বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বন্যা দুর্গতরা খাদ্য সংকটে ॥ ভাঙছে নদী, কাঁদছে মানুষ

কুড়িগ্রামে বন্যা

মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ওপরদিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, ঝিনজিরাম ও গংগাধরসহ সকল নদ-নদীর পানি ধীর গতিতে কমতে থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নদ-নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যা দুর্গতদের। চলমান করোনা ও বন্যা পরিস্থিতিতে হাতে কাজ না থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় সরকারি বেসরকারি সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন হতদরিদ্র পরিবারগুলো।
এদিকে বন্যার ধকল শেষ হতে না হতে পানি বাড়া-কমার সাথে সাথে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের বেশ কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর তীব্র বাসস্থানের  সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়ে খাদ্য সংকটও। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের বসবাস। সবমিলিয়ে তাদের জীবন যাপন চলছে অতি কষ্টে।
বন্যাকবলিত এলাকায় সকল ধরনের খাদ্যসহ শিশু ও গবাদিপশুর খাদ্য সংকট নিয়েও বিপাকে পড়েছেন বানভাসী মানুষেরা। এসব এলাকার রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের জাহাজের আলগা গ্রামের আমান উদ্দিন ও রহমত আলী জানান, বাড়ি থেকে এখনও পানি নেমে যায়নি। কাজকর্ম সব বন্ধ রয়েছে। ঘরে খাবার নেই, ধার দেনাও করার উপায় নাই। এ অবস্থায় সরকারি সহযোগীতা ছাড়া ছেলে মেয়ে নিয়ে বাঁচার কোন উপায় নাই।
বন্যা কবলিত এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে বন্যার্তদের জন্য যে পরিমাণ সহযোগিতার প্রয়োজন তার ১০ ভাগের এক ভাগও মিলছে না।
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: বেলাল হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নের বন্যা কবলিতদের জন্য মাত্র ৩০০ প্যাকেট বরাদ্দ পেয়েছি। আর পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা হলো সাড়ে ৩ হাজার। শনিবার নৌকা নিয়ে এই ৩০০ প্যাকেট বিতরণ করেছি। বন্যা কবলিত মানুষেরা খুবই কষ্টে আছি। তাদের জরুরী খাদ্য সহায়তা দরকার বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো: রেজাউল করিম জানান, বন্যা শুরুর পরপরই জেলার বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে সরকারি ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকার শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলছে।
অপরদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী কুড়িগ্রামের ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানি ধীরগতিতে  হ্রাস অব্যাহত রয়েছে।
ভিন্নদিকে কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশন রংপুর এ্যারিয়া
সেনা বাহিনীর ৭২ ও ৩০ ব্রিগেডের ব্যাবস্থাপনায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ও চিলমারী উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপর আশ্রয় নেয়া ৩শ বানভাসী মানুষকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল, লবণ তেল ও আলুসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়।
এসময় ক্যাপ্টেন মিজান উর রশীদ ভুঁইয়া, লেফটেন্যান্ট ইজাজ আহমেদ সার্জন, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার শেখ মাহবুবুল মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

পানিবন্দী মানুষের চরম দুর্ভোগ
গাইবান্ধা সংবাদদাতা: ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি কমা অব্যাহত থাকলেও তিস্তা এবং করতোয়া নদীর পানি কিছুটা বাড়ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বিপদসীমার ৫২ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করায় নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দু’দিনে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার ৯টি পয়েন্টে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। তবে ধীরগতিতে পানি কমতে থাকায় পানিবন্দী পরিবারগুলো চরম জনদুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ