বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

করোনা চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের অনিহা!

খুলনা অফিস : খুলনায় সরকারি হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বেসরকারি ক্লিনিকে করোনা রোগী ভর্তির সিদ্ধান্ত হলেও তাতে অনিহা প্রকাশ করেছে হাসপাতাল-ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। অবকাঠামো সংকটসহ নানা সমস্যার কথা বলছেন বেসরকারি হাসপাতালের মালিকরা। একই সাথে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতো প্রণোদনা দাবি করছেন। তবে আগামী তিনদিনের মধ্যে করোনা রোগী ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়েছে প্রশাসন। অন্যথায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে খুলনায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫২৫ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও করোনার উপসর্গ নিয়ে আরও ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা আতংক বাড়ছে। দিনকে দিন করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় এখন মানুষের মনের মধ্য ভয় সৃষ্টি হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ সোমবার সকাল ৬টায় খুলনা সদর হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার খান (৫৮) মারা গেছেন। মৃত গোলাম সারোয়ার খানের ছেলে কেএম সাদিক হাসান সানি জানান, গত ৪ জুলাই তার বাবা গোলাম সারোয়ার খানের করোনার রিপোর্টে পজিটিভ আসে। সোমবার সকাল ৬টায় খুলনা সদর হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি বরিশাল জেলার আগৈলঝরা উপজেলায়। এ নিয়ে খুলনায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হলো। অপরদিকে, করোনার উপসর্গে ইমাম হোসেন বাচ্চু (৫৫) নামে আরেক জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত বাচ্চু নগরীর রায়েরমহলের সৈয়দ আলতাফ হোসেনের ছেলে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ফ্লু কর্নারের মুখপাত্র ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, সর্দি, জ¦রসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে ইমাম হোসেন বাচ্চু খুমেকের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান ডা. ফরিদউদ্দিন আহমেদ।
এদিকে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড সংকট দেখা দিয়েছে। খুলনা জেনারেল হাসপাতালে আগমী সপ্তাহ ৪২ বেডের সাধারণ করোনা রোগিদের সেবা দেয়া সম্ভব। খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আজমেদ বলোন, বর্তমানে খূলনায় করোনার কীটোর সংকট নেই। মজুদ কীটের পরিমাণ খুলনায় ২৪৩৫টি। এর মধ্যে মহানগরীতে রয়েছে ১৯২৫টি।
সিভিল সাজর্ন ডা. সুজাত আহম্মেদ বলেন, আক্সিজেন প্লান চালু করতে পারলে ৪২ বেডে করোনা সাধারণ রোগীর পাশপাপাশি মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের ভর্তি করা যাবে। যার কারণে আপাতত সাধারণ রোগী কম আছে। নতুন ৪২ বেডের প্রস্তুতির প্রায় ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মনজুরুল মুরশিদ বলেন, খুলনা জেলায় সব থেকে বেশি করোনা রোগী হওয়ার কারণ হল এখানে জনবসতি বেশি। নিয়ন্ত্রণ বা সামাজিক দূরত্ব কম। অথচ মেহেরপুর জেলায় প্রথম থেকেই সামাজিক দূরত্বে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকায় পজেটিভ কম পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের করোনা শনাক্তের পরীক্ষার রিপোর্ট (নেগেটিভ ও পজিটিভ উভয় ক্ষেত্রে) অতি দ্রুততার সাথে মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে সিভিল সার্জনের দপ্তর জানানোর ব্যবস্থা করবে।
স্বাস্থবিধি না মানায় ১২৫২টি মামলায় ১৭ লাখ ১২ হাজার টাকা জরিমানা : গত ২০ মার্চ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত খুলনা জেলা ও মহানগরীতে সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থবিধি না মানাসহ করোনা ভাইরাস কোভিড (১৯) সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোর্টে ১ হাজার ২৫২টি মামলা এবং ১৭ লাখ ১২ হাজার ৯শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের নির্দেশনায় রোববার রেড জোন ঘোষিত খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়ন এবং খুলনা মহানগরীর ১৭ নং ও ২৪ নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাস্ক পরিধান না করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার দায়ে, গণবিজ্ঞপ্তির আদেশ লঙ্ঘন করে মোটসাইকেলে একাধিক ব্যক্তি আরোহন, সরকার নির্দেশিত সময়ের পরও দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে এবং রেড জোন ঘোষিত এলাকায় গণবিজ্ঞপ্তির আদেশ অমান্য করার দায়ে ১৬টি মামলায় ৩১ হাজার ৭শ’ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি লকডাউন করেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুল ইসলাম, দেবাশীষ বসাক এবং এস এম রাসেল ইসলাম নূর।
এদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক পরিচালিত মোবাইল কোর্ট এক ঠিকাদারকে রেড জোন এলাকায় কনস্ট্রাকশন কাজ চালানোর দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং রেড জোন এলাকার ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কনস্ট্রাকশন কাজ বন্ধ রাখার আদেশ দেন। মোবাইল কোর্টের অভিযানে সহযোগিতা করেন পুলিশের সদস্যরা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধসহ অন্যান্য অপরাধ নিবারণে জেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইসলামী ব্যাংকের ফুলতলা শাখা লকডাউন ঘোষণা : ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ফুলতলা শাখা সোমবার থেকে ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ফুলতলা উপজেলায় প্রথম কোন প্রাতিষ্ঠানিক লকডাউন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ কামাল হোসেন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গত ৩ জুলাই পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের ফুলতলা শাখায় ৬ কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হয়। আক্রান্তরা হলেন- মাসুম বিল্লাহ, আলী হোসেন, হাফিজুর রহমান, আবুল হাসান, আব্দুস সালাম ও মো. হাসান খান। এ ব্যাপারে পত্রিকায় ইসলামী ব্যাংক ফুলতলা শাখার ৬ জন কর্মকর্তার করোনা পজেটিভের কথা প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় রোববার বেলা ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পক্ষে ডা. মিঠুন বাহাদুর, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পক্ষে এসআই তাপস কুমার দত্ত, দামোদর ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভূঁইয়া শিপলু ফুলতলা বাজারের রফিক সড়কে ইসলামী ব্যাংক ফুলতলা শাখায় উপস্থিত হয়ে স্টিকার লাগিয়ে এবং লাল পতাকা উড়িয়ে লকডাউনের ঘোষণা দেন। ইসলামী ব্যাংক ফুলতলা শাখার ব্যবস্থাপক মো. রুস্তম আলী জানান, আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক ফুলতলা শাখা লকডাউন অবস্থায় থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ