বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জঙ্গিরা এখনো পুলিশের ওপর হামলার প্রচারণা চালাচ্ছে -ডিএমপি কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) মোহা. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯-এর কারণে বাসায় বসে মানুষ ধর্মীয় সাইটগুলোতে বেশি ভিজিট করছে। এই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা কিন্তু কন্টিনিউয়াসলি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। লোন উলফ বা একাকী হামলার জন্য তারা উদ্বুদ্ধ করছে, বিশেষ করে পুরুষ সদস্যদের ওপর হামলা করার জন্য। কী কী কায়দায় হামলা করতে হবে, সেটিও বলছে। অন্তত একটি হাতুড়ি হলেও তা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার আহবান জানানো হচ্ছে। তবে জঙ্গিদের সব বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।’ গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কমিশনার।
এসময় কমিশনার বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় যে জঙ্গি হামলার মুখোমুখি হয়েছিলাম সেটি ছিল হলি আর্টিজান হামলা। সেটির চার বছর পূর্তি আজ। আমরা এখানে যে দুজন সহকর্মীকে হারিয়েছিলাম তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। যে সমস্ত দেশি-বিদেশি নাগরিক, নিরীহ মানুষ এই নৃশংসতার বলি হয়েছিলেন তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও মাগফেরাত কামনা করছি।’ ‘যারা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন, যারা এখানে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হন। পুরো ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন পরবর্তীতে আমরা তাদের সবার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছি, সবার সাজা হয়েছে। তবে সাতজন সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি আপিল করেছে, আপিলের শুনানি এখনো শুরু হয়নি, এই প্রক্রিয়াটি হয়তো করোনার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শুরু হবে।’ বলেন শফিকুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলার ওই ঘটনার পরে বাংলাদেশ পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন ঢেলে সাজানো হয়েছে, একইভাবে জঙ্গিবাদে যারা জড়িত তাদের সক্ষমতা, ক্ষমতা সম্পর্কেও আমাদের একটা সুস্পষ্ট ধারণা হয়েছে।’ ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে একের পর এক জঙ্গি আস্তানা আমরা গুঁড়িয়ে দিয়েছি এবং ওদের সক্ষমতা যে পর্যায়ে ছিল, সেটি এখন একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন তারা যে সমস্ত ইম্প্রোভাইজ বা বোমা বানায়, তাদের বড় এক্সপার্ট যারা ছিল তাদের সবাই আমাদের হাতে ধরা পড়েছে। জেলে আছে। অনেকে বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। তাই এখন সে ধরনের সক্ষমতা তাদের নেই।’
‘আমরা আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, জঙ্গিরা এখন অনলাইনে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু তেমন কোনো মানুষকে এই জঙ্গিবাদের দিকে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছে বা সংঘবদ্ধভাবে আবার এদেশে জঙ্গিবাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য যে সাংগঠনিক ব্যবস্থার প্রয়োজন সেখানে কোনো সংগঠন গড়ে তুলতে পেরেছে, সেরকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে জঙ্গিরা এই করোনাকালে হামলা বা বিশেষ করে পুলিশের ওপর হামলার ব্যাপারে তথ্য পেয়ে আমরা এটিকে প্রতিহত করতে পেরেছি। আশা করা যায় যে, ছোটখাটো কিছু সক্ষমতা তাদের থাকতে পারে কিন্তু বড় ধরনের কিছু করার সক্ষমতা তাদের নেই’ বলেন শফিকুল ইসলাম। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়সহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ