শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আইনি জটিলতায় গভর্নরহীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবিরের মেয়াদ শেষ হলো গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গবর্নর হিসেবে ছিল তার শেষ কার্যদিবস। এদিকে গভর্নরের অবর্তমানে দুই ডেপুটি গভর্নরকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বর্তমানে অর্থমন্ত্রীও দেশে নেই। সব মিলিয়ে অন্তত কিছু দিনের জন্য গবর্নরহীন হয়ে পড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে,  অনেকটা আইনি জটিলতায়  গর্বনরের পুনর্নিয়োগ। গর্বনর ফজলে কবিরকে রাখতে সরকার আইনের সংশোধন করলেও তা সংসদে পাস হয়নি। তাই কত দিন গর্বনরশূন্য থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা কেউ বলতে পারছে না।          
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. জেহাদ উদ্দিন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের অবর্তমানে ডেপুটি গবর্নর-১ এস এম মনিরুজ্জামান ও ডেপুটি গভর্নর-২ আহমেদ জামাল দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান গবর্নর ফজলে কবিরের মেয়াদ শেষ হলো  গতকাল শুক্রবার  । অর্থাৎ এর পরদিন থেকেই গবর্নরের দায়িত্ব পালন করবেন এ দুই ডেপুটি গবর্নর।এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের অবর্তমানে দৈনন্দিন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে গবর্নরের যোগদানের আগ পর্যন্ত ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান ও আহমেদ জামাল নিজ নিজ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এসএম মনিরুজ্জামান গবর্নরের দৈনিক ডাক দেখবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাবেন। পরে নিয়োগপ্রাপ্ত গবর্নরকে ডেপুটি গভর্নরদ্বয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করবেন প্রয়োজনে কার্যোত্তর অনুমোদন গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এটা বর্তমান আইনেই বলা আছে যে, গভর্নরের অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করবেন দুই ডেপুটি গবর্নর। সেই অনুসারেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্যাকেজ বাস্তবায়ন হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাইডলাইনে। তাই সরকার বর্তমান গবর্নর ফজলে কবিরকে আরও দুই বছর রাখতে চায়। এ সংক্রান্ত আইনও সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আইনটি সংসদে এখনও পাস হয়নি। এছাড়া বর্তমানে অর্থমন্ত্রীও চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। সব মিলিয়ে আইন সংশোধনের আগে গবর্নর নিয়োগ দেবে না সরকার। আইন সংশোধন হলে পুনরায় ফজলে কবিরকে নিয়োগ দেয়া হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান গবর্নর ফজলে কবিরকে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নরের বর্তমান বয়সসীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করতে চলতি বছরের ৮ জুন মন্ত্রিসভায় আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। পরে সংশোধনীটি সংসদের বাজেট অধিবেশনে পাঠানো হয়। সংশোধনীটি ২৯ জুন সংসদের নোটিশে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত উত্থাপিত হয়নি। এদিকে সংসদের অধিবেশন ৮ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। ৩ জুলাইয়ের আগে সংশোধনীটি পাস না হওয়ায় গভর্নরকে অবসরে যেতে হচ্ছে। তাই নতুন গভর্নর নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত দুজন ডেপুটি গভর্নরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করার অফিস আদেশ জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ পদত্যাগে বাধ্য হন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. আতিউর রহমান। সে সময়ও অল্প কয়েকদিন গবর্নরহীন ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ দেশের ১১তম গবর্নর হিসেবে ফজলে কবিরকে নিয়োগ দেয় সরকার। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে থাকাই ১৯ মার্চ যোগ দেন। অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত সময় গবর্নর ছাড়া ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
জানা গেছে, গবর্নরের নিয়োগ নিয়ে কোনো নীতিমালা নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর হতে হলে কী কী যোগ্যতা থাকতে হবে, তাও কোথাও উল্লেখ নেই। আইনে শুধু বলা আছে, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর নিয়োগ দেবে। ফলে সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ীই নিয়োগ দেয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ এই পদে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ