রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গরুর লাম্পিস্কিন রোগ

পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, নীলফামারি, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমণিরহাট, গাইবান্ধা, নওগাঁসহ প্রায় সারাদেশে গরুর লাম্পিস্কিন রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়াসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলেও গরুর লাম্পিস্কিন রোগ নিয়ে লাইভ রিপোর্ট হয়েছে। রোগটি ভাইরাসজনিত। আক্রান্ত গরুর সারাশরীরে চাকা চাকা গোটা ওঠে। পরে ঘা হয়ে পচন শুরু হয়। অনেক গরু মারাও যায়। রোগটির সংক্ষিপ্ত নাম এলএসডি। এ রোগের নির্দিষ্ট কোনও প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন না থাকায় দ্রুত এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে কৃষকদের অনেক গরু মারাও গেছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হবার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ আরও জানায়, মশা-মাছির মাধ্যমে এ ভাইরাসজনিত লাম্পিস্কিন আক্রান্ত গরুর শরীর প্রথমে ফুলে গোটা ওঠে। কয়েকদিন পর গোটা ফেটে রস ঝরে। ফেটে যাওয়া স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। গরুর শরীরে প্রচ- জ্বর ওঠে এবং খাবার রুচি কমে যায়। জ্বরের সঙ্গে নাক ও মুখ দিয়ে লালা ঝরে। আক্রান্ত গাভীর দুধ খেলে বাছুর সংক্রমিত হবার আশঙ্কাও থাকে। আক্রান্ত গরুতে ব্যবহার করা সিরিঞ্জ এবং গরুর পরিচর্যাকারীর কাপড়ের মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে বলে পশুচিকিৎসরা জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এ ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য বাজারে পেনিসিলিন জাতীয় ওষুধের সংকট থাকায় তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আক্রান্ত গবাদি পশুকে বাধ্য হয়ে সেফটি অ্যাক্সন জাতীয় এন্টিবায়োটিক বেশি দামে কিনে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। ঠাকুগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, রোগাক্রান্ত প্রতিটি গরুর চিকিৎসাবাবদ ৫ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা মারাত্মক। এর বিহিত হওয়া উচিত। 

গবাদি পশুর ভাইরাসজনিত লাম্পিস্কিন অসুখটি যেহেতু মশা-মাছি থেকে ছড়ায় সেজন্য আক্রান্ত গরু থেকে সুস্থ পশু আলাদা করে রাখবার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেসঙ্গে পশু রাখবার জায়গা সবসময় শুকনো রেখে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে খামারি ও কৃষকদের। প্রাণিসম্পদ বিভাগের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, গ্রামের হাটবাজারে রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে একশ্রেণির কসাই গোশত বিক্রি করছেন। এমনকি মহানগরী ঢাকায়ও কোথাও কোথাও অসুস্থ গরু জবাই হচ্ছে। এমনটি ঘটলে তা উদ্বেগজনক বৈকি।

সামনে কুরবানি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক পশুরহাট বসবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমনিতেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে সমগ্র বিশ্বের মতো আমরাও আতঙ্কিত। এর প্রভাব পশুর হাটেও পড়বে নিশ্চিতভাবে। এ সুযোগে কুমতলবিরা কুরবানি বন্ধ করে এর অর্থ বিলিয়ে দেবার পরামর্শ বিতরণ করছেন, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইসলামী বিধানের পরিপন্থী। আমরা তাঁদের সতর্ক করতে চাই।

যাই হোক, করোনাকালে সবধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পর্যায়ে সামর্থ্যবান মুসলিমরা কুরবানির পশু জবাই করবেন। তবে কুরবানির পশু যাতে লাম্পিস্কিন বা অন্য কোনও অসুখে আক্রান্ত না হয় সেদিকে কড়া নজরদারি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে রোগাক্রান্ত পশু যাতে বাজারে কেউ আনতে না পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ