বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাতে পারে কুয়েত

স্টাফ রিপোর্টার : করোনায় বিদেশে শ্রমবাজার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে বাংলাদেশীদের জন্য। সম্প্রতি অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে একটি প্রবাসী কোটা বিল প্রণয়ন করেছে কুয়েত সরকার। জানা গেছে, ওই খসড়া আইনে বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য মাত্র ৩ শতাংশ কোটা প্রস্তাব করা হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই আইন পাস হলে দেশটিতে অবস্থানরত আড়াই লাখের বেশি অভিবাসীকে ফেরত আসতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, কুয়েতে মোট জনসংখ্যা ৪৩ লাখ। এরমধ্যে ৩০ লাখই অভিবাসী। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশই অভিবাসী। এ কারণে কুয়েত সরকার সম্প্রতি উদ্যোগ নিয়েছে যে, অভিবাসীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। যেন জনতাত্ত্বিক ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।
এ লক্ষ্যে কুয়েতের পার্লামেন্টের একটি কমিটি সম্প্রতি এ সংক্রান্ত খসড়া কোটা বিল অনুমোদন করেছে। সেখানে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের বিভিন্ন কোটায় ভাগ করে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কোটা অনুযায়ী কুয়েত সরকার যদি মাত্র ৩ শতাংশ বাংলাদেশি অভিবাসীকে জায়গা দেয় তাহলে আড়াই লাখেরও বেশি অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হবে। তাই প্রস্তাবিত এই বিলটির আইনে পরিণত হওয়া নিয়ে বেশ আতঙ্কে আছেন সেখানে অবস্থানরত প্রবাসীরা।
এক হিসাব অনুযায়ী, কুয়েতে বর্তমানে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশী প্রবাসী রয়েছেন। হাতে গোণা কয়েকজন ছাড়া তাদের সবাই বিভিন্ন অদক্ষ বা স্বল্প-দক্ষ পেশায় নিয়োজিত। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নির্মাণ শ্রমিক, গাড়ি চালক বা হোটেল ইত্যাদি বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশী শ্রমিকদের বেশি দেখা যায়। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে আসছে কুয়েত। তখন থেকে বাংলাদেশের রেমিটেন্স আয়ের একটি বড় অংশ আসে কুয়েত থেকেই।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কুয়েত থেকে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার রেমিটেন্স আয় হয়েছে। এখন দেশটি এতো বিপুল সংখ্যক শ্রমিক পাঠিয়ে দিলে রেমিটেন্স আয়ের ওপর বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি হবে। করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়া এবং উৎপাদন বাধাঁগ্রস্ত হওয়ায় কুয়েত সরকার অভিবাসীদের কমিয়ে আনতে চাইছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
তবে কুয়েতে এখন থেকেই নতুন করে আর কোন বিদেশীদের কাজ দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে সম্প্রতি কুয়েতে নতুন ভিসায় আসা বাংলাদেশের অন্তত ১৭শ কর্মী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। যাদের কুয়েতে এসে কাজ করার প্রক্রিয়া চলছিল সেগুলো বাতিল করা হয়েছে, যারা এখন কাজ করছেন তাদের অনেকের কাজের মেয়াদ নবায়ন করা হয়নি। এমনকি ছুটি কাটাতে যারা কুয়েত থেকে দেশে এসেছেন, তারা কবে ফিরতে পারবেন, কাজ আদৌ ফিরে পাবেন কিনা তা নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ