বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

প্রধান কার্যালয়সহ রিজেন্টের দুই হাসপাতাল সিলগালা

গতকাল মঙ্গলবার অনিয়ম ও ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার কারণে রাজধানীর উত্তরা প্রধান কার্যালয়সহ রিজেন্ট হাসপাতালের কয়েকটি শাখা বন্ধ করে দেয় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট -সংগ্রাম

* ভুয়া রিপোর্টে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ‘হোতা’ শাহেদ
* হাসপাতালে মিলল অসংখ্য অনুমোদনহীন কিট
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরায় প্রধান কার্যালয়সহ রিজেন্টের দু’টি হাসপাতাল সিলগালা করা হয়েছে। গতকাল  মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘অভিযানের পর রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরার প্রধান কার্যালয়টি, যেখানে বসে তারা এই সব কার্যক্রমগুলো চালাতো সেটা এবং রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখাটি সিলগালা করা হয়। এরআগে সোমবার বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। র‌্যাব জানিয়েছে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উত্তরায় রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অসংখ্য অনুমোদনহীন কোভিড টেস্টিং কিট পেয়েছে র‌্যাব।
রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের কার্যক্রম ‘অবিলম্বে বন্ধের’ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল হাসপাতাল দুটি র‌্যাবের তরফ থেকে সিলগালা করে দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. মোহাম্মদ আমিনুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি হয়।
র‌্যাব জানায়, ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা এবং বাড়িতে থাকা রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করত রিজেন্ট হাসপাতাল। এছাড়াও সরকার থেকে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টেস্ট করার অনুমতি নিয়ে রিপোর্ট প্রতি সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে আদায় করত তারা। এভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে মোট ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল। এই সমস্ত অপরাধ ও টাকার নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যান (রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ) নিজে করত।
হাসপাতালে থাকা রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সারোয়ার আলম বলেন, ‘করোনার নমুনা সংগ্রহ করেও পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করতো রিজেন্ট হাসপাতাল। এভাবেই প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তারা।’ সোমবার রাতে মোহাম্মদ সাহেদের মালিকানাধীন হাসপাতাল থেকে অননুমোদিত র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। এ প্রসঙ্গে সারোয়ার আলম বলেন, ওই গাড়িতে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্টিকার লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের চোখে ধুলো দিতেই ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্টিকার ব্যবহার করা হতো। সারোয়ার আলম বলেন, ‘অনিয়ম, অপরাধ ও প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো চেয়ারম্যান নিজেই ডিল করেছেন, অন্যান্য কয়েকজন কর্মীও ছিল। চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হবে, জড়িত সবাইকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।’ অভিযানে রিজেন্টের ৮ জন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কয়েকটি অনিয়ম ও প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছি আমরা। প্রথমত, করোনা টেস্টের জন্য আসা রোগীদের বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ করার কথা ছিল রিজেন্টের। কিন্তু আমরা দেখলাম তারা প্রায় ১০ হাজার জনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে, প্রত্যেকের কাছ থেকে তারা টাকা নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এসব নমুনার অর্ধেকের বেশি পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ প্রতারণা। তিনি আরও বলেন, রিজেন্ট সরকারকে জানিয়েছে তারা কোভিড-রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দিচ্ছে। এই বলে তারা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ক্লেইম করেছে। অথচ অনেক রোগীর কাছ থেকেও তারা দেড় লাখ-দুই লাখ, আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিল আদায় করেছে বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি।
সারোয়ার আলম বলেন, রিজেন্টকে কোভিড হাসপাতালের এই অনুমতি দেয়ার আগে শর্ত ছিল এখানে যারা ভর্তি হবেন, তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআইআর, জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট থেকে ফ্রি অব কস্ট (বিনামূল্যে) পরীক্ষা করাবে। আর রিজেন্ট বাসায় বাসায় গিয়ে ১০ হাজারের বেশি নমুনা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৬৪ জনের নমুনা আইইডিসিআরসহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে টেস্ট করিয়েছে। বাকি নমুনাগুলো টেস্ট না করে ভুয়া রিপোর্ট করেছে। আমরা আইইডিসিআরে রিপোর্ট ক্রসচেক করে দেখেছি, রিজেন্ট এগুলো তাদের পাঠায়নি। ভুয়া রিপোর্টের জন্য সাড়ে তিন হাজার করে টাকা নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অভিযানকালে ২৮টি রিপোর্ট হাতেনাতে পাওয়া গেছে। যেগুলোর নমুনা আসলে পরীক্ষার জন্য যায়ইনি। লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৪ সালে শেষ হওয়ার পরেও কেনো রিজেন্ট হাসপাতালকে কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়? এমন এক প্রশ্নের জবাবে সারোয়ার আলম বলেন, ক্রাইসিস মুহূর্তে যখন একটি বেসরকারি সংস্থা বিনামূল্যে সেবা দিতে চাইবে সরকার অবশ্যই তাদের ওয়েলকাম করবে। সরকার তাই করেছে। লাইসেন্সের চেয়ে মুখ্য ছিল সেবা দেয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ