ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 August 2020, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ইতালিফেরত ১৪৭ বাংলাদেশির করোনার উপসর্গ মেলেনি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ইতালির রোমের ফিউমিসিনো বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো ১৪৭ বাংলাদেশিকে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।প্রাথমিক স্ক্যানিং শেষে ফেরত আসা কোনো যাত্রীর মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো ধরনের উপসর্গ পাওয়া যায়নি জানিয়ে আশকোনা কোয়ারেন্টিন সেন্টারের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ক্যাম্পে যাওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্যাম্পে থাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা হবে যে, ফেরত আসা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করা হবে কি না।

গত বুধবার দোহা হয়ে ১৮৩ বাংলাদেশি ইতালি যান। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে তাদেরকে বিমান থেকে নামতেই দেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফ্লাইটের যাত্রীরা সারাদিন বিমানবন্দরে অবস্থান করেন। পরে দেশটির কর্তৃপক্ষ ইতালিয়ান পাসপোর্টধারী ১৪ জন ও মানবিক কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীকে দেশটিতে রাখা হয়েছে। বাকি ১৬৮ বাংলাদেশিকে দোহাগামী ফিরতি ফ্লাইটে তুলে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এইচ এম তৌহিদ উল আহসান জানিয়েছেন, আজ (শুক্রবার) ভোরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ইতালি ফেরত ১৪৭ বাংলাদেশির নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে হজ ক্যাম্পে পাঠিয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়া ৭৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ইতালির বাংলাদেশ মিশন ঢাকায় এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে ওই যাত্রীদের কেউ কেউ ইতালি গেছেন বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম তথ্য প্রকাশ করেছে।

এ অবস্থায় আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশে থেকে আর কোনো যাত্রী ও ফ্লাইট ইতালিতে প্রবেশ করতে পারবে না। 

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কোনো এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে যাত্রী আনতে পারবে না। এমনকি কোনো ট্রানজিট ফ্লাইটেও যাত্রী আনা যাবে না, যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। ইতালি সরকারের এমন ঘোষণার পর গতকাল কাতার এয়ারওয়েজ জানিয়েছে- ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ইতালিগামী কোনো যাত্রী তাদের ফ্লাইটে নেয়া হবে না। জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে কয়েকটি চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এসব ফ্লাইটে ইতালি যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ৩৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয় বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়। সর্বশেষ ৬ই জুলাই বাংলাদেশ থেকে রোমে যাওয়া একটি ফ্লাইটের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে এক সপ্তাহের জন্য সব ধরনের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয় ইতালি। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দোহা হয়ে বাংলাদেশিদের ইতালি যাওয়া এবং বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়ার খবরের মধ্যেই নতুন করে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার তথ্য জানায় ইতালি। বাংলাদেশ মিশন জানায়।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ