শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আসামীর মধ্যে ৫৩ জনই সাংবাদিক

স্টাফ রিপোর্টার: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে মত প্রকাশের জের ধরে দেশজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যাপকহারে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এই আইনে ১১৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। কেবল মত প্রকাশের কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২০৮ জন ব্যক্তি এসব মামলায় আসামী হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫৩ জনই সাংবাদিক।
এসব মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, লেখক, ও কার্টুনিস্টকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন।
আর্টিকেল নাইনটিনের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার করোনা প্রতিরোধে দুর্বলতা কাটানোর প্রতি মনোযোগী হবে। অথচ এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিন্নমত ও সমালোচনা দমনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় নবম শ্রেণির কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন ফারুখ ফয়সল।
আর্টিকেল নাইনটিন মতপ্রকাশজনিত অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করে। তাদের হিসাবে মতপ্রকাশজনিত ঘটনায় ২০১৮ সালে ৭১টি ও ২০১৯ সালে ৬৩টি মামলা রেকর্ড করে আর্টিকেল নাইনটিন। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সংস্থাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া ১১৩টি মামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে।
এ প্রসঙ্গে ফারুখ ফয়সল বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কারাবন্দীদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। ভার্চুয়াল আদালতে ৩০ দিনে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ৪৫ হাজার ব্যক্তির জামিন হয়েছে।’
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযুক্তরা খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো ভয়ঙ্কর কোনও মামলার আসামী নন। তবুও তাদের জামিন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের জামিন আবেদন এ পর্যন্ত আটবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া হতাশার বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে আর্টিকেল নাইনটিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ