ঢাকা, শনিবার 15 August 2020, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

করোনার মাঝে জুন মাসেই সড়ক দুর্ঘটনায মৃত্যু ৩৬১, আহত ৩৪৮

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: দেশে করোনা পরিস্থিতির মাঝে সারাদেশেই সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলছে। তবে এর মাঝেও থেমে নেই সড়ক দুর্ঘটনা।রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে জুন মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৯৭টি। এতে নিহত হয়েছেন ৩৬১ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে ৩২ শিশু ও নারী রয়েছে ৫৭ জন।জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে। মে মাসে ২১৩টি দুর্ঘটনায় ২৯২ জন নিহত হয়েছিলেন। 

আজ রোববার (৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই তথ্য জানায়।

৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১০৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯৪ জন, যা মোট নিহতের ২৬.০৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৪.৬৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৭৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১.০৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৯ জন, অর্থাৎ ১৩.৫৭ শতাংশ। এই সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত ও ২৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ৬টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত মে মাসের তুলনায় জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে। মে মাসে ২১৩ টি দুর্ঘটনায় ২৯২ জন নিহত হয়েছিলেন। এই হিসাবে জুন মাসে দুর্ঘটনা ৩৯.৪৩% এবং প্রাণহানি ২৩.৬৩% বেড়েছে। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ২৭৭ জন, অর্থাৎ ৭৬.৭৩%।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি, দ্রুতগতি, অদক্ষ চালক, চালকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ১০টি কারণ তুলে ধরে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৩১টি (৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ৯২টি (৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৫৩টি (১৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ২১টি (৭ দশমিক ০৭ শতাংশ) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। সংগঠনটি আরও জানায়, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৪০৭ টি।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ , রাজশাহী বিভাগে ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ , চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ , সিলেট বিভাগে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ঢাকায় ৬৪টি দুর্ঘটনায় ৮১ জন নিহত হয়েছে। আর কম দুর্ঘটনা সিলেট বিভাগে, সেখানে ১১ টি দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জন। একক জেলা হিসেবে ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে , ১৫টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত। সবচেয়ে কম পিরোজপুরে, ১টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বিষয়ক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একমাত্র জনসচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া অন্য সব বিষয় প্রাতিষ্ঠানিক, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। এর সাফল্য নির্ভর করে গণপরিবহন খাতের সুশাসনের ওপর। তাই রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধ বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ