বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

অনিশ্চিত গন্তব্যে চামড়া শিল্প

ইবনে নূরুল হুদা : সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশের চামড়া শিল্পের দিনকাল খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। নিকট অতীতে রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের পরেই চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অবস্থান ছিল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা সে অবস্থানটা ধরে রাখতে পারিনি। যদিও পাদুকাশিল্পে আমাদের দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান ও স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে জুতা রপ্তানিতে বেশ সাফল্য দেখিয়ে যাচ্ছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা)এর দেয়া তথ্যমতে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়েছিল ৬ কোটি ১৪ লাখ ডলারের পাদুকাসম্ভার। চার বছরের মাথায় ২০১৮ সালে রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।
 সে বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলারের জুতা রপ্তানি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতেও বাংলাদেশের জুতা রপ্তানি আগের তুলনায় বেশ বেড়েছে। কিন্তু তারপর আমাদের এই শিল্প খুব একটা স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নেই। কারণ, চামড়াশিল্পের মোট রপ্তানি আয় আগের তুলনায় অনেকটাই নিম্নগামী। এশিয়া ফাউন্ডেশন ও পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট-এর যৌথ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০১৬/১৭ অর্থবছরে চামড়া খাতের মোট রপ্তানি আয় ছিল ১২৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। কিন্তু ২০১৮/১৯ অর্থবছরে তা কমে ১০৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারে নেমেছে এবং পরের অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে মাত্র ৭৭ কোটি ডলার। মূলত কাঁচা চামড়া রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চামড়া শিল্পে ধস কাটিয়ে ওঠার জন্য এই শিল্পের আধুনিকীকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হলো চামড়াশিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ঘাটতি। দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা  নেই বলে বিশ্ববাজারে আমাদের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমরা এখনো লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ নামের এক বৈশ্বিক সংস্থার মানসনদ অর্জন করতে পারিনি। কোনো দেশের এই সনদ না থাকলে সে দেশের চামড়াজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আমদানি করতে উৎসাহ দেখায় না। আমাদের চামড়াশিল্প এই বৃত্তেই আটকা পড়েছে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করলেও এতে এখন পর্যন্ত সাফল্য আসেনি। সাভারে চামড়াশিল্প নগর প্রকল্প শুরু হয়েছে ২০০৩ সালে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি (৬৪২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা) অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইপিটি) নির্মাণের জন্য। ২০১২ সালে কাজটি দেড় বছরের মধ্যে সমাপ্ত করার শর্তে নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৭ বছর পেড়িয়ে গেলেও সে কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাইওয়ানের একটি কোম্পানির সাথে বাংলাদেশের ‘বে গ্রুপ’ নামের একটি কোম্পানি যৌথ বিনিয়োগে ট্যানারি প্রতিষ্ঠা করতে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে সিইপিটি নেই বলে।
আমাদের দেশ থেকে কাঁচা চামড়া রপ্তানি প্রায় তিন দশক ধরে বন্ধ রয়েছে। চামড়া শিল্পের পশ্চাদপদতার ক্ষেত্রে এটিও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। আশার কথা হচ্ছে, সম্প্রতি কাঁচা চামড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধা তুলে নেয়ার সুপারিশ করছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। সংস্থাটি বলছে, এবার ঈদুল আজহায় পশুর কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করে রপ্তানির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। যা সত্যিই ইতিবাচক সুপারিশ।
কমিশনের এই সুপারিশ এসেছে গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতায়। গত ঈদুল আজহায় দেশের চামড়ার একটি অংশ পচে গেছে। চামড়া কিনতে সংশ্লিষ্টদের অনীহা কারণেই এমন দুঃখজনক ঘটনার অবতারণা হয়েছে। দেশের চামড়া প্রক্রিয়াকারী ট্যানারি মালিকেরা গত বছর চামড়া কেনার জন্য বাজারে পর্যাপ্ত টাকা ছাড়েননি বলে অভিযোগ রয়েছে। চাহিদা কম থাকায় দামও একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে নেমে আসে। বিষয়টি একেবারে বিরক্তিকর পর্যায়ে পৌঁছার কারণে অনেকে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।
এমতাবস্থায় ট্যারিফ কমিশন চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে। গত বছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার নির্ধারিত দর ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। এবার কমিশন তা ৩০ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া ছাগলের চামড়ার দর প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকার জায়গায় ১৫ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে কমিশনের প্রস্তাবে। তবে চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করাকে অনেকেই যৌক্তিক মনে করছেন না। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত ক্রমবর্ধমান হলেও আমাদের দেশের কাঁচা চামড়ার দাম কমানো আত্মঘাতিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবশ্য কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চামড়া দিয়ে যেসব পণ্য তৈরি হয়, সেখানে এখন সিনথেটিক বস্ত্র ও কৃত্রিম চামড়ার ব্যবহার বেড়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী চামড়ার দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ৫০ সেন্ট থেকে দেড় মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ধরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম দাঁড়ায় ৪৩ থেকে ১২৯ টাকা। কিন্তু এই তথ্যকে সংশ্লিষ্টরা যৌক্তিক মনে করছেন না। কারণ, চামড়ার বিকল্প ব্যবহার শুরু হলেও চামড়াজাত পন্যের তা স্থলাভিষিক্ত হতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্যহ্রাসের খবর বস্তুনিষ্ঠ নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
দেশে প্রতিবছর ঈদুল আজহায় ১ কোটি ১০ লাখের মতো পশু জবাই হয়। এগুলোর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ গরু-মহিষ। ঈদুল আজহায় জবাই হওয়া পশুর স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য ভালো থাকে। সঙ্গত কারণেই চামড়ার মান খুব ভালো হয়। তাই ট্যানারিগুলো মোট চামড়ার ৫০ শতাংশই সংগ্রহ করে ঈদুল আজহায়। প্রতিবছরই ঈদুল আজহার আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীরা বৈঠক করে চামড়ার একটি দাম নির্ধারণ করা হয়।
১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশী প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত পশম ছাড়ানো (ওয়েট ব্লু) চামড়া রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ওই সময় দেশে মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই ব্যবসায়ীরা আধুনিক যন্ত্রপাতি এনে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের দ্বিতীয় ধাপ ‘ক্রাস্ট’ ও তৃতীয় ধাপ ‘ফিনিশড লেদার’ উৎপাদন শুরু করেন। অবশ্য ১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রাথমিকভাবে সুফলও পাওয়া গিয়েছিল। ধীরে ধীরে প্রক্রিয়া করা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়তে থাকে। এ খাতে প্রচুর বিনিয়োগও আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে আমাদের চামড়াশিল্পে বড় ধরনের ধ্বস নেমেছে।
বাংলাদেশ থেকে চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, জাপান ও স্পেনের মতো দেশে ‘ক্রাস্ট’ ও ‘ফিনিশড লেদার’ রপ্তানি হতো। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে সে ধারাবাহিকতাও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আর এই ধ্বসটা শুরু হয়েছিল চীনকে দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর শুল্ক বাড়ানোয় তারা বাংলাদেশি চামড়া আমদানী করা হ্রাস করেছে। দামও একেবারে প্রান্তিকতায় নামিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪০ কোটি ডলারের চামড়া রপ্তানি হয়েছিল। সেটা চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১১ মাসে নেমেছে ৯ কোটি ডলারে।
দেশের চামড়াশিল্পে দুর্দিন একেবারেই সর্বসাম্প্রতিক নয়। কিন্তু প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস অবস্থার আরও অবনতি ঘটিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্প খাতে এখন বন্ধ রয়েছে সব ধরনের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি। দেশের রপ্তানিমুখী চামড়ার তৈরি পাদুকা ও অন্যান্য চামড়াজাত পণ্যের শিল্পমালিকরা বলছেন, গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত করোনার কারণে ১৯ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি আদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। ফিনিশড লেদার রপ্তানিকারকদের হিসাবে, করোনার কারণে রপ্তানি আদেশ বাতিল ও স্থগিতের কারণে এক হাজার থেকে ১২শ কোটি টাকার সমপরিমাণ রপ্তানি আদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। সে হিসাবে করোনার কারণে দেশের চামড়া ও চামড়ার তৈরি পণ্যের শিল্পের ক্ষতি দুই হাজার ৫শ কোটি থেকে দুই হাজার ৮শ কোটি টাকা। এ ছাড়া এ সময় নতুন করে যে রপ্তানি আদেশ আসত, তার ক্ষতি যোগ করলে তা তিন হাজার কোটি টাকার বেশি হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, করোনার কারণে চামড়া খাতে, বিশেষ করে পাদুকাশিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কমপক্ষে দুই বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।
 বৈশ্বিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডাব্লিউজি) অনুমোদনহীন কোনো ট্যানারি থেকে চামড়া কেনে না ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ব্র্যান্ডগুলো। আর সাভারের চামড়াশিল্প সেই অনুমোদন অর্জন করতে পারেনি। কারণ কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) কাজই পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখন ফিনিশড লেদার বা প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানিতে ভরসা একমাত্র চীন। দেশটিতে মোট ফিনিশড লেদারের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ রপ্তানি হয়। এ ছাড়া ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, জাপান এসব দেশেও কিছু কিছু রপ্তানি হয়। তবে চামড়াজাত পণ্য ও চামড়ার তৈরি জুতা রপ্তানি হয় ইউরোপ, আমেরিকা, ফ্রান্সসহ প্রায় সব দেশেই।
আমাদের দেশের চামড়াশিল্পের দিনকাল খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। তার ওপর করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পুরো শিল্পকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আর এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা খুব একটা সহজসাধ্য হবে বলে মনে হচ্ছে না। মূলত আমাদের প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা। এসব দেশের অর্থনীতিতে মন্দাভাবের কারণে আমাদের রপ্তানি গত আট মাসে ১১ শতাংশের মতো কমেছে। করোনার কারণে অর্থনীতি আরো খারাপ অবস্থায় গেলে বাজার ঠিক কোন দিকে যাবে তা বলা মুশকিল। সব মিলিয়ে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে আমাদের চামড়াশিল্প। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমরা যেসব দেশে পণ্য রপ্তানি করি, সেসব দেশের রিটেইলারদের ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। ফলে তারা পণ্য আমদানিও বন্ধ রেখেছে। কিছু ক্ষেত্রে বাতিলও হয়েছে। তবে যেগুলো বাতিল হয়নি, সেগুলোর ব্যাপারে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার্স ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসাবে, গত ডিসেম্বর থেকে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় এক হাজার ৬শ কোটি টাকার চামড়ার তৈরি পণ্য ও পাদুকা রপ্তানির আদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া কারখানা বন্ধ থাকায় ব্যবসা করতে না পেরে ক্ষতি হয়েছে আরো অনেক।
২০২১ সালের মধ্যে চামড়া খাত থেকে ৫শ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০১৭ সালে চামড়াকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছিল সরকার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ১১৬০.৯৫ মিলিয়ন ডলার। পরের বছর (২০১৬-১৭) রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ১২৩৪ মিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.২৯ শতাংশ। পরের বছর এই খাত থেকে রপ্তানি আয় কমে যায় ১২.০৩ শতাংশ। সে বছর (২০১৭-১৮) রপ্তানি হয় ১০৮৫.৫১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় আরো ৬.০৬ শতাংশ কমে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১০১৯.৭৮ মিলিয়ন ডলার।
সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরের (জুলাই-মার্চ) আট মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি হয়েছে ৬৩ কোটি ১৮ লাখ ডলারের সমপরিমাণ। আগের অর্থবছরে একই সময়ের চেয়ে যা ৯ শতাংশ কম। আর এই আট মাসের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাড়ে ১২ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আট মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি হয়েছিল ৬৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বিদায়ী অর্থবছরের শেষ আট মাসে এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ কোটি ২২ লাখ ডলার।
আমাদের প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানির প্রধান বাজার হচ্ছে চীন। মোট রপ্তানির ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশই দেশটিতে রপ্তানি হয়। করোনার কারণে দেশটিতে আমাদের রপ্তানি বন্ধ থাকায় উৎপাদিত পণ্যগুলো নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে ২৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নববর্ষের আগে ১২০ থেকে ১৩০টি কনটেইনার মালের অর্ডার ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেগুলো রপ্তানি করা যায়নি। ফলে আমাদের দেশের চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
চামড়া শিল্প একটি অতি সম্ভবনাময় শিল্প। বিশাল জনগোষ্ঠীর আমিশের চাহিদা পূরুণের জন্য সারাবছরই পশু জবেহ করতে হয়। বিশেষ করে ঈদুল আজহায় ১ কোটি ১০ লাখেরও অধিক পশু কোরবানী করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য এই বিশাল চামড়া ভান্ডারকে যথাযথ কাজে লাগাতে পারি না। মূলত সরকারের যথাযথ উদ্যোগের অভাব ও সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের এই সম্ভবনাময় শিল্প এখন ক্রমেই প্রাণহীন হতে শুরু করেছে। তাই এই শিল্পের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকেই কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
inhuda71@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ