শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

বন্যার আরো অবনতি পানিবন্দী লাখ লাখ মানুষ

মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর, সদর, নাগেশ্বরী উপজেলাসহ ৯ উপজেলার ৩৫ ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী জীবন যাপন করছে। গত গত ৫ দিন ধরে পানিবন্দী এসব মানুষের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করছে। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। চারণভূমি তলিয়ে যাওয়া গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষজন। উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় ১৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের পুরোটাই বন্যা কবলিত। প্রায় ১৩ হাজার মানুষ পানিবন্দী বলে জানান তিনি। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নে ১৫ হাজার মানুষ গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দী জীবন যাপন করছে। এসব মানুষের হাতে কোন কাজ না থাকায় জরুরিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া প্রয়োজন বলে এই ইউপি চেয়ারম্যান। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোন চাল বা শুকনো খাবার বরাদ্দ পাননি বলেও জানান তিনি। যাত্রাপুর ইউনিয়নের বদলীপাড়া এলাকার ছকিনা বেওয়া, সুরুজ্জামান, শাহাজাহান জানান, গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে আছি। হাতে কাজ নাই, ঘরে খাবারও নাই। এ অবস্থা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন পাড় করছি। যাত্রাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ময়নুদ্দিন ভোলা জানান, তার ওয়ার্ডের পানিবন্দী মানুষেরা অবর্ণনীয় কষ্টে থাকলেও এখন পর্যন্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদেরকে কোন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়নি। উলিপুরের সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী বলে জানান চেযারম্যান সিদ্দিক মণ্ডল।
 কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজার রহমান প্রধান জানান, জেলয় ৫ হাজার ৬শ ৫৮ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ, শাক সবজি, পাটসহ অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হবে। এদিকে রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ জানান, আগামী মাসের ৪/৫ তারিখ পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ধরলা ও তিস্তার পানিও বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এসময় নদ-নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে এসব তথ্য জানান তিনি।

সিলেটে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু
করলেও দুর্ভোগ কমছেনা মানুষের
সিলেট ব্যুরো : সিলেটে নদ-নদীর পানি ধীর গতিতে কমতে শুরু করেছে। ফলে প্লাবিত এলাকাগুলোর পানিও হ্রাস পেতে শুরু করেছে। তবে সহসাই পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ কমছেনা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সুরমার কানাইঘাট পয়েন্টে একমাত্র বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সুরমা-কুশিয়ারা-সারীসহ অন্য সব নদ-নদীর পানিই কয়েক সেন্টিমিটার করে কমেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যেখানে গত সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এ পয়েন্টে পানি প্রবাহিত হয়েছিল। একই নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে মঙ্গলবার দুপুরে প্রবাহিত হচ্ছে ১০.৫৫ মিটার উচ্চতায়। যা সোমবার সন্ধ্যা ছিল ১০.৭০ মিটার।
এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা আমলশিদ, শেওলা পয়েন্টে পানি কয়েক সেন্টিমিটার কমলেও শেরপুর এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কয়েক সেন্টিমিটার বেড়েছে। পানি কমেছে সারি, লোভাছড়া নদীরও। পানি কমতে থাকলে বন্যা পারিস্থতি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পানিবন্দী জনসাধারণের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির অভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। গো খাদ্য সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। এছাড়া শুকনো খাবার না থাকায় ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। তবে প্রশাসন ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত হয়নি। এমন অবস্থা বিদ্যমান থাকলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুরের ৫ জেলার ৮৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী
সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা নিমজ্জিত
মোহম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : অবিরাম বর্ষণ এবং সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ী  ঢলে রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, ব্রক্ষ্মপুত্র, সানিয়াজান এবং দুধকুমার নদীর পানি এখন বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে এসব নদী তীরবর্তি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে নদী ভাঙন। এহেন অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে অসহায় মানুষ বাড়ি ঘর ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে রংপুর অঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা, ধরলা, ব্রক্ষ্মপুত্র, সানিয়াজান ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতি বর্ষণ এবং তিস্তার ঢলে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বন্যায় রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউষ, শাকসবজি, চীনাবাদাম ও তিল ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকার কৃষকরা দিমেহারা হয়ে পড়েছে। তিস্তার পানি গতকাল সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি কুড়িগ্রম ব্রিজ পয়েন্টে ৭৩ সেন্টিমিটার ও ব্রক্ষ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বাঁধ রক্ষায়  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এদিকে, তিস্তার পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডালিয়া পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তা ব্যারাজের গেজ রিডার নুরুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও অনবরত বৃষ্টির ফলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পানি শাখা) এ এস এম আমিনুর রশিদ জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ব্যারাজের সব গেট খুলে রাখায় ভাটি এলাকার খালিশা চাঁপনী ও বাইশপুকুর চর প্লাবিত হয়ে বাড়িঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরে পানি বৃদ্ধির কারণে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা নদীর বাম তীর রক্ষায় নির্মিত টি-বাঁধটি ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালু ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ডা¤িপং করছেন। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি নদী গর্ভে বিলিন হয়েন গেলে পার্শ্ববর্তী গ্রামের শত-শত বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়বে। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, রংপুর অঞ্চলের ৫টি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিমুঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত ৫টি জেলায় ১৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং ৭ শ ৪৫ মেট্রিকটন খয়রাতি চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলার ১০৩টি ইউনিয়নের ৮৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
জামালপুরে দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী
জুলফিকার আলম, জামালপুর থেকেঃ টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে যমুনাসহ শাখা নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক পরিস্থিতির মারাত্মত অবনতি হয়েছে। সোমবার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার ৬ উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ।
অপরদিকে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্রসহ শাখা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর, দুরমুঠ, নাংলা,কুলিয়া, ফুলকোচা, ঝাউগড়া,আদ্রা এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী, জোড়খালী, চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। সব মিলিয়ে ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার ২৭টি ইউনিয়নের ১১৬টি গ্রামের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি উঠে পড়ায় বসতবাড়ী ছেড়ে দুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন উচুঁ সড়ক ও আশ্রয় কেন্দ্রে। ইতো মধ্যে বন্যার পানি উঠে ইসলামপুর-উলিয়িা- মাহমৃুদপুর সড়ক ,  ইসলামপুর-গুঠাইল সড়কসহ বেশ কিছু আঞ্চলিক ও স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্যার পানিতে ডুবে গেছে ৫হাজার ৫৯৩ হেক্টর পাটসহ ৬হাজার ৯০৭ হেক্টর জমির ফসল। জেলা ত্রান ও পুনর্বাসনর কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, দুর্গত এলাকার জন্য এখন পর্যন্ত ৬০ মেট্রিকটন চাল ও নগত ৫লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সোমবার সকালে মেলান্দহের দুরমুৃঠ ইউনিয়নের রুকনাই গ্রামের রেহান আলীর ছেলে মো. সনি (১২) বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তা পার হতে  গিয়ে সোতের তোড়ে বেসে যায়। বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সনির লাশ উদ্ধার করে। এছাড়াও রোববার সন্ধ্যায় মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বেলারের ছেলে সোহান (৭) বন্যার পনিতে ডুবে মারা যায়।
গাইবান্ধার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী
গাইবান্ধা: ভাঙন কবলিত ও পানিবন্দী লোকজন তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে নৌকায় করে আসবাবপত্র নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। গাইবান্ধা থেকেে জোবায়ের আলী ঃ গাইবান্ধায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী । টানা বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে হু হু করে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। গত ১২ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ও ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে তিস্তা, যমুনা, কাটাখালি ও করোতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ফলে পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ক্রমেই অবনতির দিকে বন্যা পরিস্থিতি। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ছেড়ে গবাদি পশু নিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সেইসঙ্গে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়া শুরু করেছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাচ্ছেন, কেউ বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছেন আবার কেউ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিচ্ছেন। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে ডাকাত আতঙ্ক। হুমকিতে পড়েছে গাইাবান্ধা সদর থেকে ফুলছড়ি উপজেলা হয়ে সাঘাটার জুমারবাড়ী পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা ও নামাপাড়া গ্রামের ৫৭টি, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ি, আলগারচর, ভাটিয়াপাড়া, পূর্ব হরিচণ্ডি, পাগলারচর, তিনথোপা গ্রামে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ৮৫টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। আকস্মিক বন্যায় বালাসীঘাটের দক্ষিণ পাশে ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর ও কাইয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
অপর দিকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায়  ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও মারাত্মক অবনতি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙনও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙন কবলিত ও পানিবন্দী লোকজন তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে নৌকায় করে আসবাবপত্র নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। এদিকে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা ও নামাপাড়া গ্রামের ৫৭টি, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ি, আলগারচর, ভাটিয়াপাড়া, পূর্ব হরিচন্ডি, পাগলারচর, তিনথোপা গ্রামে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ৮৫টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। এদিকে আকস্মিক বন্যায় বালাসীঘাটের দক্ষিণ পার্শ্বে ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর ও কাইয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে বাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অপরদিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫ লাখ টাকা ও ৬০ মে. টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী জুমারবাড়ী ইউনিয়ন, সাঘাটা ইউনিয়ন, ঘুড়িদহ ইউনিয়ন, ভরতখালী ইউনিয়ন ও হলদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।বন্যা কবলিত এলাকায় পাট, আমন বীজতলা, পটল, শাক-সবজি, বর্ষালী রোপা আমন ক্ষেত সহ শত শত একর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জ্বিত হয়েছে। পানিবন্দী পরিবারেরা গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ দিকে  উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গোবিন্দগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। গত ৩ দিনে ১৫টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের পারধুন্দিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর ভাঙ্গনে গত ৩ দিনে পার ধুন্দিয়া গ্রামের ১৫ টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ