শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

এবার ভারতের আরেক ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ল চীন

সংগ্রাম ডেস্ক : চীন-ভারতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের খবর প্রকাশ হলেও বাস্তবে লাদাখে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। গালওয়ানে ২০ ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে প্যাংগং লেকের পাড়ে হেলিপ্যাড তৈরি ও সেনা বাড়িয়েছে চীন। এ নিয়ে এবার প্যাংগং এলাকায় চীনের সৈন্যদের উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে দু'দেশের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে অবশ্য চীন ভারতীয় ভূখণ্ডে ৪২৩ মিটার ভেতরে ঢুকে গেছে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল সাম্প্রতিক এক স্যাটেলাইট চিত্রে। যদিও পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনা মোতায়েনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বসছে দু'দেশ। ওই বৈঠকের মাধ্যমে দু'দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এর মধ্যেই নতুন স্যাটেলাইট চিত্র সামনে এসেছে। ফলে উদ্বেগ বেড়েছে নয়াদিল্লীর।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু গালওয়ান উপত্যকা নয়, নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার পয়েন্টগুলোতেও চীনা আগ্রাসনের ছবি ধরা পড়েছে। ২৮ জুনের ওই ছবি ঘিরেই তৎপরতা শুরু হয়েছে নয়াদিল্লীতে। স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট দেখা গেছে যে, ফিঙ্গার ৪ এবং ফিঙ্গার ৫ এর মাঝে বিশালাকার চীনা লিপি ও প্রতীক এঁকে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই দুই ফিঙ্গার পয়েন্টের মাঝে প্রচুর অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে ফেলেছে চীনা সেনারা। মজুত করা হয়েছে অস্ত্রশস্ত্রও।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, গত মে মাসের গোড়ার দিকে প্যাংগং লেক বরাবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীন সেনা মজুতের পর থেকেই ফিঙ্গার ফোরে আর টহল দিতে দেওয়া হচ্ছে না ভারতীয় সেনাবাহিনীকে। নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার ৪ এবং ফিঙ্গার ৫ এর মধ্যে অন্তত ৮১ মিটার লম্বা ও ২৫ মিটার দীর্ঘ এলাকায় চীনা হরফে লেখা এবং প্রতীকচিহ্ন আঁকা হয়েছে।
আরও দেখা গেছে, শুধু প্যাংগং লেকের ধার বরাবর নয়, আরও অন্তত ৮ কিলোমিটার ভারতের দিকে ঢুকে ঘাঁটি গেড়েছে চীনা বাহিনী। গড়ে তোলা হয়েছে ১৮৬টি ছোট বড় অস্থায়ী তাঁবু ও কুঁড়েঘর। ফিঙ্গার ৫ এর কাছে একটি নজরদারি বিমানও দেখা গেছে বলে উপগ্রহ চিত্র ব্যাখ্যা করে একটি সূত্র দাবি করেছে। বিবিসি, আনন্দবাজার, গ্লোবাল টাইমস, ওয়ান ইন্ডিয়া।

এবার চীনা প্রতীক আঁকা হল ভারতের ৮ কিলোমিটার ভেতরে!
চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দিলেও স্যাটেলাইট ইমেজ বলছে ভিন্ন কথা। ২৮ জুনের একটি স্যালেটাইট ইমেজে দেখা যাচ্ছে চীনা সেনারা শুধু ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশই করেন, সেখানে বিশাল চীনা প্রতীকও এঁকেছে।
পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সেনা মোতায়েন ঘিরে উত্তেজনা কমাতে আজ মঙ্গলবারই কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে বসছে ভারত- চীন। তার মধ্যেই নতুন উপগ্রহ চিত্র উদ্বেগ বাড়াল নয়াদিল্লীর। শুধু গালওয়ান উপত্যকা নয়, নতুন এই উপগ্রহ চিত্রে প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার পয়েন্টগুলোতেও চীনা আগ্রাসনের ছবি ধরা পড়েছে। ২৮ জুনের ওই ছবি ঘিরেই তৎপরতা শুরু হয়েছে নয়াদিল্লীতে।
উপগ্রহ চিত্রে কার্যত স্পষ্ট, ফিঙ্গার ৪ এবং ফিঙ্গার ৫ এর মাঝে বিশালাকার চীনা লিপি ও প্রতীক এঁকে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই দুই ফিঙ্গার পয়েন্টের মাঝে প্রচুর অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে ফেলেছে চীনা বাহিনী। মজুত করেছে অস্ত্রশস্ত্রও। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, গত মে মাসের গোড়ায় প্যাংগং লেক বরাবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীন সেনা মজুতের পর থেকেই ফিঙ্গার ফোর এর পরে আর টহল দিতেও দেওয়া হচ্ছে না ভারতীয় বাহিনীকে।
নতুন উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার ৪ এবং ফিঙ্গার ৫ এর মধ্যে অন্তত ৮১ মিটার লম্বা ও ২৫ মিটার দীর্ঘ এলাকায় চীনা হরফে লেখা এবং প্রতীকচিহ্ন আঁকা হয়েছে। আরও দেখা গিয়েছে, শুধু প্যাংগং লেকের ধার বরাবর নয়, আরও অন্তত ৮ কিলোমিটার ভারতের দিকে ঢুকে ঘাঁটি গেড়েছে চীনা বাহিনী। গড়ে তোলা হয়েছে ১৮৬টি ছোট বড় অস্থায়ী তাঁবু ও কুঁড়েঘর। ফিঙ্গার ৫ এর কাছে একটি নজরদারি বিমানও দেখা গিয়েছে বলে উপগ্রহ চিত্র ব্যাখ্যা করে একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
পূর্ব লাদাখের প্যাংগং লেকের ধার বরাবর চীনের সঙ্গে সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ফিঙ্গার পয়েন্টগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মনে করে, ফিঙ্গার ১ থেকে ফিঙ্গার ৮ পর্যন্ত পুরো এলাকায় ভারতীয় সেনার টহলদারির অধিকার রয়েছে। অন্য দিকে চীন দাবি করে, ফিঙ্গার ৮ থেকে ফিঙ্গার ৪ পর্যন্ত তাদের বাহিনী টহল দিতে পারে এবং সেই অধিকার তাদের রয়েছে। এত দিন পর্যন্ত দুই সেই ভাবেই চলছিল। ভারতীয় সেনা শেষ প্রান্ত অর্থাৎ ফিঙ্গার ৮ পর্যন্ত টহল দিত।
মে মাসের গোড়ার দিকে প্যাংগং লেক বরাবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় প্রচুর সেনা মোতায়েন করে চীন। ভারতও সেনা সমাবেশ ও রসদ মজুত করে। সূত্রের খবর, সেই সময়ের পর থেকেই ফিঙ্গার ৪ এর পর আর ভারতীয় সেনাকে এগোতে দেওয়া হচ্ছে না। ফিঙ্গার ৮ পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীকে যেতেই দেওয়া হচ্ছে না। টহলদারিও বন্ধ। বর্তমানে ওই ফিঙ্গার ৪-ই কার্যত সীমান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরো তাৎপর্যপূর্ণ যে, ফিঙ্গার ৪ পর্যন্ত এসে নির্মাণ কাজও শুরু করেছে চীনের পিপল্স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। তবে ফিঙ্গার ১ এবং ফিঙ্গার ২ পর্যন্ত চীনা বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

চীনে বন্ধ ভারতীয় মিডিয়ার ওয়েবসাইট ॥ পাল্টা অ্যাপ নিষিদ্ধের ঘোষণা ভারতের
ভারত চীনের ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিংও। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই সমস্ত ভারতীয় নিউজ চ্যানেল এবং মিডিয়া ওয়েবসাইটগুলো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চীন। তবে ভিপিএন'র মাধ্যমেও ভারতীয় চ্যানেলগুলোর লাইভ টিভি দেখা সম্ভব হতো। কিন্তু গত দু'দিন ধরে ভিপিএন-ও ব্লক করে রেখেছে চীন।  সরকারি নির্দেশেই যে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে তা স্পষ্ট।
বেইজিংয়ের ভারতীয় দূতাবাসের একটি সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে শুধুমাত্র আইপি টিভি'র মাধ্যমে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো দেখা যাচ্ছে। নিষিদ্ধ কোনও ওয়েবসাইট ভিপিএন-এর মাধ্যমে দেখা যায়। কিন্তু জানা গেছে, চীন ভিপিএন যাতে কাজ না করে তার জন্য অ্যাডভান্সড ফায়ারবল তৈরি করেছে চীন। এর ফলে শুধুমাত্র ভারতীয় ওয়েবসাইটই নয়, বিবিসি এবং সিএনএন'র মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরও ঝাড়াই বাছাই করে সম্প্রচারিত করছে চীন। যেমন হংকং-এ চীন বিরোধী বিক্ষোভ সংক্রান্ত কোনও খবর এই সংবাদমাধ্যমগুলোতে দেখানো হলেই ততক্ষণাৎ তা ব্ল্যাক আউট হয়ে যায়।  চীনবিরোধী খবর দেখানো বন্ধ হওয়ার পরই ফের সংবাদমাধ্যমগুলো দেখা যায়।
লাদাখ সীমান্তে ভারতীয় এবং চীনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। এরই মধ্যে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয়দের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং দেশের নিরাপত্তার যুক্তি দিয়ে ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ভারত সরকার যুক্তি দেয়, এই চীনা অ্যাপগুলোর সার্ভার ভারতের বাইরে রয়েছে। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করা হচ্ছে।
চীন সরকার এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও সে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, আমেরিকাকে নকল করে ভারত সরকার এমন পদক্ষেপ করেছে।
অন্যদিকে চীনের সরকারি সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এর দাবি অনুযায়ী, ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ আদতে ভারতীয় অর্থনীতিরই ক্ষতি করবে। কারণ ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আর কোনও স্টার্টআপ সংস্থায় চীনা বিনিয়োগ আসবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ