বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অস্থিরতা বাড়ছেই সবজি বাজারে

স্টাফ রিপোর্টার: গত বেশকিছু দিন ধরে সবজি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছেই। একটি পণ্যের দাম কমলে বেড়ে যাচ্ছে আরেকটি দাম। বাজারে ৫০ টাকার কমে সবজি নেই বললেই চলে। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। নতুন করে আবারো দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি। দাম বাড়ার তালিকায় আরো যুক্ত হয়েছে আলু, মুলা, লেবু, লাউ ও জালি কুমড়া। অপরিবর্তিত আছে শাকের বাজার। তবে মাছ ও মুরগীর দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে আদা, রসুন, চাল, ডাল ও ভোজ্যতেল ও গরু গোশতের দাম।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, প্রতিকেজি পটল বিক্রি হচ্ছে  ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙা-চিচিঙা-ধুন্দল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ও উস্তা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা,  ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কচুর লতি (ছোট) ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লতি (বড়) ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৮০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৩০ টাকা। প্রতিকেজি ডায়মন্ড আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা, ছোট আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে। কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, প্রতিকেজি টমেটো (ছোট) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো (ফ্রেশ) ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
দাম বেড়েছে লেবু, নতুন মুলা, লাউ ও জালি কুমড়ার। হালিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়ে প্রতিহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা, কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। প্রতি পিসে ১০ টাকা বেড়ে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও জালি কুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকায়।
এদিকে, দাম অপরিবর্তিত আছে কলা, বড় কচু, পুদিনা পাতা, ধনিয়া পাতা ও কুমড়ার দাম।
বাজারে প্রতি আঁটি (মোড়া) কচু শাক বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, মূলা ১৫ থেকে ২০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকা, লাউ ও কুমড়া শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁই শাক ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির  গোশতের দাম। এসব বাজারে প্রতিকেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, মহিষের গোশত ৬০০ টাকা, খাসির  গোশত ৮০০ টাকা, বকরি ৭৫০ টাকা।
বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে (মানভেদে) ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া প্রতিকেজি আদা বিক্রি হচ্ছে (মানভেদে) ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। খোলা সয়াবিন (লাল) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা লিটার, খোলা (সাদা) সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা লিটার। খোলা সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার।
বর্তমানে প্রতিকেজি মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা কেজি, মিনিকেট পুরান ৬০ টাকা, বাসমতী ৬০ থেকে ৬২ টাকা, গুটিচাল ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, পায়জাম চাল ৪৬ টাকা, স্বর্ণা ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, আঠাশ ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজিদরে, আতোপ চাল ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা, সরকারি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা, এক সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, পাইজাম ৪০ টাকা, প্রতিকেজি পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা।
প্রতিকেজি ডাবরি ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা, অ্যাংকার ৫০ টাকা, প্রতিকেজি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, মসুর (মোটা) ৮০ টাকা কেজিদরে।
সবজির বাড়তি দাম নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন সবজির সিজন না হওয়ায় প্রতি বছর বর্তমানের এ সময়ে দাম বাড়তি থাকে। আর ক্রেতারা বলছেন, সবজির সিজন না  হলেও কোনো সবজির ঘাটতি নেই,  এ অবস্থায় দাম বাড়ার প্রশ্ন উঠে না।
সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে এসব বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়, কেজিতে ৩০ টাকা কমে প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২২৫ টাকায় আর সাদা লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।
কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে প্রতি কেজি সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায়, ছোট সোনালী প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, প্রতি কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকায়। প্রতিটি ডিম পাড়া হাঁস (ছোট) ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় আর বড় হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকায়।
তবে ডিমের দাম আছে আগের সপ্তাহের মতোই। এসব বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম (আকার ভেদে) ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়, দেশি মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, সোনালী মুরগির ডিম ১৪০, হাঁসের ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়, কোয়েলের ডিম প্রতি ১০০ পিস ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমে প্রতি কেজি কাঁচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়, প্রতি কেজি মলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকায়, ছোট পুঁটি (তাজা) ৫০০ টাকা, আর সাধারণ ছোট পুঁটির দাম ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, টেংরা (তাজা) প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়, দেশি টেংরা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, শিং (আকার ভেদে) ২৮০ থেকে ৫০০ টাকায়, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, চিংড়ি (গলদা) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, বাগদা ৫০০ থেকে ৯৫০ টাকায়, হরিণা চিংড়ি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৩২০ থেকে ৪৮০ টাকায়, রুই (আকার ভেদে) ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়, মৃগেল ১৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১১০ থেকে ১৮০ টাকায়, তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১৬০ টাকায়, থাই কৈ ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়, কাতল ১৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম কমে প্রতি এক কেজি ওজনের একেকটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকায়, ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, ছোট ইলিশ আকার ভেদে ৩২০ থেকে ৪৯০ টাকা কেজি দরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ