বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

১২ ঘণ্টার বৈঠকেও সমাধানে পৌঁছায়নি চীন-ভারত

স্টাফ রিপোর্টার: তৃতীয়বারের মতো কর্পস কমান্ডার স্তরে বৈঠক করেছে ভারত এবং চীন। তৃতীয় দফার কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পরেও সমাধানসূত্র অধরা। সীমান্তের সংঘর্ষের পর একের পর এক আলোচনা বেশ নজরকাড়া হলেও তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়নি। বরং চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত মঙ্গলবার শেষের দিকেই এই বৈঠক ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলার পর রাত ১১টার পরে শেষ হয়েছে। চীন ক্রমশ নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে ভেতরের দিকে ঘাঁটি তৈরি করতে শুরু করেছে। গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাংগং লেকে সেনা সমাবেশ সরাতে রাজি নয় চীন। বেইজিংয়ের যে কোনও পদক্ষেপের জবাব দিতে স্থল ও আকাশ পথে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ভারতও। তার সঙ্গে এবার যোগ হল জলপথও। প্যাংগং লেকে যাচ্ছে নৌসেনার ভেসেল। প্যাংগং লেকে ভারতীয় সেনার টহলদাররির জন্য এক ডজন স্টিলের নজরদারি ভেসেল পাঠানো হচ্ছে বলে ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর।
একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই ফিংগার ৪-এর ভেতরে স্থায়ীভাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে চীন। ভারতকে চাপে রাখতে আরও এক ধাপ এগিয়েছে বেইজিং। প্যাংগং লেক এবং গালওয়ান উপত্যকা সমস্যা সমাধানে ভারত বা চীন কেউই সেনা সরাতে রাজি হয়নি।
ভারত বলছে, প্যাংগং লেকে তিন কিলোমিটার পিছু হটা কিছুতেই সম্ভব নয় কারণ তাহলে ফিংগার-৪ থেকে সরে আসতে হবে। ফিংগার-৪ সবসময় ভারতের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভারত ফিংগার ৮-এ লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল দাবি করে। ভারতের ওপর নজরদারি বাড়াতে বর্তমানে সেখানে ঘাঁটি তৈরি করেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। সেখানেই বাঙ্কার এবং নজরদারি ব্যবস্থা করে পোস্ট তৈরি করেছে চীন। ফিংগার ৪ থেকে ফিংগার ৮-এর মাঝে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে মূলত এই কাজ টানা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
একইভাবে, গালওয়ান পেট্রল পয়েন্ট ১৪-তে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পিছু হটতে রাজি নয় চীন। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডেপসাং এবং ডেমচকেও একইরকমভাবে অবস্থান চীনের। মঙ্গলবারের একটি বৈঠকে সব বিতর্কিত অঞ্চলগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। চীন আলোচনা শেষে জানিয়েছে, গত ২২ জুন গালওয়ানের ক্লেমড লাইন থেকে ৮শ মিটার দূরে ছিল তারা। গালওয়ান উপত্যকার পিপি ১৪-তে চীনা সেনারা প্রায় ১০০-১৫০ মিটার সরে গেছে। লাইন অফ কন্ট্রোলে পিপি-১৪ থেকে শেষ পর্যন্ত সবগুলো পেট্রোল পয়েন্ট নিজেদের বলে দাবি জানিয়েছে ভারত।
প্যাংগং লেকে টহলদারির জন্য চীন সেনার রয়েছে ৯২৮বি ভেসেল। তার সঙ্গে সমান তালে টক্কর দিতে এই বোটগুলি পাঠানো হচ্ছে। ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন বাহিনী যৌথ ভাবে এই ভেসেলগুলি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সি-৭ হেভি লিফ্টার বোয়িং বিমানের মাধ্যমে ভেসেলগুলি লে-তে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে আকাশপথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেগুলি কাটিয়ে দ্রুত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। অন্য কোনও ভাবে বোটগুলি পাঠানো যায় কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন সেনা কর্মকর্তারা।
গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং লেকসহ ভারত-চীন সীমান্তের সর্বত্রই নয়াদিল্লির অবস্থান হল, আগে থেকে ভারত কোনও আগ্রাসী পদক্ষেপ করবে না। কিন্তু চীনের দিক থেকে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই সেই রকম কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে সব দিক থেকে তার মোকাবিলা করা যায়, সেই জন্য প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। তার অংশ হিসেবেই প্যাংগং লেক বরাবর চীনা আগ্রাসনের জবাব দিতে এই ভেসেলগুলি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলেই সেনা সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ভারত ও চীন সেনার কোর কমান্ডার পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের নির্যাস বলতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা। সেনা সমাবেশ সরানো নিয়ে কথাবার্তা। কিন্তু এর বাইরে গালওয়ান উপত্যকা বা প্যাংগং লেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে চীন সেনা সরাবে, এমন কোনও প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস মেলেনি বলেই ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর। এদিকে বিভিন্ন উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা, রসদ ও অস্ত্রশস্ত্র মজুত বাড়িয়েই চলেছে বেইজিং। তৈরি করছে সেনা ছাউনির মতো নানা কাঠামোও। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সেনা সরিয়ে স্থিতাবস্থা ফেরানো এবং বেইজিংয়ের তরফে কোনও রকম আগ্রাসন হলে তার উপযুক্ত জবাব দিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখার কৌশলেই এগোচ্ছে নয়াদিল্লি। সূত্র: আনন্দবাজার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ