শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

করোনায় বেকার ॥ দিশেহারা মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার: শওকত শরীফ। কাজ করছিলেন একটি বায়িং হাউজে। করোনা শুরুর প্রথম দুই মাস ঠিকমতো বেতন ভাতা পেলেও পরের মাসে সেটা অর্ধেকে নেমে আসে। তাতেও কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু জুলাই মাসের প্রথম দিনে মালিক জানিয়ে দেন আপাতত অফিসে আসা লাগবে না। মালিকের এমন ঘোষণায় তার বুঝতে বাকি নেই যে, চাকরি থাকলেও বেতন ভাতা আর পাবেন না। অফিসের এমন সিদ্ধান্তে দিশেহারা তিনি। পরিবার নিয়ে থাকেন মোহাম্মদপুর। দুই মেয়ে পড়ে প্রিপারেটরি স্কুলে। কিভাবে চলবে সংসার। এমন চিন্তায় মাথায় ভাজ পড়েছে। শওকত শরীফের মতো অবস্থা এখন রাজধানীসহ সারা দেশের দুই থেকে তিন কোটি মানুষের।
সূত্র মতে, দিন যতই যাচ্ছে, করোনা-সংক্রমণও তত বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে একাকিত্বের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া একের পর এক কল-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া বাড়ছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যাও। এসব কারণে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি, মৃতদের স্বজন ও বেকার ব্যক্তিদের মধ্যে বিষণ্নতা আশঙ্কাজনক বাড়ছে বলে মনে করছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
জানতে চাইলে মনোবিদ অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান বলেন, করোনা মানুষকে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অনেকে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সংকটের মধ্যে সময় পার করছে। দিন যতই যাচ্ছে, এই প্রবণতাও বাড়ছে। অনেকেই কর্ম হারাচ্ছেন। এছাড়া, অনেকের কর্ম হারানোর ভীতি রয়েছে। এতে বিষণ্নতা বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত হবে, একটি পরিকল্পনা তৈরি করা। সুনির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করা। যার মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি কর্মের নিশ্চয়তা থাকবে। তবে, সুস্থ থাকতে নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখার বিকল্প নেই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজা খানম বলেন, অনেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক ধরনের একাকিত্বে সময় কাটাচ্ছে। আবার অনেকে কর্মহীন হয়ে বেকার সময় পার করছে। আর এসব ঘটনা একজন মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই নানারকম দুশ্চিন্তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এক্ষেত্রে সবার প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, সরকার একেক সময় একেক উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু কোনোটাই সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে না। কারণ মানুষ ক্ষুধার্ত। তাদের মনে অস্থিরতা। মানুষের এসব সংকটের সমাধান করতে না পারলে সামাজিক কলহের পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতাও বাড়বে। তাই এখনই পরিকল্পনা করতে হবে।
ওয়েবভিত্তিক চিকিৎসা মাধ্যম ‘ডাক্তার বাড়ি’র প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. গওছুল আযম বলেন, এ করোনায় বড় সমস্যা বিষণ্নতা। তিনি আরও বলেন, ‘অ্যালকোহল বা ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে। ঘুমের প্যাটার্ন বদলানো যাবে না। পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। পাশাপাশি রুটিনমাফিক লাইফ স্টাইলও চালাতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এম এ সালাউদ্দিন কাউসার বলেন, প্রথম কথা হচ্ছেÑ এর নিয়ন্ত্রণ অনুকূল নয় তাই। এই ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে হবে। এর জন্য আমাদের সচেতনতা খুবই জরুরি। দ্বিতীয়ত, আমাদের ভালো থাকার জন্য যা যা করলে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে সেগুলো করতে হবে। এরপরও কারও বিষণ্নতা তৈরি হলে তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ