বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

মাগুরার চাতালে মজুরি বৈষম্যের শিকার ১৬ হাজার নারী শ্রমিক

মোঃ ওয়ালিয়র রহমান, মাগুরা থেকে: মাগুরার ৩ শতাধিক চাতালে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছেন নারী শ্রমিকরা কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারছেন না তারা। ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নারী শ্রমিকরা। চাতালে নারী শ্রমিকদের কাজের নির্দিষ্ট কোন সময় সীমা নেই। ২৪ ঘন্টাই তারা কাজ করছেন। অথচ তারা দৈনিক মজুরি গড়ে ৫০ টাকা। তবে চাল মিলের মালিকরা বলেন, নারী শ্রমিকদের আগের চেয়ে বর্তমানে ভাল পারিশ্রমিক ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। মাগুরা ৩ শতাধিক চাতালে প্রায় ১৬ হাজার নারী শ্রমিক কাজ করেন। উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পেয়ে ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছেন তারা। চাতালের মালিক ও নারী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে মাঠের হিসাব করে চাতালের নারী শ্রমিকদের মজুরি দেয়া হয়। ধান মিলে আনা, সিদ্ধ করা রোদে শুকানো, চাল উৎপাদন পর্যন্ত কাজকে মাঠ বলা হয়। প্রতি মাঠে ৫২০ মন ধান ধরা হয়। চাল উৎপাদন পর্যন্ত প্রতি মাঠে কাজ করে অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জনই থাকেন নারী। এক মাঠ ধান থেকে চাল উৎপাদন করতে সময় নেয় কম পক্ষে চার পাঁচ দিন। প্রতিকুল আবহাওয়ায় ১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ভায়না মোড়ের চাতাল কন্যা খাদিজা বেগম জানান, প্রতিমন দশ টাকা হারে ৫২০ মন ধানে যে টাকা পান তা ৪০-৫০ জন, শ্রমিকের মধ্যে ভাগ হয়। পাশাপাশি মালিকরা তাদের ২ থেকে ৩ কেজি চালও দেন। খাদিজা বেগম  আরো বলেন স্বামী স্ত্রী মিলে ২৪ ঘন্টা কাজ করে সর্দারের কাছ থেকে নেয়া ঋন পরিশোধ করতে পারি না। মালিক যে টাকা দেন তা দিয়ে চলে না আমাদের সংসার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ