বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দখলদার সরকারকে সরিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই মুক্তির পথ

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের দুর্নীতির কারণেই করোনাভাইরাস সারাদেশে সংক্রমিত বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার বিকালে উত্তরার নিজের বাসা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সিলেটে ‘এমএ হক স্বাস্থ্যসেবা’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মুক্তির একটি মাত্র পথ দখলদার সরকারকে সরিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, সরকারের চরম অবহেলা, অবজ্ঞা, অজ্ঞানতা এবং তাদের যে একটাই লক্ষ্য চুরি সেই কারণেই আজকে করোনা পরিস্থিতি এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
হজ্ব ক্যাম্পে আইসোলেশনে থাকা প্রবাসীদের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে বিদেশ থেকে যারা ফেরত আসছেন তাদের স্ক্যানিং যে টেস্ট সেই টেস্টে সবাই তারা করোনামুক্ত। অথচ বিবিসি বাংলা বিভাগের একজন সাংবাদিক তিনি সেই হজ্ব ক্যাম্পে গিয়ে যাত্রীদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসা করেছেন। তিনি (যাত্রী) জবাবে বলেছেন যে, আমাদের কোনো স্ক্যানিংই হয়নি। দেখেন, কতটা দায়িত্বহীন হতে পারে এই স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা, কতটা উদাসীন হতে পারে সরকার। এতো ঘটনার পরেও এই হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরে, লক্ষ লক্ষ লোক আক্রান্ত হওয়ার পরে যখন একেবারে জীবন-জীবিকা সব কিছু ওলোট-পালট হয়ে যাচ্ছে সেই সময়েও তারা তাদের ন্যূনতম যে দায়িত্ব সেটা পালন করছে না।
তিনি বলেন, সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকার কোনো দরকার নেই। আমাদের নিজেদেরকেই চেষ্টা করতে হবে বাঁচার জন্য, আমাদের নিজেদের চেষ্টা করতে হবে যেন এটা (করোনাভাইরাস) না ছড়ায়, এই সংক্রমণ যেন না বাড়ে। এই সরকারের যেহেতু জনগণের সাথে সম্পর্ক নেই, জনগণের জীবন-জীবিকার প্রতি তাদের কোন দায়িত্ববোধ নেই, সেই কারণে তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে বাংলাদেশের অগণিত মানুষ তারা এই ভয়াবহ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাবে না।
রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট সরবারহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান সাহেদ (মো. সাহেদ) সাহেবরা কোনো পরীক্ষা না করেই করোনা টেস্টের রেজাল্ট দিচ্ছে। এটা তো একদিকে জীবনের প্রশ্ন মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্যের সমস্যা। অন্যদিকে যে পরিণতি...। আজকে সমস্ত বিশ্বে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, এটা অলরেডি গ্লোবাল মিডিয়াতে চলে গেছে- এখন বাংলাদেশ থেকে কোনো মানুষের যাওয়া বিদেশে অথবা বাংলাদেশের ট্রেড যেটা তার জন্য যে ব্যবস্থা। এমনকি বাংলাদেশের যারা যেতে পারছেন তারাও আর যেতে পারবেন না। সব এয়ারলাইন্সগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এটা বড় রকমের একটা এডভান্স ইম্পেক্ট ইকোনমীতেও পড়বে। এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে এই সরকারের। কারণ আমরা টেলিভিশনের ছবিতে যা দেখলাম- এই সাহেদ সাহেব তিনি সরকারের সব মন্ত্রী ও দলের শীর্ষনেতাদের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। এটা একটা না, এমন বহু ঘটনা আছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরে দেখলাম, একজন মিঠু সাহেব, যাকে বলা হচ্ছে তিনি নাকি গোটা স্বাস্থ্য অধিদফতরকে গিলে ফেলেছেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর থেকে মুক্তির একটি মাত্রই পথ, সেই পথ হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, একটি মাত্র পথ যারা আজকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
আজকে এজন্য আমাদের সকলকে একদিকে যেমন কোভিড মোকাবিলা করতে হবে, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আমাদের অধিকার, জনগণের অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা সবাই জানেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। মাত্র ৬ মাস স্থগিত করে তাকে বাসায় রাখা হয়েছে সেখানে তাকে(খালেদা জিয়া) বলা হয়েছে যে, তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবে না। অথচ তার চিকিৎসাটাই এখন বিদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে সদ্য প্রয়াত এমএ হকের স্মরণে ‘এমএ হক স্বাস্থ্য সেবা’র এই কর্মসূচি হয়। গত ৩ জুলাই চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জেলার সাবেক সভাপতি এমএ হক মারা যান।
সিলেট জেলা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সমন্বয়ক ডা. শামীমুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কয়েস লোদীর পরিচালনায় ভার্চুয়াল এই আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত হাসান জীবন, কলিম উদ্দিন মিলন, আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা সভাপতি আলী আহমদ, প্রয়াত এমএ হকের ছেলে ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হকসহ সিলেট মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।
মহাসচিবের বিবৃতি: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের হাত থেকে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মতের মানুষরা কেউই রেহাই পাচ্ছে না। সরকারের সর্বগ্রাসী থাবায় নেতাকর্মীদের জেল-জুলুমের শিকার হতে হচ্ছে। সেদিন খুবই নিকটবর্তী যেদিন বর্তমান সরকারের কুশাসনের মূলোৎপাটন ঘটবে। শুক্রবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, করোনা মোকাবিলায় সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী সরকার আরও বেশি আগ্রাসী নাৎসিবাদী পথ অবলম্বন করে বিরোধী দলকে নিঃশেষ করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামকে গ্রেফতার তারই বর্ধিত প্রকাশ। সরকারি দলের লোকেরা এই করোনাকালেও দুর্নীতি, লুটপাট ও আত্মসাতের কাজে খুব উৎসাহ নিয়ে সারাদেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা এই সব অনাচারের প্রতিফলন প্রতিদিন দেখছি সংবাদপত্রের পাতায় পাতায়। এই ক্রান্তিকালে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে তারা। দেশকে বিএনপি শূন্য করাই যেন আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর এখন প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরি করে মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করা হচ্ছে এ কারণে যে, সরকারি অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ যেন টুঁ শব্দ না করতে পারে।
ফখরুল বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুকে গ্রেফতার বর্তমান সরকারের এক ঘৃণ্য অপকর্ম। এই সরকারের হাত থেকে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মতের মানুষরা কেউই রেহাই পাচ্ছে না। অবিলম্বে আকরামুল হাসান মিন্টুর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ