের নগদ টাকাসহ সব সম্পত্তি নিজেদের দখলে নিয়েছে ওয়াসা। পিপিআইর এসব অর্থ ও সম্পত্তি নিজেদের দখলে নেয়ার ক্ষেত্রে কারো সাথে আলোচনাও করনি ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। এমনকি চুক্তি পুনরায় নবায়ন না করার ঘোষণা দিয়ে প্রকল্পটির বিভিন্ন জোনে থাকা গাড়ী, কম্পিউটার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন দামী জিনিসপত্র লুটপাটও করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চুক্তি মোতাবেক পিপিআইর কমিশনের টাকা, রিজার্ভ ফান্ড এমনকি তাদের চলতি একাউন্টের লেনদেনও বন্ধ করে দেয়া হয়। বিভিন্ন জোনে থাকা পিপিআইর সম্পত্তিগুলোর একটি নামকাওয়াস্ত তালিকা করে গত দেড়বছরেরও বেশী সময় ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির এ্কাধিক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের সরাসরি নির্দেশে পিপিআই’্র নগদ অর্থসহ শতকোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছে। সমিতির কর্মকর্তারা চাকরি হারানো বা হেনস্থার ভয়ে এ নিয়ে কেউই মুখ খুলছেনা। সম্প্রতি এমডির নানা অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী শো-কজ এর শিকার হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জানা গেছে, সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আগামী বুধবার জরুরী মিটিং ডেকেছে ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি। সেখানে সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে। 
সূত্র জানায়, ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব আদায় বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। রাজস্ব আদায় নিয়ে বেসরকারি কোম্পানি এবং ওয়াসার শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় শর্ত হিসাবে দুটি জোন পিপিআই এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়। পিপিআই শর্ত পূরণে সফল হলে পরবর্তীতে তাদেরকে আরও কয়েকটি জোন রাজস্ব আদায়ের জন্য ছেড়ে দেয় ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ওয়াসার বিভিন্ন জোনে পিপিআই সফলতার সাথে বিলিং এবং রাজস্ব আদায় করে যাচ্ছিল। বিনিময়ে পিপিআই ওয়াসার দেয়া টার্গেট পূরণ করার পর বাকি টাকার উপর কমিশন পেত। ওয়াসা পরিচালিত জোন গুলোতে যেখানে সিস্টেম লস প্রায় ৪০ শতাংশ সেখানে পিপিআই পরিচালিত জোনে তা ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ। এ ছাড়া পিপিআই তাদের জোন গুলোতে ওয়াসার দেয়া টার্গেট শতভাগ পূরণ করলেও অন্য জোন গুলো ৭৫ শতাংশও পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াসার সাথে পিপিআইর সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত। চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার পরও আবারো মেয়াদ বাড়ানো হবে এই ভেবে রাজস্ব আদায় করতে থাকে পিপিআই। কিন্তু একই বছরের শেষের দিকে ওয়াসার সিবিএ সভাপতি ও পিপিআই প্রকল্পের চেয়ারম্যান এবং শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি মো: হাফিজ উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লে নতুন চুক্তি করতে গড়িমসি শুরু করে ওয়াসা। এক পর্যায়ে তারা পিপিআইর সাথে নতুন করে চুক্তি করবে না বলে জানিয়ে দেয়। ওয়াসার সিবিএ নেতা হাফিজ উদ্দিন ডিসেম্বরের শুরুর দিকে মারা গেলে সিবিএ’র কার্যক্রম অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এই সুযোগে পিপিআইর সমস্ত কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক বন্ধ করে দেয় ওয়াসা। একই সাথে তাদের কমিশন, রিজার্ভ ফান্ড, চলতি হিসাব ফ্রিজিং করে দেয়। একটি তালিকা করে মিটারসহ জোনগুলোর সমস্ত মালামাল নিজেদের দখলে নিয়ে আসে। গত দেড় বছরেরও অধিক সময়ে পিপিআই তাদের নগদ টাকাসহ অন্যান্য মালামালের সঠিক হিসেবও পাচ্ছেনা। কেউ পরোক্ষভাবে জানতে চাইলে তাকে চাকরিচ্যুতিসহ নানাভাবে হেনস্থা করার হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ক্ষমতার অপব্যবহার করে পিপিআই’র সাথে চুত্তি নবায়ন করেনি। এমনকি তার নির্দেশেই জোনগুলোর সমস্ত জিনিসপত্র দখলে নেয়া হয়। এইসব সম্পত্তি নিজেদের দখলে নেয়ার আগে বা চুক্তি নবায়ন করা হবেনা, এই মর্মে ওয়াসার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত নোটিশও করা হয়নি। অথচ পিপিআই প্রজেক্ট চালু হবার প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছিল কয়েকটি মাধ্যমে। এর মধ্যে ছিল ঢাকা ওয়াসা, ওয়াসার কর্মচারী সমিতি, বিশ্বব্যাংক এবং সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা। কিন্তু চুক্তি বাতিল বা পিপিআইর সম্পত্তি দখল এবং নগদ অর্থাদি ফ্রিজিং করে রাখার বিষয়ে ওয়াসার এমডি কারো সাথেই আলোচনা করেননি। এমনকি ওয়াসার পরিচালনা বোর্ডকেও তিনি বিষয়টি জানান নি বলে জানা গেছে।  
সূত্র মতে, পিপিআই প্রকল্পের যেসব সম্পত্তি ওয়াসা দখলে নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পানির মিটার। এরমধ্যে ঢাকা ওয়াসা ‘ বেইলান’ ব্রান্ডের পিপিআইর কেনা প্রায় ৫০ হাজার মিটার নিজেদের দখলে নিয়েছে। এর মধ্যে এক ইঞ্চি পমিমাপের মিটার হচেছ ৩৯ হাজার ৯৯৫টি। পৌনে এক ইঞ্চি মিটার রয়েছে ১০ হাজার। এসব মিটারের দাম প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন মাপের আরও আট হাজার ১৮৬টি বাইলেন ও জেনার মিটার (স্মারক নং-১৭৩/১) ওয়াসা নিজেদের দখলে নিয়েছে। এছাড়া আরও কিছু মেশিনারিজ পার্টস ওয়াসা দখলে নিয়েছে। এসব মিটার ও যন্ত্রাংশের দাম প্রায় তিন কোটি বলে জানা গেছে। এছাড়া রাজস্ব জোন ৯/১০ এর স্থাপনা পিপিআইর নিজস্ব অর্থায়নে করা হয়েছে। এখানে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় সোয়া কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন জোনে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর নির্মাণ খরচ ওয়াসার হিসেবে দেখানো হয়নি।
সূত্র জানায়, ঢাকা ওয়াসা পিপিআই প্রকল্পের যেসব অফিশিয়াল মালামাল দখলে নিয়েছে সেগুলোর মূল্য হবে আনুমাণিক ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা। পিপিআই প্রকল্প ওয়াসার কাছে চুক্তি মোতাবেক কমিশন পাবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এর বাইরে পিপিআই প্রকল্পের রিজার্ভ ফান্ড আছে প্রায় ৭ কোটি  ৭০ লাখ টাকা। চলতি একাউন্টে রয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। নিয়ম অনুযায়ী ওয়াসা চুক্তির মেয়াদ না বাড়ালেও এসব টাকা এবং সম্পত্তির মালিক পিপিআই প্রকল্প। কিন্তু ওয়াসা কোনো রকমের আলাচনা ছাড়াই পিপিআইর সাথে দীঘদিনের চলমান চুক্তি নবায়ন করেনি। এমনকি তাদের সম্পত্তি ও পাওনা টাকা দিচ্ছেনা। এমনকি ব্যাংকে থাকা টাকার দেনদেনও বন্ধ করে দিয়েছে।
পিপিআইর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকা ওয়াসা জোর করে পিপিআইর সম্পত্তি জবর দখলে নিয়েছে। তারা নিজেরা একটি সম্পত্তির তালিকা করে সেখানে প্রকল্পের কারো কারো স্বাক্ষর নিয়েছে। আবার অনেক জোনের তালিকায় প্রকল্পের কারো সাক্ষরও নেই। চাকরির ভয়ে কেউই কিছু বলছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিপিআই প্রকল্পের কো-চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক নেতা মিঞা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন,  ঢাকা ওয়াসা কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই পিপিআই’র সম্পত্তি নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে। তারা চুক্তি নবায়ন করবে না, এ বিষয়টিও আমাদের জানায়নি। হঠাৎ করেই সব কিছু নিজেদের দখলে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা তিল তিল করে বিভিন্ন জোনগুলোকে সাজিয়েছিলাম। পিপিআই’র টাকা দিয়ে বেশ কিছু স্থাপনা করা হয়েছে। পিপিআইর টাকায় মিটার আনা হয়েছে। এখন ওয়াসা আমাদের সব একাউন্ট ফ্রিজিং করে রেখেছে। আমাদের মালামালের সঠিক হিসেবও নেই।
ওয়াসার দেয়া তথ্যে রাজস্ব জোন-৩ থেকে পিপিআইর ৩২টি আইটেম সামগ্রীর তালিকা দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে আলমারি ২৭টি, বিভিন্ন ধরণের চেয়ার ১৬২টি, বিভিন্ন ধরণের টেবিল রয়েছে ৬৫টি, লোহার ট্রাংক ১৭টি, বিভিন্ন  ধরণের ফ্যান ৪২টি, টেলিভিশন ১টি, সোফা সেট ২টি, বিভিন্ন ধরণের এসি ৪টি, টম্পু ২টি, প্রাইভেট কার ১টি উল্লেখযোগ্য। এই জোনে মিটার স্টক দেখানো হয়েছে ৯২১টি।
সূত্র মতে, গত ১৫/১১/২০১৮ তারিখে ওয়াসার হিসাব (স্মারক নং- ২৩৫-৫) মতে, দেখা গেছে, তারা পিপিআই রাজস্ব জোনে-৪ এ ব্যবহৃত কম্পিউটার, আসবাবপত্র, গাড়ী, মিটার ও অন্যান্য মালামালের তালিকা করেছে। সেখানে ৬৮ ধরণের জিনিসপত্র  তালিকায় এনেছে। পিপিআইর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তালিকায় অনেক জিনিসই কম দেখানো হয়েছে। অনেক মালামাল লুটপাট হয়েছে। তালিকায় ভালো মিটার দেখানো হয়েছে মাত্র ৭৫৯টি। অথচ এর সাথে বাস্তবতার কোনো মিলই নেই। তালিকা মতে, কম্পিউটার পিসি ৯টি, মনিটর ৯টি, প্রিন্টার ৬টি, ইন্টারনেট রাউডার ১টি, ইউপিএস ১টি, ৩৩ বক্স কাগজ, ফাইল কভার আটহাজার, কাঠের টেবিল ৮৯টি, প্লাস্টিক ঝুড়ি ৮৫টি, কম্পিউটার টেবিল ৮টি, চেয়ার  ২৫৩টি, আলমিরা ১০টি, ফাইল কেবিনেট স্টিল ৭টি,  এসি ২টি, সিলিং ফ্যান ৫৪টি, অন্যান্য ফ্যান ১৫টি, লেগুনা টেম্পু ২টি, প্রাইভেট কার ১টি উল্লেখ যোগ্য।
রাজস্ব জোন-৫ এ ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগীর তালিকার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, গাড়ী ১টি, টেম্পু ১টি, এসি ১টি, সোফা ডাবল ২ সেট, ফ্যান ২২টি, প্লাস্টিক চেয়ার ৫৫টি, হাতল ওয়ালা চেয়ার ৭টি, সাদা কাগজ ৪৫ রিম, আমারি ১টি। এই জোনে মিটার দেখানো হয়েছে মোট ১০৮টি। এই তালিকায় ওয়াসার দুইজন কর্মকর্তার সাক্ষর থাকলে সমবায় সমিতির কারো কোনো সাক্ষর নেই। এছাড়া রাজস্ব জোন ৫ ও ৮ ব্যবহৃত কম্পিউটার সামগ্রীসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির একত্রে তালিকা করা হয়। এতে দেখানো হয়েছে, এই দুই জোনে কম্পিউটার ছিল ৬টি, প্রিন্টার ৭টি, এসি ২টি, ইউপিএস ২টি, টোনার ২টি, কম্পিউটার টেবিল ৬টি উল্লেখযোগ্য।
পিপিআইর রাজস্ব জোন -৬ এর ব্যবহৃত জিনিসপত্র ১০৭টি ক্রমিকে সাজানো হয়েছে। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য মালামালের মধ্যে রয়েছে, কম্পিউটারের পিসি ৯টি, মনিটর ১০টি, প্রিন্টার ১০টি, ইউপিএস ২টি, কাঠের টেবিল ৯১টি, কাঠের চেয়ার ৬৭টি, ফোম চেয়ার ৮৪টি, প্লাস্টিক চেয়ার ১৩৬টি, ডাইনিয় টেবিল ৯টি, আলমারি ১৫টি, ফাইল কেবিনেট ২৬টি, সিলিং ফ্যান ৮৭টি, সোফা  সেট, টেম্পু ২টি, প্রাইভেট কার ২টি, বিভিন্ন সাইজের মিটার ৪০৬টি।
রাজস্ব জোন -৮ এ ব্যবহৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে গাড়ী ১টি, লেগুনা ২১টি, এসি ১টি, সোফা ডাবল ২ সেট, ভিজিটর চেয়ার ৯টি,  সিলিং ফ্যান ৩৩টি, কাঠের পুরাতন চেয়ার ৩৭টি, চেবিল ৬০টি, স্টিলের আলমারি পুরাতন ১৩টিসহ মোট ৩০ আইটেম রয়েছে।
রাজস্ব জোন -৯ এ পিপিআইর সম্পদ দেখানো হয়েছে ৩৬টি আইটেম সামগ্রী। এর মধ্যে টেম্পু ২টি, মনিটর ১০টি, পিসি ৯টি, প্রিন্টার ৬টি, এসি ২টি, ইউপিএস ৩টি, তিন  ধরণের টেবিল ৯৪টি, বিভিন্ন ধরণের চেয়ার ৮৩টি, কাঠের চেয়ার ৫১টি, আরএফএল চেয়ার ৯১টি, বিভিন্ন ধরণের ফাইল কেবিনেট  ২৪টি, আলমারি ৩টি, সিলিং ফ্যান ৪৫টি, লাইট ৬০টি, ৪৯৭টি উল্লেখযোগ্য।
রাজস্ব জোন-১০ এ ব্যবহৃত সামগ্রীর তালিকা করা হয়েছে ভিন্নভাবে। এখানে বিভিন্ন রুম ব্যবহৃত মালামালের পৃথকপৃথক তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব কর্মকর্তার কক্ষে ছির ৮ ধরণের মালামাল, সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তার রুমে ছিল ৮ ধরণের মালামাল, কম্পিউটার ুরমে ছিল ৭ ধরণের মালামাল, বিলিং ফ্অেরে ছিল১১ ধরণের সামগ্রী ইত্যাদি। অফিস স্থাপনা ও সরঞ্জামাদির বিবরণ দেয়া হয়েছে পৃথকভাবে। এখানে পাইভেট কার দেখানো হয়েছে ১টি, টেম্পু ২টি, মিটার ৫৬৪টি উল্লেখযোগ্য। 
জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি ঢাকা ওয়াসার এডিশনাল চীফ ইঞ্জিনিয়ার আকতার হোসেন দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, পিপিআইর সাথে ২০২০ সাল পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের কথা ছিল। কিন্তু ওয়াসা ২০১৮ সালে হঠাৎ চুক্তির মেয়াদ না বাড়িয়ে নিজেরাই রাজস্ব আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, পিপিআইর কি পরিমাণ মালামাল ছিল বা রয়েছে তার হিসেব আমার কাছে নেই। কারণ সমিতির নিয়েও অনেকের মাঝে নানামত রয়েছে, তাই সব কিছু আগের মতোই আছে। আমি সব কিছু বুঝে পেলে তখন এসব বিষয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেব। তিনি বলেন সমিতির তখনকার সভাপতি হাফিজ উদ্দিন মারা গেলে সব কিছু থমকে যায়। এখন পর্যন্ত তখন যেভাবে ছিল এখনো সব কিছু সেভাবেই আছে। তবে রাজত্ব চলে গেলে যা হয় পিপিআইর ক্ষেত্রেও তা হয়েছে। যে যেভাবে পেরেছে সেভাবে জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। কার কাছে কি আছে কিছুই জানিনা। ওয়াসার করা তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াসা তাদের মতো করে একটি তালিকা করেছে। আমরাও একটি কমিটি করেছিলাম। কিন্তু সেই কমিটি এখন পর্যন্ত কোনো কাজ করতে পারেনি। ওয়াসার ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমডি সাহেব আমাদের বলেছেন একটি হিসেব দিতে। আমরা নিজেরাই সে হিসেব দিতে পারিনাই। আমরা ওয়াসার কাছে কি পাবো গত দেড় বছরেও সেই দাবি জানাতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। তবে আমার কথা হলো, যেহেতু সব কিছুই আছে ভবিষ্যতে আমরা একদিন না একদিন সব কিছু পাবো।
এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: জাকির হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, সমিতির বর্তমান কমিটি নিয়েই শুরু থেকে নানা ঝামেলা। এখনো সেই সমস্যারই সমাধান হয়নি। ফলে এসব বিষয় নিয়ে বসারও সুযোগ হয়নি। তবে ওয়াসার এমডি আমাদের মৌখিকভাবে বলেছেন, তিনি পিপিআইর সব পাওনা হিসেব করে দিয়ে দিবেন। এখন সেটি কবে দিবেন সেটি তো বলতে পারছিনা।
সার্বিক বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের সাথে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিং এ আছেন বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ