বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলের শিকার লক্ষাধিক গ্রাহক

স্টাফ রিপোর্টার : ভূতুড়ে বিলের শিকার হয়েছে এক লাখেরও কিছু বেশি গ্রাহক। গ্রাহকদের কাছ থেকে এই অতিরিক্ত বিল আদায়ের ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের জেরার মুখে পড়েছে বিতরণ কোম্পানির প্রধানরা। এ অবস্থায় কাল রোবাবার সাংবাদিক সম্মেলন করতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডিপিডিসি জানায়, তাদের ওভার বিলিং হয়েছে ১৮ হাজারের মতো, ডেসকোর ৪ হাজারের মতো, নেসকোর প্রায় ৫ হাজার গ্রাহক এ ধরনের বিল পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৭৬ হাজারের হিসাব পাওয়া গেলেও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে এটি এক লাখেরও কিছুটা বেশি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিলের হিসাব আরও অনেক বেশি। তারা কমিয়ে বলছেন। লুকানোর চেষ্টা করছেন জড়িতদেরও।
জানা যায়, বিতরণ কোম্পানির নিজস্ব তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিলের তদন্তে গঠন করা টাস্কফোর্সের কাছেও প্রতিবেদন জমা দিতে শুরু করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার  এক অনলাইন বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে দেশের ৫টি বিতরণ কোম্পানির প্রধানদের কাছে জানতে চাওয়া হয় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে তারা গত সাত দিনে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রত্যেকটি বিতরণ কোম্পানি আলাদা আলাদা করে তাদের পদক্ষেপগুলো জানিয়েছে। তারা জানায়, যেসব বিলে অভিযোগ ছিল তারা তা সমাধান করেছেন। গ্রাহকরা এখন খুশি।
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিতরণ কোম্পানিগুলো কাছে মূলত চারটি বিষয়ে সুস্পষ্ট উত্তর চাওয়া হয়েছে- কতগুলো বিদ্যুৎ বিলে ওভার বিলিং করা হয়েছে? এই ওভার বিলিংয়ের বিষয়ে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এই বিলিংয়ের সঙ্গে কতজন জড়িত। তাদের শোকজ করা হয়েছে কিনা? এসব প্রশ্নের জবাবে কোম্পানি প্রধানরা জানান, তারা নিজস্ব কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করছেন।
পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, রোববার  টাস্কফোর্সের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে। এরমধ্যে সবক’টি প্রতিবেদন আমরা যাচাই বাছাইয়ের কাজ শেষ করবে। কত ওভার বিলিং হয়েছে অথবা কারা জড়িত জানতে চাইলে তিনি তা এখনই বলতে রাজি হননি।
এদিকে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দিয়েছে টাস্কফোর্সের কাছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) নিজস্ব প্রতিবেদনও জমা পড়েছে। তবে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাইছেন না কেউ। বুধবার বিকালে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার কথা জানা গেছে। টাস্কফোর্স এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেবে।
এদিকে বিতরণ কোম্পানিগুলোর পৃথকভাবে করা তদন্ত প্রতিবেদনও তাদের হাতে আসতে শুরু করেছে। টাস্কফোর্স সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত বিতরণ কোম্পানি যে তথ্য দিয়েছে তাতে দেখা গেছে ৭৬ হাজার গ্রাহক বাড়তি বিলের জন্য বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এদের অনেকের বিল ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তবে এর বাইরেও লাখ লাখ মানুষের বাড়তি বিল এসেছে। যাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্চ থেকে মে তিন মাসেই গ্রাহকের ব্যবহার অতিরিক্ত বিল করাতে সারাদেশে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। শুরুতে গুরুত্ব না দিলেও মানুষের ভোগান্তি রোধে গত বৃহস্পতিবার একটি টাস্কফোর্স গঠন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। সাত দিন সময় দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সেই সাত দিন সময় শেষ হয়।
এদিকে জানা যায়, ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিও (ডিপিডিসি) নিজস্ব তদন্ত শেষ করেছে। বুধবার শেষ বিকেলে ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজ আমরা প্রতিবেদন দিয়েছি। অতিরিক্ত বিল আসা ১৮ হাজারের প্রায় সবগুলোই সমাধান করা হয়েছে। তবে এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন,আমি প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। খুলে দেখিনি। কাল এ বিষয়ে বলতে পারবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ