বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

লাদাখ নিয়ে কৌশলী ভারত

স্টাফ রিপোর্টার: চার দিন আগে তিব্বতি ধর্মগুরু দালাইলামার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। তবে কি চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে চাপে থাকা দিল্লী শি জিনপিং সরকারকে চটাতে চাইছে না? খবর: আনন্দবাজার পত্রিকা। 
কূটনীতিকদের মতে, এই মুহূর্তে চীনকে গালওয়ান উপত্যকা থেকে ফেরত পাঠানো ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীনা সেনা ঘাঁটি ভেঙে দেওয়াই দিল্লীর একমাত্র লক্ষ্য। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের (স্পেশ্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ) পুরনো সীমান্ত মেকানিজমটি চালু করা হয়েছে। চেষ্টা চলছে কোনো অশান্তি ছাড়াই লাদাখ সংলগ্ন সীমান্তকে এপ্রিল মাসের অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। এ অবস্থায় দালাইলামার সঙ্গে প্রকাশ্যে সখ্য দেখিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন করে বিরোধের দরজা খুলতে চাইছে না দিল্লী। তবে তিব্বতের তাসটি আস্তিনে লুকিয়ে রাখলেও চীনের আরো এক দুর্বল স্নায়ুকেন্দ্র তাইওয়ানের সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত স্তরে সম্পর্ক একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে নয়াদিল্লী। অবশ্য এ ক্ষেত্রেও ঢাকঢোল না-পিটিয়ে।
এক চীন নীতি'-কে প্রকাশ্যে পদদলিত করে কিছু করার কথা আদৌ ভাবছে না মোদি সরকার।
সূত্রের খবর, এ বিষয়ে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে নতুন রাষ্ট্রদূত হয়ে আসছেন তাইওয়ানের প্রবীণ কূটনীতিক বাউসুয়ান গের। গত সাত বছর ধরে নয়াদিল্লীতে এই পদে যিনি ছিলেন, সেই তেন চুং কুয়াং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছেন। কূটনৈতিক সূত্র মতে, তাইওয়ানের দিক থেকে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারতের প্রতি বার্তা দেওয়া হল, সম্পর্ককে নতুন চেহারা দেওয়ার।
বাউসুয়ান গের তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডিজি হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। আমেরিকা এবং ব্রিটেনেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের ধারাবাহিক টানাপড়েনের মধ্যে তিনি বহু ক্ষেত্রেই বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। তাইওয়ানের সংবাদ সংস্থায় সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অদূর ভবিষ্যতে তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়াবে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে নয়াদিল্লী তার নীতিতে তাইওয়ানকেও অন্তর্ভূক্ত করুক, এই দাবি সে দেশের বিভিন্ন স্তর থেকে ক্রমশ বাড়ছে। গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় রক্তপাতের পর খোলাখুলি চীনের সম্প্রসারণবাদের নিন্দা করেছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম। সূত্র: আনন্দবাজার।

খুললেন দালাই লামা
তিনি সব বিষয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন না। কিন্তু যে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন তা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে অনেক বেশি। আর ভারত-চীন দ্বন্দ্ব নিয়ে দালাই লামা যে বক্তব্য রাখবেন তা কিছুটা ক্ষেত্রে প্রত্যাশিতই ছিল। লাদাখ সীমান্তে ভারত এবং চীনের সংঘর্ষের বেশকিছু সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনা না যেতেই এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক গুরু দালাই লামা। ভারত এবং চীনের সম্পর্ক ঠিক কেমন বোঝানোর চেষ্টা করলেন তিনি। দালাই লামার বক্তব্য, ভারত এবং চীন দুই দেশই প্রচণ্ড শক্তিশালী। একে অপরকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।
ঠিক এই কারণেই এই দুই দেশের একসঙ্গে থাকা উচিত। লামা জানান, ঐতিহাসিক দিক দিয়ে ভারত এবং চীন দুই দেশের মিল রয়েছে অনেক। ইতিহাস জানে, চীন আদতে একটি বুদ্ধিস্ট দেশ এবং ভারত বুদ্ধের জন্মভূমি। চীন থেকে বহু মানুষ ভারতে আসেন বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারে। সে ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে বহুকাল থেকে জড়িত। এই মুহূর্তে উত্তেজনার আকার নেওয়া ভারত এবং চীনের সম্পর্কে দালাই লামার বক্তব্য ঠিক কেমন প্রভাব ফেলবে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

লাদাখ সীমান্তে ভারত এবং চীনের সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৫৯টি চীনা এক নিষিদ্ধ করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। ভারতের এই সিদ্ধান্তের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একই রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে। অন্যদিকে চীনা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ভারত একাধিক চীনা প্রকল্প বাতিল করেছে। সবমিলিয়ে সংঘর্ষের বদলা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে চীনের থেকে নিচ্ছে ভারত। সূত্র : টাইম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ