ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 August 2020, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ওয়ারীর কয়েকটি এলাকায় লকডাউন শুরু, অনেকেই এলাকা ছাড়া

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: আজ শনিবার ভোর ৬টা থেকে করোনার বিস্তারে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত পুরান ঢাকার ওয়ারী লকডাউন শুরু হয়েছে।যা চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। ফলে এ এলাকার বাসিন্দারা টানা ২১ দিন ‘ঘরবন্দি’ জীবন কাটাবেন।

অবরুদ্ধ রেড জোনে ২১ দিন থাকবে সাধারণ ছুটি। এলাকার সরকারি-বেসরকারি সব অফিস-কারখানা বন্ধ থাকবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা এ এলাকায় বসবাস করেন, তারাও থাকবেন ছুটির আওতায়। দোকান-পাট, বিপণি বিতান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে, খোলা থাকবে শুধু ওষুধের দোকান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে (জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন) আউটার রোড এবং ইনার রোড হিসেবে লারমিনি রোড, হরে রোড, ওয়ার রোড, র্যানকিন রোড এবং নওয়াব রোড রেড জোনের আওতায় রয়েছে।প্রবেশ পথ খোলা রয়েছে দুটি। এলাকার বাসিন্দারা কেউ জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে চাইলে উপযুক্ত প্রমাণপত্র লাগবে। ই-কর্মাসের মাধ্যমে আসা জরুরি জিনিসপত্র বাসা-বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

লকডাউন চলাকালে চিকিৎসক-নার্স-সংবাদকর্মী ও খুব জরুরি সেবা সংস্থার গাড়ি ও কর্মী ছাড়া কেউ এলাকায় প্রবেশ বা বের হতে পারবেন না। এ সময় এলাকাবাসীর যাতে কষ্ট না হয়, সে জন্য ডিএসসিসি, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দিয়ে ঘরে ঘরে শাকসবজি পৌঁছানোরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর সেবা দিতে দুই শতাধিক তরুণকে নিয়ে একটি বড় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করা হয়েছে। তারা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন।

গতকাল শুক্রবার সরজমিনে দেখা গেছে, যে কয়েকটি রাস্তা দিয়ে এলাকাবাসী লকডাউন এলাকায় ঢুকতে বা বের হতে পারবেন, সেগুলো ছাড়া সব সড়ক বাঁশ-কাঠ-তার দিয়ে বিভিন্নভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর করোনা পরীক্ষার জন্য র‌্যাংকিং স্ট্রিটের ওয়ারী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে গতকালও এলাকাবাসীকে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে।

এদিকে, লকডাউন এড়াতে অনেকেই এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের সাধারণ ছুটি না থাকায় তাদের অনেকেই ২১ দিনের জন্য এলাকা ছেড়েছেন। আর যারা থাকবেন, তাদের দেখা গেছে গতকালও মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বেশি করে কিনে ঘরে নিতে। দোকানগুলোতে ছিল ভিড়। কারণ তারা মনে করছেন, পূর্ব রাজাবাজারে অনেকেরই পণ্য কিনতে সমস্যা হয়েছিল এবং বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা বেরোতে না পেরে বিপাকে পড়েছিলেন।

ডিএস/এইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ