বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

উদ্বোধনীতেই গরু কিনলেন তিন মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাস মহামারীকালে কুরবানির পশু কেনাবেচার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজিটাল হাট’ থেকে গরু কিনলেন সরকারের তিন মন্ত্রী। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে এই ডিজিটাল হাট।
গতকাল শনিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘ডিজিটাল হাট’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই লাখ টাকার বেশি দামের গরু কেনেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। আর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কেনেন লাখ টাকার গরু।
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এক লাখ টাকা দামের গরু পছন্দের কথা বললে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সাধারু সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল ওয়েব পেইজ থেকে গরু দেখানো শুরু করেন। কালো বা লাল রংয়ের গরু পছন্দ না হওয়ায় তাজুল ইসলাম সাদাকালো একটি দেশি ষাঁড় পছন্দ করেন। এক লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকার গরুর ভিডিও দেখে পছন্দ করে কেনার পর তাজুল ইসলাম মাংসের ২০ শতাংশ বাসায় দিয়ে বাকি মাংস ও চামড়া দান করে দিতে বলেন।
এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “পশুর দামের হাজারে ২৩০ টাকা কুরবানি খরচ। ২৩ শতাংশ যে চার্জ কসাইসহ অন্যান্য খরচ হবে এখানে সিটি কর্পোরেশন কোনো খরচ নেবে না, হোম ডেলিভারিসহ।” তাতেও রাজি হয়ে যান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
এক লাখ টাকা দামের গরু পছন্দ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ‘আজকের ডিল’ থেকে। লাল রংয়ের গরু কিনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “কুরবানির গরু কেনায় মুরুব্বিকে ক্রস করতে চাই না। (স্থানীয় সরকার মন্ত্রী) মুরুব্বির নিচেই থাকতে চাই। প্রধান অতিথিকে ক্রস করতে চাই না, ‘গুরু মারার বিদ্যায়’ আমি নেই।”
কুরবানির গরুর মাংসের তিন ভাগের একভাগ দান ও চামড়া দান করার ইচ্ছা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। 
‘ফুড ফর নেশন একশপ’ থেকে লাখ টাকায় গরু কেনেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সাদাকালো রংয়ের গরু কিনে পলক বলেন, “ঈদে নিজ এলাকা চলনবিলে সিংড়ায় চলে যাব। এজন্য ঢাকায় কুরবানির গরু দান করে দিতে চাই।”
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গরু কেনার আগ্রহ দেখালেও যে সাইট থেকে তিনি গরু কিনবেন তা আপডেট না থাকায় আর কেনা হয়নি।
প্রায় দুই হাজার পশু কুরবানি এবং মাংস প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় হোম ডেলিভারি দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে ‘ডিজিটাল হাট’। প্রচলিত হাটে পশু কেনায় হাসিল দিতে হলেও এখানে কোনো হাসিল দিতে হবে না ক্রেতাদের।
হাটের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, “ডিজিটাল বাজারে এবার কুরবানির পশু ক্রয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরাসরি হাটে না যেয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনায় নতুন যাত্রা যোগ হবে। কষ্ট করে যে হাটে যাই, এটা আর করতে হবে না এটা নির্ভরশীল জায়গা হবে। আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষির ব্যবস্থা থাকা উচিত।”
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এ বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কুরবানির পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
এক প্রশ্নে তাজুল ইসলাম বলেন, “এক্ষেত্রে হটস্পট চিহ্নিত করে দিলে সুবিধা হবে। যেসব জায়গায় সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে তা পরিহার করতে হবে। এছাড়া গ্রামে এক জায়গায় হাট না করে বিভিন্ন জায়গায় পশুর হাট করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ