বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

অক্টোবরে আসছে করোনার ভ্যাকসিন

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে দিশেহারা মানুষ। মরণঘাতী এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে একটি কার্যকরি ভ্যাকসিনের জন্য সবকিছুই করছেন বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা। তব্ ুমিলছে না একটি ভ্যাকসিন। তবে কিছু ভ্যাকসিন নিয়ে আশাবাদী গবেষকরা। এর মধ্যে অন্যতম ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিন। শতাধিক ভ্যাকসিনের মধ্যেই এটি সবচেয়ে এগিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে সব কিছু ঠিক থাকলে অক্টোবরেই মিলবে করোনার ভ্যাকসিন। দামও হবে মাত্র এক কাপ কফির সমান। এদিকে জার্মান জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়ো এন টেক নিউইয়র্কের ওষুধ উৎপাদনকারী ফাইজার ইনকরপোরেশনের সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করছে। তারাও অক্টোবরের মধ্যে ভ্যাকসিন বাজারের আনার ঘোষণা দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ বিজ্ঞানীও অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটিকেই অগ্রগামী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর দাম থাকবে নাগালে। ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ফলাফল বা কার্যকারিতার বিষয়টি আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ জানা যাবে। বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ২০ লাখের মানুষ যে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে, ভ্যাকসিনটি তা থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে কি না, এ পরীক্ষার ফলের ওপর তা নির্ভর করছে। ইকনোমিস্ট বলছে, পরীক্ষায় একবার সফলতার প্রমাণ পাওয়া গেলেই নিয়ন্ত্রকেরা জরুরি ব্যবহারের জন্য ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়ে দেবে। অর্থাৎ অক্টোবরের মধ্যেই যাঁরা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগী, তাঁরা ভ্যাকসিন পাবেন।
অস্ট্রেলিয়ার নিউজ ডটকম ডটএইউ জানিয়েছে, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটি আন্তর্জাতিকভাবে দ্রুত ও বিস্তৃত আকারে সরবরাহের জন্য সাপ্লাই চেইন তৈরি করছে ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, পরিপূর্ণ অনুমোদন পেতে ভ্যাকসিনটির একাধিক পরীক্ষা লাগবে। আগামী বছরের শুরুতেই এর পূর্ণ অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ভ্যাকসিন তৈরির এ প্রতিযোগিতাকে আমাদের জীবনকালের সবচেয়ে জরুরি অংশীদারী প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
একই ধরনের ভাইরাসের ক্ষেত্রে আগে যে ওষুধ কার্যকর হয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই অক্সফোর্ডের গবেষকেরা অধ্যাপক সারাহ গিলবার্টের নেতৃত্বে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করেন। তাঁরা দ্রুত বড় আকারে মানবপরীক্ষা শুরু করেছেন। যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কেট বিনহ্যাম বলেছেন, ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে অক্সফোর্ড। অন্য ভ্যাকসিন তাদের কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়ে যেতে পারে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলেছেন, ইতিমধ্যে ২০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন তৈরির ফরমাশ পেয়েছেন তাঁরা। প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের দাম এক কাপ কফির দামের সমান হতে পারে।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রধান নির্বাহী প্যাসকল সারিওট বলেন, তাঁদের ভ্যাকসিন এক বছর পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে এর ফল জানা যাবে। ভ্যাকসিনের ফলের জন্য অপেক্ষার পাশাপাশি ভ্যাকসিন উৎপাদন চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবরেই ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরু করা যাবে। গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় গত জুন মাসে পরীক্ষা বাড়ায় অক্সফোর্ড।
এদিকে জার্মান জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়ো এন টেক নিউইয়র্কের ওষুধ উৎপাদনকারী ফাইজার ইনকরপোরেশনের সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠান দুটি এ বছরের শেষ নাগাদ প্রতীক্ষিত ভ্যাকসিন বিস্তৃত আকারে সরবরাহের জন্য নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এমনটাই বলেছেন বায়ো এন টেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউগুর শাহিন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও এখন বলছে, এ বছরের মধ্যেই ভ্যাকসিন বাজারে আনার ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা অর্জনযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।
বায়ো এন টেক বলেছে, তাদের ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ধাপ বা তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা এ মাসের শেষেই শুরু হচ্ছে। এ পরীক্ষায় ৩০ হাজার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ পরীক্ষার ফল চলতি বছরের মধ্যেই জানা যাবে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিনটির অনুমোদন চাওয়া হবে।
ভ্যাকসিনের দৌড়ে এগিয়ে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ক্যানসিনো (চীন), মডার্না (যুক্তরাষ্ট্র), উহান ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস (চীন), বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস (চীন), সিনোভ্যাক্স (চীন), নোভাভ্যাক্স (যুক্তরাষ্ট্র), ইনোভিও (যুক্তরাষ্ট্র)। এসব প্রতিষ্ঠান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ভ্যাকসিনের ফল জানাতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ