মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সারাদেশে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব ২০ দলের

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার প্রতিরোধে অবিলম্বে সারাদেশে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব করেছে ২০ দলীয় জোট। একইসাথে করোনায় বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিতের দাবি জানিয়েছে তারা। গতকাল সোমবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এই দাবির কথা জানান। রোববার ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো জানাতেই এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
২০ দলীয় জোটের ভার্চুয়াল বৈঠকে ২২টি দলের মধ্যে ১৯টি দলের শীর্ষ নেতারা ছিলেন। এরা হলেন, বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার,জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যের এম এ রকীব, জমিয়তে উলামা ইসলামীর আল্লামা নুর হোসেনেই কাশেমী, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ডেেেমাক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীব নেওয়াজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের, এনডিপির আবু মো. তাহের, জাগপার খোন্দকার লুদফুর রহমান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম ও বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকী।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত রোববার ২০ দলীয় জোর্টের শীর্ষ নেতারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দেশের প্রত্যেকটি শ্রম ঘন এবং ঘন বসতিপূর্ণ অঞ্চলে কোবিড পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনে এবং পরবর্তিতে সেগুলো সরকারি-বেসরকারি যৌথ মালিকানায় পরিচালনার জন্য ২০ দল প্রস্তাব করছে। সমাজের অর্থবান ব্যক্তিদের এব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার জন্য আমরা আহবান জানাচ্ছি। ২০ দল মনে করে এ ব্যাপারে সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ও বন্ধু প্রতীম বিভিন্ন রাষ্ট্র সহযোগিতা করতে পারে। থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো আমাদের দেশের মন্ত্রী-এমপি-জনপ্রতিনিধি-জননেতা-উধর্বতন আমলারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হতো’ বলে মনে করে ২০ দল বলেন নজরুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে কোবিড-১৯ সংক্রমণ পরীক্ষার ফি বাতিলের দাবিও জানিয়েছে ২০ দল।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে ‘অহেতুক সময়ক্ষেপ’, বিদেশ থেকে নিম্নমানের কিট,মাস্ক, পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রিতে দুর্নীতিতে ক্ষোভ প্রকাশও করেছে ২০ দল। এটা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, ক্ষমাহীন অপরাধ যার তদন্ত ও শাস্তি হওয়া দরকার বলে ২০ দল দাবি করে।
বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল আদায় ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিতের দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২০ দলীয় জোটের সভায় সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান যথা বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল পরিশোধে বিপন্ন জনগনকে বাধ্য করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এইসব বিল আদায় স্থগিত ঘোষণা এবং কর্মহীন-দরিদ্র মানুষের জন্য বিল মওকুফ করার জোর দাবি জানানো হয়। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২০ দল বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যথা সম্ভব ঘরে থাকা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং ই-কমার্সের সুযোগের পাশাপাশি আত্বীয়-বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বহুল ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল চার্জের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছে।
সংসদে পাস হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ,এডিবি,দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিপিডিসহ আন্তর্জাতিক কিংবা দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে যে বাজেট প্রনয়ন করা হলো তা দরিদ্র গণমানুষের কোনো কল্যাণ করবেন না। ধনবান এবং ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা করবে বলে ২০ দল এই বাজেট প্রত্যাখান করছে।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পূর্ণবাসনের সহায়তা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে ২০ দল। রাষ্ট্রায়াত্ব পাট বন্ধের বিষয়ে ২০ দলের অবস্থান তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পাটকল বন্ধ করার ফলে পাটচাষীরা যে অনিবায্র্ ক্ষতির সম্মুখীন হবেন সেই ক্ষতি পুরনে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছে ২০ দল। ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন ২০২০’ নামে নতুন আইনের খসড়া প্রনয়নে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগকে ‘অসময়োপযোগী’, ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘উদ্দেশ্যমূলক’ হিসেবে অভিহিত করে এই উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ২০ দল।
সভায় করোনা মহামারিতে আক্রান্তদের সংখ্যা নিরূপনে সমন্বয়হীনতা, পর্যাপ্ত সংখ্যক সাম্ভব্য আক্রান্তদের টেস্ট সুবিধা প্রদান, যথাসময়ে সুচিকিৎসা প্রদান, ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ানদের যথাসময়ে প্রশিক্ষণ না দেয়া এবং দেশের সকল সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ও অবহেলা এবং সর্বোপরি প্রথম থেকেই করোনা মহামারি বিস্তার রোধে সরকারী কর্মপরিকল্পনার ক্ষমাহীন দুর্বলতায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে যতদূত সম্ভব এসব নিরসনে জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়। ২০ দল শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য বেতন পরিশোধ ও ছাঁটাই না করার শর্তে ক্ষুদ্র, মাঝারী ও কুটির শিল্পসহ সব শিল্পকে প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের দাবি জানাচ্ছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২০ দল মনে করে যে, মাত্র এক বছর হাতে গোনা কিছু ক্ষমতাধর দুর্নীতিবাজ মানুষ যে পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করে কিম্বা সুইস ব্যাংকে জমা করে কিম্বা বেগম পাড়ায় অথবা সেকেন্ড হোমে বিনিয়োগ করে তা উদ্ধার করা গেলে কোভিড মহামারি নিয়ন্ত্রণ কিম্বা স্বাস্থ্যখাতের স্থায়ী উন্নয়নের জন্য কারো কাছে হাত পাতার প্রয়োজন হবে না।
২০ দলীয় জোটের ত্রাণ তৎপরতা আরো সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান নজরুল  ইসলাম খান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ