শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বাস্তবিক ও মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের ফি ও ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে -ছাত্রশিবির

করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সাথে মেস মালিকদের অমানবিক আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীদের মেস ও বাসা ভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গতকাল শুক্রবার দেয়া যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, করোনার সংক্রমণ কমাতে সরকারের নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কেন্দ্রীক সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে দেশের লাখো ছাত্র-ছাত্রী। শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই আবাসিক হলে কিংবা মেসে থাকে। শিক্ষার্থীদের এ দুর্দশার কথা কারো অজানা নয়। কিন্তু সম্প্রতি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি তাদের মূল্যবান সনদপত্র, জরুরি কাগজপত্র, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছে মেস মালিকরা। যেখানে এই করোনা পরিস্থিতিতে সবার সহানুভূতিশীল হওয়ার কথা সেখানে শিক্ষার্থীদের প্রতি মেস মালিকদের এমন অমানবিক ঘৃণ্য আচরণে জাতি স্তম্ভিত। এমন নিকৃষ্ট আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা আগেই শিক্ষার্থীদের জন্য মেস-বাসা ভাড়া, সেমিস্টার ফি মওকুফ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সহায়তার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। এ কারণেই জাতিকে আজ এমন অমানবিক দৃশ্য দেখতে হলো।
নেতৃদ্বয় বলেন, শিক্ষার্থীদের কঠিন পরিস্থিতি এবং বাস্তব অবস্থা সরকার ও মেস মালিকদের বিবেচনা করা উচিৎ ছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের আর্থিক উৎসগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। টিউশনি আর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষমের টাকায় যাদের পড়াশুনা, মেস ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ চলত এমন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে।  ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থীর শুধু পড়াশুনারই ক্ষতি হচ্ছে না বরং তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। বহু শিক্ষার্থী অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দুরবস্থার দিকে কোন নজর দেওয়া হয়নি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগে থেকেই বিভিন্ন স্থানে সেমিস্টার ফি ও বাসা ভাড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দুরবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অজানা থাকার কথা নয়। চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি ও বাসা ভাড়া প্রদান করা দুরূহ। উল্টো তাদের অনেকের সার্বিক সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও তাদের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা ছাত্রসমাজ, অভিভাবক ও বিবেক সম্পন্ন প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে আঘাত লেগেছে। কোন ভাবেই শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায়না। আমরা অবিলম্বে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। বাস্তবিক ও মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি, মেস-আবাসিক হোস্টেলের সিট ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, সনদপত্রসহ মূল্যবান কাগজপত্র পুনরুদ্ধার এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় জাতিকে এমন অমানবিক চিত্র আরও দেখতে হতে পারে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, সরকারের জরুরি ফান্ড থেকে শিক্ষার্থী ও বিপদগ্রস্ত মানুষের দুর্দশায় সহায়তা করলে সহজেই এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। একই সাথে প্রয়োজন বাসা ও মেস মালিকদের মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধ। আমরা আশা করি শিক্ষার্থী ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে সার্বিক সহায়তা ও কষ্ট লাঘবে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাই যার যার অবস্থান থেকে মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ