মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রামে করোনা রোগী প্রায় ১০ হাজার

চট্টগ্রাম ব্যুরো : গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫০টি নমুনা পরীক্ষায় ২২০জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। নতুন শনাক্তদের মধ্যে নগরের ১৬২ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ৫৮ জন। চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৮৮জনে। রোববার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বিআইটিআইডি : গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের প্রধান করোনা পরীক্ষাগার ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-তে ১৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৪ জনের দেহে করোনা পজিটিভ মিলেছে। যাদের মধ্যে ১১ জন নগরের ও ৩ জন উপজেলার বাসিন্দা।
সিভাসু : চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি (সিভাসু) ল্যাবে আগেরদিনের চেয়ে কিছুটা বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সেখানে ২০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেছে মাত্র ২০ জনের শরীরে। যাদের ৩ জন নগরের ও ১৭ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
সিএমসিএইচ : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে প্রতিদিনের মতো সর্বাধিক নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করে দিনের সর্বোচ্চ ৯৩ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়, যাদের মধ্যে ৭৭ জন নগরের ও ১৬ জন উপজেলার বাসিন্দা।
চবি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে আগেরদিনের চেয়ে অর্ধেকের চেয়েও কম নমুনা পরীক্ষা করা হয়। মোট ৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করিয়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন ১০ জন। যাদের ৫ জন নগরের ও ৫ জন উপজেলার।
ইম্পেরিয়াল : অন্যদিকে, বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পায়নি সিভিল সার্জন অফিস।
শেভরণ : গত ২৪ ঘণ্টায় শেভরণ ল্যাবে আগেরদিনের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি ২০৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬ জন নগরের ও ১৭ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
কক্সবাজার মেডিকেল : এছাড়া, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করানো হলেও মেলেনি কোন রোগী।
 জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে নতুনভাবে করোনা শনাক্ত ৫৮ জনের মধ্যে আবাও সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যায় হাটহাজারী উপজেলায়। সেখানে ১৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। মিরসরাই উপজেলায় ১৩ জন করোনা রোগী। এছাড়া পটিয়ায় ৮ জন, রাউজানে ৪ জন, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও আনোয়ারায় ৩ জন করে, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে ২ জন করে, বাঁশখালী ও সীতাকুণ্ডে ১ জন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা.সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুনভাবে আরও শনাক্ত হয়েছেন ২২০ জন। তাতে করে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৮৮৮ জন। যাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮২৫ জন নগরের ও ৩ হাজার ৬৩ জন উপজেলার বাসিন্দা। নতুনভাবে করোনামুক্ত হয়েছেন ৩৯ জন। ফলে এ পর্যন্ত করোনামুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৫ জন। একইসময়ে করোনায় চট্টগ্রাম নগরে ও উপজেলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন মোট ১৮৯ জন, যাদের মধ্যে ১৩৭ জন নগরের ও ৫২ জন উপজেলার বাসিন্দা।
সবুজ ও পরিবেশ ঘাতকরা করোনার চেয়েও ভয়ংকর ভাইরাস - চসিক মেয়র
 চট্টগ্রাম ব্যুরো:চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ. ম নাছির উদ্দীন বলেছেন,  সবুজ উদ্ভিদ জগত মানবকুল সহ জীব-প্রাণীর বেঁচে- থাকার অবলম্বন। এ সুবজ উদ্ভিদ  মানব ও প্রাণীকূলকে বেঁচে থাকার অক্সিজেন জোগায় এবং  নির্গত  কার্বনডাই অক্সাইড টেনে নিয়ে  প্রাণ-প্রকৃতি জগতের ভারসাম্য রক্ষা করে। এ সবুজ উদ্ভিদের প্রতি অশেষ ঋণ থাকা সত্বেও আমরা কতটুকুই বা তা অনুধাবন করি ! আজ লাগামহীন সবুজ উদ্ভিদ নিধনের ফলে অক্সিজেন শূন্যতার সৃস্টি হচ্ছে। প্রকৃতির প্রতি মানুষের নির্দয় ও অবিবেচক আচরণের ফলেই আমরা আজ করোনাকালের দূর্যোগের ঘনঘটায় বিপর্যস্থ। মনে রাখতে হবে সবুজ উদ্ভিদ ও পরিবেশ ঘাতকরা করোনার চেয়ে ভয়ংকর ভাইরাস। এই সত্যকে উপলব্ধি করে চসিকের উদ্যোগে নগরীতে সবুজায়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি বর্ষার মৌসুমেই ৫০ লক্ষ চারাগাছ রোপন করা হবে।
 তিনি  গতকাল রোববার  সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন কালে একথাগুলো বলেছেন। তিনি বৃক্ষের গুরুত্ব, উপযোগিতা, কার্যকারিতা এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রতিরোধে একে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে অবিহিত করে বলেন, আমরা বহুবার প্রমাণ পেয়েছি যে, সবুজ উদ্ভিদ মানব ও প্রাণি জাতিকে প্রাকৃতিক মহাদূর্যোগ থেকে রক্ষা করে। এই তো কিছুদিন আগেও আম্ফান নামক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়টি তীব্র গতিতে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসার পথে সুন্দরবনের বৃক্ষ বেষ্টনী তার গতি রুদ্ধ করে দূর্বল করে দেয়। এই কারণে আম্ফানের আগ্রাসনে  কোলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ লন্ডভণ্ড হলেও করোনাকালে ভয়াভহ ক্ষতি থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। আজ এটাই প্রমাণিত হয় যে, সুন্দরবনের এই বৃক্ষ বেষ্টনী না থাকলে বাংলাদেশে মানুষের হাহাকার ভারি হয়ে উঠতো। আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, মানবকুল ও প্রাণি জগত উদ্ভিদ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করলেও একমাত্র উদ্ভিদই নিজে থেকেই নিজের খাদ্য সংগ্রহ করে। শুধু তাই নয় ওষুধ, বস্ত্র ও বাসস্থান যোগায়। ঝড়-ঝঞ্জার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে। শিল্পের কাচাঁমাল ও জ্বালানী যোগায়। শব্দ ও বায়ু দুষণ থেকে রক্ষা করে। সময়মত বৃষ্টিপাত ঘটাতে সহায়তা করে। উঞ্চায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। তাই পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই।  তিনি ক্ষোভ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল রক্ষায় বিপুল  অর্থ ব্যয়ে যে প্যারাবন বেষ্টণী গড়ে তোলা হয়েছে তা ভূমিদস্যুদের আগ্রাসনে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে। এই প্যারাবন উজাড় করে সেখানে অপরিকল্পিত মাছের ঘের করা হচ্ছে। এর ফলে আমাদের উপকূল অরক্ষিত বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসকল জনপদ বার বার লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহবান জানান। এ সময় প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাহেদুল কবির চৌধুরী, কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ হোসাইন, বন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয়সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে সিটি মেয়র শিক্ষার্থীদের হাতে ৫শত চারাগাছ বিতরণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ