মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

যশোর শিক্ষাবোর্ডে এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে ফেল করা অর্ধশত পরীক্ষার্থী পাস ॥ দুইজনের জিপিএ-৫

খুলনা অফিস : যশোরে বোর্ডে এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ফেল করা ৪৬ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এরমধ্যে দু’জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। একইসাথে আরো ৪৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ হিসেবে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ হাজার ৮১৫ জনে। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগে মোট ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে ১২৩ জন পরীক্ষার্থীর। 

যশোর শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট এক লাখ ৬০ হাজার ৬৩৫ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশ গ্রহণ করে। গত ৩১ মে সারাদেশে এ পরীক্ষার ফলাফল একযোগে প্রকাশিত হয়। ফলাফলে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৪০ হাজার ২৪৩ জন। এর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ২০ হাজার ৩৯২ জন। পাসের হার ৮৭ দশমিক ৩১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন ছাত্রছাত্রী। এরমধ্যে ছেলেরা পেয়েছে ৬ হাজার ৯৫৬ ও মেয়েরা পেয়েছে ৬ হাজার ৮০৮ জন। ২০১৯ সালে এ পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৮৮ ভাগ। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের পরীক্ষার খাতায় লেখা প্রশ্নের উত্তরের সাখে অর্জিত ফলাফলে তারতম্য রয়েছে। এ কারণে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ দিয়েছে। গত ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত এ আবেদনের নির্ধারিত দিন ছিল। তবে এ আবেদন কেউ হাতে লিখে করতে পারেনি। তাদেরকে অনলাইনে টেলিটক সিমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে বিষয় ভিত্তিক কোডে আবেদন করতে হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে শিক্ষাবোর্ডে খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ফি ছিল ১২৫ টাকা। 

শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, গত ৭ জুন পর্যন্ত মোট ৩৪ হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষার্থী তাদের খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ইংরেজি দু’টি বিষয়ে আবেদন পড়ে সাত হাজার ৩৯২ জনের। ইংরেজি প্রথম পত্রে আবেদন করে তিন হাজার ৬৯৬ জন পরীক্ষার্থী ও দ্বিতীয় পত্রে হস সংখ্যক পরীক্ষার্থী আবেদন করে। বাংলা প্রথম পত্রে ও দ্বিতীয় পত্রে আবেদন করেছে একই সংখ্যক এক হাজার ৭৫১ জন পরীক্ষার্থী। দ্বিতীয় সংখ্যক অংকে আবেদন পড়ে তিন হাজার ২৪০টি। উচ্চতর গণিতে দুই হাজার ১২০টি, রসায়নে দুই হাজার ৪৯০টি, বিজ্ঞানে দুই হাজার ৬২টি, পদার্থ বিজ্ঞানে এক হাজার ৭৮৯টি, ভূগোলে এক হাজার ১৫৮টি, জীব বিজ্ঞানে এক হাজার ৩৪১টি, কৃষি বিজ্ঞানে এক হাজার ২১০টি, ইসলাম ধর্মে এক হাজার ১৩টি, হিন্দু ধর্মে ১২৪টি ও খ্রিস্টান ধর্ম বিষয়ে ৯ জন পরীক্ষার্থী তাদের খাতা চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করে। এ হিসেবে ১২৫ টাকা হারে যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ ৩৪ হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি বাবদ ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৫শ’ টাকা আদায় করেছে। 

পরীক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ডেকে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ব্যবস্থা করে। এতে বিভিন্ন বিষয়ের খাতা পুনঃনিরীক্ষা করে মোট ১২৩ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে দু’জন অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। যা নিয়ে রীতিমত শিক্ষাবোর্ডে হৈ-চৈ পড়ে গেছে। একইসাথে আরো ৪৯ জনের ফলাফল পরিবর্তন হয়ে জিপিএ-৫ হয়েছে। এ হিসেবে যশোর বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা দাড়াল ১৩ হাজার ৮১৫ জনে। এছাড়া, ফেল করা আরো ৪৪ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এ হিসেবে পাসের হার বেড়ে দাড়াল এক লাখ ৪০ হাজার ২৮৯ জন। এ মাইনাস থেকে এ হয়েছে ১৫ জন পরীক্ষার্থী, বি থেকে এ মাইনাস হয়েছে ৫ জন, বি থেকে এ হয়েছে ২ জন, সি থেকে বি হয়েছে ৪ জন শিক্ষার্থী, ডি থেকে এ বিভাগ পেয়েছে ১ জন পরীক্ষার্থী। অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিভাগ পেয়েছে ৬ জন, এ মাইনাস পেয়েছে ১১ জন, বি পেয়েছে ৬ জন, সি পেয়েছে ৫ জন, ডি পেয়েছে ১৬ জন। মঙ্গলবার যশোর বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুন:নিরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে এসব তথ্য জানা যায়।

এ ব্যাপারে শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষায় ১২৩ পরীক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। কী কারণে খাতা দেখায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ