শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

করোনায় আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে বিদেশী বিনিয়োগ

স্টাফ রিপোর্টার: করোনার কারণে এক ধরণের অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে। সবকিছুতেই স্থবিরতা বিরাজ করছে। মহামারি করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিদেশী বিনিয়োগে। সদ্যসমাপ্ত (২০১৯-২০) অর্থবছরের (জুলাই-মে) ১১ মাসে দেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। নিট বিনিয়োগ কমেছে ১৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে দেশের শেয়ারবাজারের বিদেশীরা যে পরিমাণ বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) করেছে তার চেয়ে বেশি তুলে নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর করা হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশে গত অর্থবছরের ১১ মাসে বিভিন্ন খাতে সবমিলিয়ে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৩৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, এর মধ্যে নিট বিদেশী বিনিয়োগ ছিল ১৯৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এফডিআই ছিল ৪৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং যার মধ্যে নিট এফডিআই ছিল ২৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরের ১১ মাসে এফডিআই কমেছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং নিট এফডিআই কমেছে ১৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
আলোচিত সময়ে শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) যা এসেছিল তার চেয়ে বেশি তুলে নেয়া হয়েছে। আগের অর্থবছরেও দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ কম ছিল। এবার এক্ষেত্রে ধস নেমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ (নিট) ছিল ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই ১১ মাসে বিদেশীরা যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছেন, তার থেকে ৭০ লাখ ডলার বেশি তুলে নিয়ে গেছেন।
এদিকে করোনায় রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬০৬ কোটি ৯০ লাখ (১৬ দশমিক ০৭ বিলিয়ন) ডলার। বহির্বিশ্বের সঙ্গে লেনদেনে বাংলাদেশের অবস্থাও ঋণাত্মক রয়েছে।
 কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ইপিজেডসহ রফতানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে তিন হাজার ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে চার হাজার ৬২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে মে শেষে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬০৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় (বিনিময় হার ৮৫ টাকা ধরে) প্রায় এক লাখ ৩৬ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। ঘাটতির এ অংক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময় ছিল এক হাজার ৪৯৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আলোচিত সময়ে আমদানি কমেছে ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ। রফতানি কমেছে ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। তবে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলেও গত সেপ্টেম্বর থেকে তা ঋণাত্মক হয়েছে। মে শেষে লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু গত কয়েক বছর উদ্বৃত্তের ধারা অব্যাহত থাকলেও গেল অর্থবছরে ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে।
গত অর্থবছরের মে শেষে চলতি হিসাবে ৪৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার ঋণাত্মক হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের সার্বিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে প্রথম ১১ মাসে সামগ্রিক লেনদেনে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৬৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি ছিল ৬৮ কোটি ডলার।
আলোচিত সময়ে সেবাখাতে বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কম রয়েছে। বিদেশীদের বেতনভাতা পরিশোধ, মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়। জুলাই-মে সময়ে এ খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। যা তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৯৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ