বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুটের অভিযোগ

মাগুরা সংবাদদাতা: কেউ দেখার নেই, গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুটের অভিযোগ। সেচের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন, পানি নিষ্কাশন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ এ ত্রিমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৫৪ সালে প্রথম দিকে গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প শুরু করা হয়। ১৯৬২ সালে সেচ দান শুরু হয় উচ্চ ফলনশীল ধান চাষের মাধ্যমে মাগুরার কৃষকরা বছরে দুবার ধান উৎপাদন করেন। এলাকার চাষিদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটে। মাগুরা, ঝিনাইদহ, শৈলকুপাসহ বৃহত্তর যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গার ১৩ উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এ প্রকল্পের স্থাপনা সমূহ। অরক্ষিত অবস্থায় পরে আছে ৪ কোটি টাকার সম্পদ। এর মধ্যে রয়েছে অফিসারদের বাসা, অফিস ঘর, রাস্তা, আসবাবপত্র ও জায়গা জমি। করোনা ভাইরাসের এমন দিনেও অবহেলিত অবস্থায় পরে থাকা দেশের এ বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের মূল্যমান জিনিসপত্র এক শ্রেণির লুটেরা লুটপাট করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৫৫-৫৬ অর্থ বছরে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। তৎকালীন সরকার কাজের সুবিধার্থে গঙ্গা-কপোতাক্ষ নামক সেচ প্রকল্পকে দুই ভাবে ভাগ করেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ৫৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে  ১৯৮৩ সালে শেষের দিকে কার্যক্রম শেষ হয়। ২শ ২০ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে প্রকল্পের পুনবাসন শুরু হয় এবং শেষ হয় ১৯৯৪ সালে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর মাগুরা, শ্রীপুর ও শৈলকুপার আধুনিক পদ্ধতিতে চাষবাস শুরু করেন। তাদের মুখে ফোটে হাসি। কুষ্টিয়া, ভেড়ামারায় এ সেচ প্রকল্পের পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়। ১শ ৯৩ কি.মি সেচ খাল, ৪শ ৬৭ কি.মি শাখা সেচ খাল, ৯শ ৯৫ কি.মি উপ শাখা সেচ খাল খনন করা হয়। ২ হাজার ১শ ৯৪টি পানি নিয়ন্ত্রন অবকাঠামো ২শ’ ২৮ কি. মি. সড়ক, ১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প পরিচালনার জন্য মাগুরা, শ্রীপুর, লাঙ্গলবাঁধ সহ  বিভিন্ন স্থানে অফিস, বাসা, সেকশন, সাবডিভিশন ও ডিভিশনাল অফিস নির্মান করা হয়। কর্ম চঞ্চল হয়ে ওঠে প্রকল্পটি সেচের আওতাধীন চাষীদের প্রশিক্ষনের জন্য ৪৯টি চাষি (পাকা) ক্লাব ভবন নির্মাণ করা হয়। ৭টি  উপজেলায় গঠন করা হয় ৭শ ৪৯টি সমিতি। ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে অফিস গুটিয়ে নেয়া হয়। মাঠ পর্যায়ের লোকবল কমে যায়। অরক্ষিত হয়ে পরে প্রকল্প এলাকা। মাগুরার নাকোল, আমলসার, গোয়লদা, সাচিলাপুর, কাতলাগারী, কবুতর হাট, আবাইপুর, বাকড়ী, গাড়াগঞ্জ, উজানগ্রাম, ভাটোই, পুটিমারি, আলমডাঙ্গা, হরিনাকুন্ড, পোড়াদাহ, ডিভিশনাল, সাব ডিভিশনাল ও সেকশন অফিস গুলো দিন দিন অরক্ষিত ভাবে পরে আছে। বাসা বাড়ির জানালা-দরজা, মূল্যবান গাছগাছালি, ব্রীজের রেলিং ভেঙ্গে লোহার রড, ইট এসব কিছু সংঘবদ্ধ লুটেরা লুট করে নিচ্ছে, যেন দেখার কেউ নেই। ১৯৬০ সালে জাপানের তৈরি তিনটি পাম্প মেশিন স্থাপন করা হয়। এই মেশিন গুলো অকেজ হয়ে পড়ে আছে । দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান প্রকৌশলী জানান, নতুন করে পাম্প মেশিন স্থাপনের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডার আহ্বান করা হয় কিন্তু মামলা মোকদ্দমায় এ ফাইলটি আটকে আছে। ২০০১ সালে সাগরখালী সেচ খাল কেটে দেওয়ায় ৭০ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রকল্পে  দায়িত্ব নিয়োজিত প্রধান প্রকৌশলী আরো জানান, সাইফুন নির্মান শেষের পথে শীর্ঘই পানি সরবরাহ করা যাবে। ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাগরখালী বড়বিলা প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও শেষ হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ