শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

২১১ জন আউট সোর্সিং কর্মচারির চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও এক বছরের বকেয়া পায়নি

খুলনা অফিস: খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে খুলনা সদর হাসপাতালসহ ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগকৃত ২১১ জন আউট সোর্সিং কর্মচারির এক বছরের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। কিন্তু তাদের নিয়োগ বাতিল করে অব্যাহতির চিঠি দিয়েছে খুলনা সিভিল সার্জন অফিস। জুন মাসের মধ্যে বেতন পরিশোধ করার সময় থাকলেও ভ্যাট জটিলতায় আটকে রয়েছে তাদের বেতন।

খুলনা সিভিল সার্জন ডাক্তার সুজাত আহমেদ বলেন, গত ২৬ মে খুলনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে আউট সোর্সিং ২১১ জনবল নিয়োগের যে পদায়ন দিয়েছে। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন, বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন, বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১২ জন, রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন, দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন, তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন, কপিলমুনি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে তিনজন, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ জন এবং দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন টুটপাড়া সদর আরবান ডিসপেনসারীতে ১১ জন, ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ জন, খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ৩১ জন, তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জন, ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন কে, আমরা তাদের ১৫ দিন আগে অব্যহতির চিঠি দিয়েছি। কারণ যদি বর্তমান ঠিকাদার আউট সোর্সিং জনবল সরবারাহর মেয়াদ না বাড়াতে পারে, তাহলে আমরা এত কর্মচারিদের বেতন দিব কিভাবে। তারপর আমার অফিস থেকে তাকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এর মধ্যে যদি সে মেয়াদ বাড়তে পারে, তাহলে ভাল হবে সবার জন্য। আর যদি না পারে তাহলে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে, তারপরও আমি মৌখিকভাবে সকল উপজেলা হাসপাতাল সাব সেন্টারসহ যেখানে আউট সোর্সিং কর্মচারিরা কর্মরত আছে সেখান কার প্রধানদেরকে বলা হয়েছে সবাই কাজে যোগদান করুক। রোগীদের সেবা যেন বঞ্চিত না হয়।

খুলনা সদর হাসপাতালে আউট সোর্সিং কর্মচারি মন্টু বলেন, জুলাই মাসে প্রথম দিন আমাদের ডিউটি রোস্টারে কোন নাম নেই। কিভাবে আমরা ডিউটি করব। কোন ওয়ার্ডে, খাতা কলমে যদি নাম না থাকে তাহলে কাজ করা কী যায়? তারপরও আমাদের বেতন আজ দিচ্ছে, কাল দিচ্ছে-এখনও বেতন কেউ হতে পাইনি। একপ্রকারে হতাশার মধ্যে জীবন চলছে।

খুলনা ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টি এইচ এ ডাক্তার মো. কামাল হোসেন বলেন, এই মুহুর্তে আমার হাসপাতালে প্রায় ১২ জনের মত আউট সোর্সিং কর্মচারি কাজ করছেন। এমনিতে এই হাসপাতালে জনবল সংকট তারপরও আউট সোর্সিং কর্মচারিদের ৪ জনকে আমি আলাদা ট্রেনিং করিয়ে প্যাথলজিষ্ট এর কাজ জরুরী বিভাগের কিছু কাজ এক্সে-রে করার কাজ শিখিয়েছিলাম। 

এখন যদি তারা কেউ কাজে না আসে এই করোনার সংকটময় সময়ে তাহলে আমরা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাব। যদিও আজ থেকে অনেকে কাজে আসেনি। আমি কয়েকজনকে এক প্রকার জোর করে কাজে রেখে দিয়েছি। বলেছি এক মাসের বেতন আমরা সকল চিকিৎসক মিলিয়ে তোমাদের দিব। এইভাবে কয়েকজন আউট সোর্সিং কর্মচারিদের আমি রেখে দিয়েছি। কারণ আমার এখন প্রধান বিষয় হাসপাতাল চালাতে হবে। রোগীদের সেবা দিতে হবে।

তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টি এইচ এ ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, আউট সোর্সিং কর্মচারিরা এখনও বেতন হাতে পাইনি। এর মধ্যে সিভিল সার্জন অফিস থেকে তাদেরকে অব্যহতি চিঠি দিয়েছে। সেই কারণে আমরা ডিউটি রোস্টারে খাতায় কোন নাম দিতে পারিনি। মৌখিকভাবে আউট সোর্সিং কর্মচারিরা কাজ করছে।

আউট সোর্সিং কর্মচারি সরবারাহ ঠিকাদার মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজের পরিচালক ইখতিয়ার হোসেন বলেন, আমি আগে তাদের বেতন পরিশোধ করব। এটা প্রধান কাজ। এতদিন বেতন দিতে পারতাম। কিন্তু ভ্যাট প্রদান সমস্যার কারণে একটু বিলম্ব হয়েছে। দেখি সামনের সপ্তাহর মধ্যে দিয়ে দিব। তাছাড়া আউট সোর্সিং কর্মচারি সরবারহর মেয়াদা বাড়ানোর জন্য গিয়েছিলাম জুন মাসে। সব মন্ত্রণালয় সরকারী অফিস বন্ধ থাকায় পারিনি। এই মাসের মধ্যে যদি মেয়াদ না বাড়াতে পারি আমার কিছুই করার নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ