শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সিলেট বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা এম. এ হকের ইন্তিকাল: দাফন সম্পন্ন

সিলেট বিএনপির অন্যতম প্রবীণ ও বর্ষীয়ান নেতা আলহাজ্ব এম. এ হকের গতকাল শুক্রবার দুটি জানাযা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়েছে -সংগ্রাম

সিলেট ব্যুরো: সিলেট বিএনপির অন্যতম প্রবীণ ও বর্ষীয়ান নেতা আলহাজ্ব এম. এ হক আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি শুক্রবার সকালে সিলেটের নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। এম. এ হক সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি ভিন্ন সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এম এ হকের ইন্তেকালে সিলেট জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার দুটি জানাযা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
শুক্রবার জুমআর নামাজের পরপরই এম এ হকের মরদেহ নগরীর যতরপুরস্থ তার বাসভবনে নেয়া হয়। তারপর বাদ আসর নগরীর মানিক পীর মাজার টিলায় তার প্রথম জানাযা সম্পন্ন হয়। জানাযা শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়ী বালাগঞ্জের কুলুমা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

বিভিন্ন মহলের শোক
এদিকে প্রবীণ বিএনপি নেতা এম হকের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পৃথক শোক বার্তায়ে নেতৃবৃন্দ মরহুম এম এ হকের মাগফেরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোক প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এড. নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা দক্ষিণের সাবেক আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা দক্ষিণের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুন ও মো: ফখরুল ইসলাম, জেলা দক্ষিণের নায়েবে আমীর মাওলানা লোকমান আহমদ, মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, জেলা উত্তরের সেক্রেটারী জয়নাল আবেদীন ও জেলা দক্ষিণের সেক্রেটারী মো: নজরুল ইসলাম, জানা যায়, নন্দিত প্রবীণ বিএনপি নেতা এম এ হক ১৯৫৪ সালের ১লা জুলাই সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজারের কুলুমা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বড় হয়ে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি যোগ দেন রাজনীতিতে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই জড়িত ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালের দল তাকে মূল্যায়ন করতে শুরু করে। দায়িত্ব দেয় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতির পদ। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও অর্পিত হয় হকের কাঁধে। একাধারে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১২ সালে সিলেট মহানগর বিএনপির কোন্দল মেঠাতে তাঁর উপর অর্পিত হয় দায়িত্ব। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রবীণ এই নেতার কাঁধে তুলে দেন মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে নিজেকে নিয়োজিত করেন। নিজের নামে গড়ে তুলেন হক ফাউন্ডেশন। দাতব্য এই সংস্থার মাধ্যমে সিলেটের অসহায় অভাবগ্রস্থ মানুষকে সহায়তায় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায়  শিক্ষিত করে তুলেছেন। বড় ছেলে ব্যারিস্টার রিয়াশাত আজিম আদনান যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ