বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ইন্তিকাল

স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক স্বরাস্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন  ইন্তিকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ঢাকা-১৮ আসনের এই সংসদ সদস্য বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিটে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। অসুস্থ সাহারা খাতুনকে গত ৬ জুলাই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এছাড়া স্পিকার ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মরদেহ শুক্রবার রাতে দেশে আসছে। আজ শনিবার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘সাহারা আপার মরদেহ নিয়ে ইউএস-বাংলার একটি বিশেষ ফ্লাইট ব্যাংককের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবে। রাতেই সেটি ঢাকায় পৌঁছাবে। এরপর আগামীকাল শনিবার বনানী কবরস্থানে উনাকে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে।’
এক শোক বার্তায় আবদুল হামিদ বলেন, সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তিনি আওয়ামী লীগের কঠিন সময়ে দলের পরীক্ষিত একজন নেতা ছিলেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অসাধারণ অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর আদর্শের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা সাহারা খাতুন তার সারাজীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শক্তিশালী করতে এবং দেশের গণতন্ত্র উন্নয়নে কাজ করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তার (সাহারা) মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন নিবেদিত রাজনীতিবিদকে হারালো।’ রাষ্ট্র প্রধান মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাহারা খাতুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন কাজ করে গেছেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দক্ষ নারী নেত্রী এবং সৎ জননেতাকে হারালো। আমি হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় গত ২ জুন সাহারা খাতুন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯ জুন সকালে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।
এরপর অবস্থার উন্নতি হলে তাকে গত ২২ জুন দুপুরে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৬ জুন সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। গত সোমবার তাকে থাইল্যান্ড নেয়া হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাহারা খাতুনের রূহের মাগফেরাত কামনা এবং তার পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ