মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

প্রবীণ সাংবাদিক ফারুক কাজীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার : প্রবীণ সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপ-প্রেস সচিব এবং দেশের আইন, বিচার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ফারুক কাজী মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ফারুক কাজীর একমাত্র সন্তান আরশি কাজী জানান, সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় মৃত্যু হয় তার বাবার। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। ফারুক কাজী দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলার বাণী, বাসস, ইউএনবি, অবজারভারসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন।
আরশি কাজী বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে তার বাবার পায়ে ব্যথা ছিল। আস্তে আস্তে সেটা কোমড়ে চলে এসেছিল। আমরা ভাবছিলাম লকডাউন হল, প্রেসক্লাব বন্ধ, সবসময় অ্যাকটিভ একটা মানুষ ঘোরোফেরা করতে পারছেন না, এ কারণে হয়ত ব্যথা হচ্ছে। উনি সাইক্লিং করতেন বাসায়। ভেবেছিলাম পায়ের কোথাও টান লেগে থাকতে পারে।
কিন্তু ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তিন দিন আগে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ফারুক কাজীকে। সেখানে তার এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়। বৃহস্পতিবার সেই রিপোর্ট পাওয়া গেলে তাতে কিডনির জটিলতা ধরা পড়ে। ডাক্তার পেইন কমার যে ওষুধ দিয়েছিলেন দুদিন আগে, সেটা খেয়ে ৫৮ ঘণ্টা ধরে ঘুমাচ্ছিলেন। নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুমের মধ্যেই খাওয়ানোর চেষ্টা করেছি। একটা স্যালাইনও দিয়েছি। ভাবছিলাম আব্বু জেগে উঠবেন। কিন্তু আর না উঠে একেবারেই চলে গেলন। 
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের বর্তমান সভাপতি দৈনিক সমকালের সিনিয়র সাংবাদিক ওয়াকিল আহমেদ হিরন জানান, শুক্রবার জুমার পর কাঁটাবন জামে মসজিদে জানাযা শেষে মিরপুরে দাফন করা হয় তাদের সাবেক সভাপতিকে।
বাংলার বাণী ও বাংলাদশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) দীর্ঘদিন কাজ করা ফারুক কাজী ১৯৯৬ সালে নয়া দিল্লীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে বহু বছর কাজ করেছেন ইউএনবিতে। সেখানে তিনি ছিলেন প্রধান সংবাদদাতা। সর্বশেষ তিনি ছিলেন ইংরেজি দৈনিক অবজারভারে। ১৯৪৯ সালের ১৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন ফারুক কাজী। স্ত্রী ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ