শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

ব্যাংকিং সেক্টরে নৈরাজ্য

ইবনে নূরুল হুদা : আমাদের দেশ উন্নয়নশীল শ্রেণিভুক্ত হলেও আমাদের ব্যাংকিং সেক্টর বেশ দুর্বল। স্বাধীনতার ৫ দশক পরও আমাদের রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকগুলো লোকসানী বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বরং এর পরিসর আরও বাড়ছে। গ্রাহকদের দিতে পারেনি কাক্সিক্ষত সেবা দিতে পারেনি ব্যাংকগুলো। খেলাপি ঋণের পরিমাণও এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুর্নীতি ও লুটপাটও তো এখন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো উন্নত বিশ্বের ব্যাংকিং কাঠামো অনুসরণ করার চেষ্টা করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একশ্রেণির অনভিজ্ঞ এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট নীতিনির্ধারকদের কারণে তা বাস্তবায়ন আজও সম্ভব হয়নি। ফলে সুযোগসন্ধানীরা স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অর্থ-পাচারের মত কার্যক্রম নির্বিঘ্নেই চলিয়ে যাচ্ছে। যা আমাদের অর্থনৈতিক সেক্টরে নৈরাজ্যের দিকেই অঙ্গুলী নির্দেশ করে।
সুশাসনের অভাবেই রাষ্ট্রের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলো স্থবিরতা এখন প্রায় স্থায়িত্ব লাভ করেছে। এর কুপ্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারছে না দেশের ব্যাংকিং খাতসহ অর্থনৈতিক সেক্টর। মূলত  ব্যাংকিং সেক্টর গুটিকয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ফলে খেলাপী ঋণের লাগাম টেনে ধরা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। শ্রেণি তোষণের জন্য ঋণখেলাপিদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই ব্যাংকগুলোতে মূলধন ঘাটতি এখন চরমে উঠেছে। মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা রাখা নিরাপদ মনে করতে পারছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেদের তৈরি নীতিমালায় অনুসরণ করছে না বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। ফলে দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানকেও এখানে যুক্ত হতে হচ্ছে। সরকারও এক্ষেত্রে অনেকটাই অসহায়।
মূলত আইনের শাসন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংক সংস্কার বিষয়ক যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা মোটেই ইতিবাচক হয়নি বরং সমস্যা যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে। কারণ, এসব সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে পারেনি। মহল বিশেষকে আনুকূল্য দেওয়ার জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। ফলে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সেক্টরে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো বেতন কমানো, চাকরি ছাঁটাইয়ের মতো উদ্যোগ নেয়ার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অতীতে ভাল অবস্থানে না থাকলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো নিকট অতীতে বেশ ছন্দেই ছিল। কিন্তু এখন সে অবস্থা আর অবশিষ্ট নেই বরং এখন বেসরকারি ব্যাংকগুলোও চলছে অনেকটা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আদলেই। এই সেক্টরের একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি  নানান কৌশলে ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আর এসব অনৈতিক কার্য সম্পাদনের জন্য নিজেদের নামের সাথে সরকার সংশ্লিষ্টতার তকমা লাগানো এক মহল বিশেষের রীতিমত মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। আর এভাবেই চলছে অর্থনৈতিক সেক্টরে ডিজিটাল লুটপাট। আর এর পরিসর শুধুই বাড়ছে না বরং ক্রমেই তা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।
মূলত কোন সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই একটি সুবিধাভোগী ও চাটুকার শ্রেণি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সৃষ্টি হয়। তারা সরকার ও সরকার সংশ্লিষ্টদের নামে নানাবিধ অপকর্মে করে নির্বিঘ্নে। পুরো দোষচাপে সরকারি দলের ওপর। আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সেই শনির আছরেই আটকা পড়েছে। লাগামহীন লুটপাটের কারণেই ব্যাংকগুলো এখন বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র ও সুবিধাভোগী শ্রেণি গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদেরকে সহায়তা দেয়ার অভিযোগও রয়েছে কোন কোন সরকার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। ব্যাংক মালিক দাবি করা কিছু পরিচালক এসব সুবিধা আদায় করে নিচ্ছেন অবলীলায়। এর মাধ্যমে চার-পাঁচটি পরিবারের সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। তারা মালিক সমিতির নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে চাঁদা তুলছে। আর এ প্রক্রিয়ার সাথে কতিপয় সরকার সংশ্লিষ্টদের একটা যোগসূত্রের কথা গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে। যা দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরের জন্য মোটেই কাক্সিক্ষত নয়।
আমাদের দেশে অর্থনৈতিক সেক্টরে সিন্ডিকেটের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আর এই উপদ্রপ একেবারে নতুন কিছু নয়। তা অতীতে ছিল, এখনো আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ প্রবণতা একেবারে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত এই সেক্টরের পুরোটাই এখন এদের দখলে। ফলে এক দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যেই চলতে হচ্ছে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে। এর নানাবিধ কারণও রয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় বাংকে পূর্ণনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার-১৯৭২ অনুযায়ী, আইনিভাবে সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বৈঠক হওয়ার সুযোগ নেই। যা হবে তা সমন্বয় বা কোঅর্ডিনেটর কমিটির মাধ্যমে হতে হবে। আগে আইন লঙ্ঘন হতো না। এখন আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যাংকিং সেক্টরে সমস্যার উৎপত্তি হয়েছে সেখানেই। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকারের নানাবিধ দুর্বলতা কাজে লাগাচ্ছে এক শ্রেণির ব্যাংক মালিকরা। ফলে মালিক পক্ষের মধ্যে অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাংকের সব মালিককে অবশ্য একই পাল্লায় ওজন করা ঠিক হবে না। তবে পাঁচ-সাতটি পরিবার আছে, যারা সরকারকে জিম্মি করে ফেলেছে ইতোমধ্যেই। ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার কার্যকরী কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে ব্যাংকিং সেক্টরে শৃক্সক্ষলাও ফিরিয়ে আনাও যাচ্ছে না।
বস্তুত, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব, ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও জবাবদিহীতার অভাবেই দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে বড় ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গত কারণে সরকারের অবস্থানও বেশ দুর্বল। যেহেতু সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নির্ভর নয় বলে প্রায় সর্বমহলে প্রশ্ন রয়েছে; তাই জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতাও নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সরকারকে খেলাপী সহায়কই মনে করছেন। আর খেলাপীদের দফায় দফায় নানা সুযোগ দেয়ার বিষয়টি সেদিকেই অঙ্গলী নির্দেশ করে।
দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে দীর্ঘদিন জমে থাকা সমস্যা ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বর্তমান অর্থমন্ত্রীও তার ঘোষিত প্রথম বাজেটে সে কথারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু এবারের বাজেটের বাজেটের প্রেক্ষাপটটা পুরোপুরি আলাদা। ঘোষিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। কারণ, এই বিষয়ে অনেক ইতিবাচক পরামর্শ রয়েছে বিভিন্ন মহল থেকেই। এসব সরকার মেনে নেয়া সঙ্গত মনে করছে না। তাই বর্তমান সরকারের কাছে ব্যাংক সংস্কার আশা করা অরণ্যে রোদন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি ২০২০/২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু এই বাজেটকে কেউই সময়োযোগী মনে করতে পারছেন না। ঘোষিত বাজেটকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও কল্পনাপ্রসূতই মনে করা হচ্ছে। বাজেটে অর্থমন্ত্রী আয় কোথা থেকে করবেন তা উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু ব্যয়ের চাকা চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য মোটেই সুখকর নয় বরং জাতিগতভাবে আমাদের দেউলিয়াত্বের বৃত্তেই আটকা পড়ছি। মূলত একটি দুষ্টচক্র আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে অক্টোপাশের মত চেপে ধরেছে। আর এই অবস্থা থেকে বেড়িয়ে আশা খুব একটা সহজসাধ্য হবে বলে মনে হচ্ছে না। সরকারও এ বিষয়ে তেমন কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না।
অবশ্য আমাদের জাতীয় অর্থনীতি প্রায় সব সূচকই মোটামোটি ইতিবাচক। কিন্তু চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আর ব্যাংকিং খাত এ ক্ষেত্রে খুবই উল্লেখযোগ্য। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ খাতের অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সময় এসেছে। আর এজন্য ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধরনের সংস্কার সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি তার অনুকূলে মোটেই কথা বলছে না। আমাদের নিরাশাটা তো সেখানেই।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে ৬৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। যা আমাদের দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য গোদের ওপর বিষফোঁড়া। অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শিল্পে বিনিয়োগ করেন। কেউ ইচ্ছে করে ব্যবসায় লোকসান দেখান। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে লোকসানও হয়। তাই সরকারের পক্ষে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার ঋণ নেয়ার পরামর্শ এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, চীনে সবচেয়ে কম নন-পারফর্মিং লোন রয়েছে। সেখানে কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন করে না। সবাই শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। ব্যাংকগুলোর উচিত ঋণ দেয়ার আগে ভালোভাবে তাদের জামানত দেয়া সম্পদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। কিন্তু সরকারের পক্ষে যত কথায় বলা হোক এসব ক্ষেত্র কোন ভাবেই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকছে। মূল সমস্যাটা তো সেখানেই।
সরকারের পক্ষে ব্যাংকিং খাতের এসব অনিয়মের কথা অবলীলায় স্বীকার করে বলা হয়, ব্যাংকিং সেক্টরে যেসব অনিয়ম হচ্ছে, সেগুলো বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের শক্তিশালী ভূমিকা নেয়া উচিত। যারা দেশ থেকে টাকা পাচার করে বিদেশে ব্যবসা করেন, তারা যখন বুঝবেন দেশে ব্যবসা করাই লাভজনক, তখন আর বিদেশে টাকা পাচার করবেন না। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ি, শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর করাও বর্তমানে দেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই করের আওতা বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষে।
আর এক্ষেত্রে সরকারের আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য হচ্ছে, দেশে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমছে। আশির দশকে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ছিল ৮০ ভাগ। কিন্তু বর্তমানে সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪ ভাগ। বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। শুধু বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির নিশ্চয়তা দিতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগের কোনো অভাব হবে না। এপ্রিলে এলএনজি আমদানি শুরু হলে সেই সমস্যা থাকবে না। তারা মনে করছেন, গত এক বছরে দেশে সর্বোচ্চ ৩৭ লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মানুষ বিদেশে গেছে। দেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৩ লাখ। এ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ২শ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রত্যেক গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে। মজুরি ছাড়া কাজ থেকে মজুরির মধ্যে যুক্ত হয়েছেন ১৪ লাখ মানুষ। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেকে আয় বৈষম্যের অভিযোগ থাকলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। এমনকি অনেক উপরে অর্থাৎ ৩৭ নম্বরে এসেছে। আমরা এখন প্রকল্প নিচ্ছি গ্রাম-শহর সব মিলিয়ে।
সরকারের পক্ষে আরও দাবি করা হচ্ছে যে, আবাসন খাতে প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সাড়ে ৮ শতাংশ। প্রবাসী আয় বেড়েছে। পুঁজিবাজার ইনডেক্স ৬ হাজার ১০০-এর উপরে। গড় লেনদেন একদিনে ৭৭৫ কোটি টাকা। তাই বলা যায়, পুঁজিবাজার অনেক বেশি ভাইব্রেন্ড। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ অনেক ভালো। আমরা যে চীনের কাছ থেকে ঋণ নেই। তাদের ঋণ মোট জিডিপির তুলনায় দ্বিগুণ। সেখানে আমাদের ঋণ নেয়ার হার এখনও অনেক কম।
সরকার ও সরকার সংশ্লিষ্টদের মুখে এমন ইতিবাচক কথা শোনা গেলে বাস্তবতার সাথে এর কিছুটা হলেও গড়মিল রয়েছে। একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, আমাদের জাতীয় অর্থনীতি খুব একটা মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নেই। আর চলমান করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে আমাদের অর্থনীতি বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। এমনিতেই খেলাপী ঋণ ও অর্থনৈতিক সেক্টরে অনিয়ম এবং লাগামহীন লুটপাটের কারণে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তার ওপর বৈদেশিক শ্রমবাজারে বিপর্যয়, তৈরি পোষাক শিল্পে ধ্বস, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মন্দাভাব সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। এমতাবস্থায় দেশের ব্যাংকিং  খাত সহ অর্থনৈতিক সেক্টরে শৃক্সক্ষলা ফিরিয়ে আনা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আর এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপই কাম্য। একমাত্র তিনিই পারেন দেশ ও জাতিকে এই দুরাবস্থা থেকে বাঁচাতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ