বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

৭ জঙ্গির ‘ডেথ রেফারেন্স’ আটকে আছে বিজি প্রেসে

গতকাল বুধবার হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কূটনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিজেন রেস্তোরাঁয় চার বছর আগে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলা চালিয়ে ২২ জনকে হত্যার দায়ে নব্য জেএমবির সাত সদস্যের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি (ডেথ রেফারেন্স) পেপারবুক তৈরির পর্যায়ে রয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসে এ মামলার পেপারবুক ছাপার কাজ আটকে আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে তা ‘শেষ পর্যায়ে’ আছে বলে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
হলি আর্টিজেন রেস্তোঁরায় অস্ত্রধারীদের হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা গুলী চালানোর পাশাপাশি গ্রেনেড ছোড়ে। তাতে আহত হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম। তিনিও মারা যান হাসপাতালে। হলি আর্টিজেন বেকারিতে অস্ত্রধারীদের হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা গুলী চালানোর পাশাপাশি গ্রেনেড ছোড়ে। তাতে আহত হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম। তিনিও মারা যান হাসপাতালে। এ শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হলি আর্টিজেন মামলার ডেথ রেফারেন্স, রায়ের অনুলিপি ও আনুষাঙ্গিক নথিপত্র পেপারবুক তৈরির জন্য ফেব্রুয়ারিতে বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। কোন পর্যায়ে আছে ঠিক জানি না। করোনা পরিস্থিতির কারণে সব কিছুই তো আটকে আছে। হয়ত এ কারণে পেপারবুক মুদ্রণের কাজটিও থেমে আছে’।
নজিরবিহীন হামলা: বিশ্বজুড়ে উগ্রপন্থার প্রসারের মধ্যে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে একদল তরুণের ওই হামলা ব্যাপক আলোচিত হয়। গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের শেষ মাথায় লেকের তীরে হলি আর্টিজেন রেস্তোঁরায় সবুজ লন ছিল বিদেশিদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। বিদেশিদের নিয়মিত আনাগোনা এবং শিথিল নিরাপত্তার কারণেই ওই রেস্তোরাঁকে জঙ্গিরা হামলার জন্য বেছে নিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। রোজার ঈদের মাত্র এক সপ্তাহ আগে যেদিন ওই হামলা হয়, সেদিন ছিল শুক্রবার। পিস্তল, সাব মেশিনগান আর ধারালো অস্ত্র হাতে পাঁচ তরুণ রাত পৌনে ৯টার দিকে ওই ক্যাফেতে ঢুকে শুরু করে নৃশংসতা।
জবাই ও গুলী করে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে তারা। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানের সময় ও পরে হাসপাতালে মারা যায় হলি আর্টিজেন রেস্তোঁরায় দুই  কর্মচারী। হামলার ১১ ঘণ্টা পর এ অভিযান শুরু হয়। জিম্মিদের উদ্ধারে কমান্ডো অভিযানে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান। গুলশানের হলি আর্টিজেন রেস্তোঁরায় হামলার ১১ ঘণ্টা পর এ অভিযান শুরু হয়। রুদ্ধশ্বাস রাত পেরিয়ে ভোরে সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা নামে অভিযানে; ‘থান্ডারবোল্ট’ নামের সেই অভিযানে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ তরুণের সবাই মারা পড়ে। ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১৩ জনকে। এরপর দুই বছরে হামলায় জড়িত আরও অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। গুলশান হামলার তদন্তে মোট ২১ জনকে চিহ্নিত করা হলেও তাদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার আটজনকেই কেবল বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়।
হামলাকারী পাঁচ তরুণ- নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। হামলাকারী পাঁচ তরুণ- নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। 
দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দেন। ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্য শুনে বিচারক ২৭ নভেম্বর রায় দেন।

সীমিত আয়োজনে হলি আর্টিজেনে নিহতদের স্মরণ
স্টাফ রিপোর্টার : করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত পরিসরে ফুলেল শ্রদ্ধায় হলি আর্টিজেন বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে নিহতদের উদ্দেশে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বেলা ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিহতদের কারও পরিবারের সদস্যদের হলি আর্টিজেনে আসতে দেখা যায়নি।
ঘটনার চার বছর পূর্তিতে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের শেষ স্থাপনাটিতে অন্যান্য বছরের মতো সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। জাপান, ইতালি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের বাইরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হলি আর্টিজেনে আসেন।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হোলি আর্টিজেন বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ ২২ জন নিহত হন। জঙ্গিদের প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার ও একজন ওসি। ঘটনার পরদিন ভোরে (২ জুলাই) সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।
গতকাল বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল গুলশান-২ এর ওই এলাকা জুড়ে। ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজেন বেকারিতে প্রবেশের আগে রাস্তার মোড়ে ব্যাকিকেড দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখে গুলশাল পুলিশ। পোশাকী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে দায়িত্বরত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সেখানে দায়িত্বপালন করা একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, এবার নির্ধারিত ব্যক্তিবর্গের বাইরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়ার নির্দেশনা নেই। সাধারণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ।
তবে নিহতদের স্বজন বা সাধারণ মানুষ কাউকে শ্রদ্ধা জানাতে আসতে দেখা যায়নি। বেকারির ওই ভবনে সামনে তৈরি করা শ্রদ্ধা মঞ্চে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করেন ডিএমপি কমিশনার ও পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এরপরই শ্রদ্ধা জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক। এরপর একে একে আসেন ইতালি, আমেরিকা ও জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিদেশি দূতাবাসের কেউ কথা বলেননি। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ও র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ