শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনায় করোনা পজিটিভ’র হার জাতীয় হারের চেয়ে বেশি

খুলনা অফিস : খুলনায় করোনা আক্রান্ত আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা করোনা হাসপাতালে তিন জন ও হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে একজন এবং একজন নিজ বাসায় মারা গেছেন। এদিকে জাতীয় পর্যায়ের চেয়ে খুলনা জেলায় করোনা পজিটিভ হওয়ার হার উদ্বেগজনক। শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার হিসেবে খুলনা জেলায় করোনা পজিটিভ হওয়ার হার ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর গত ১৮ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হিসেবে এ জেলায় করোনা পজিটিভ এর হার ৩৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। আর জাতীয় পর্যায়ে নমুনা পরীক্ষা হিসেবে করোনা পজিটিভ এর হার হচ্ছে ২২ দশমিক ০৫ শতাংশ। খুলনা জেলায় দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। গত ১১ দিনের হিসেবে জাতীয় হারের চেয়ে খুলনার হার ১৫ শতাংশ বেশি। খুলনার সিভিল সার্জন অফিস ও জাতীয় পর্যায়ে ঘোষিত করোনার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সব তথ্য জানা গেছে।
খুলনা করোনা হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের টেকনোলজিস্ট মো. বাবর আলী ১৯ জুন খুলনা করোনা হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার রাত পৌণে ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নগরীর দোলখোলা এলাকার সমর দাস (৬৭) গত ২৩ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন, সোমবার রাত পৌণে ৮টায় তার মৃত্যু হয়েছে। জেলার ফুলতলা উপজেলার যুগ্মিপাশা এলাকার আনোয়ারা বেগম (৮৫) গত ২৬ জুন ভর্তি হন। তার মৃত্যু হয় রাত সোয়া ৭টায়।
নগরীর বাবু খান রোডের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘আসাদ স্টোর’-এর মালিক আনিসুর রহমান খুলনা করোনা হাসপাতালে ভর্তি হন গত ২৩ জুন। সোমবার বিকেলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তার বন্ধু সৈয়দ আমিনুল ইসলাম পারভেজ। এছাড়া রাত দশটার দিকে নগরীর শান্তিধাম মোড়-এর ডাক্তার গলিতে আব্দুল হালিম (৫০) নামের এক ব্যবসায়ী করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় মারা গেছেন। এ দিকে খুলনার সিভিল অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২৮ জুন পর্যন্ত খুলনা জেলায় ৭৮৬৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে পজিটিভ পাওয়া গেছে ১৭৮৬ জনকে। যা শতকরা ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ সময়ে মারা গেছেন ২১ জন। শনাক্ত হিসেবে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ১৭ শতাংশ। ১৮ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে খুলনা জেলার ৩৫০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১২৯৮ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়। যা ৩৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। এ সময়ে মারা গেছেন ১২ জন। যা দশমিক ৯২ শতাংশ। এ অবস্থা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সচেতন মহলে উৎকন্ঠার সৃষ্টি করছে। সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী গত ২৭ মে পর্যন্ত খুলনা জেলায় ১৯১৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৯ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল। যা ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ সময়ে মারা যান ৩ জন। যার হার ৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬২০টি নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল। যার হার ২ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ সময়ে ১ জনের মৃত্যু ছিল। মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। খুলনার সিভিল সার্জন মো. সুজাত আহমেদ জানান, খুলনায় সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রশাসন সর্বাত্ত¦ক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ জনগন এর কোনটিই আমলে নিচ্ছেনা। তারা মাস্ক ব্যবহারে সচেতন নয়। মাস্ত পকেটে নিয়ে ঘুরছে। বাজার বা সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে নিজেরা সচেতন থাকছে না। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা জরিমানা করছেন। কিন্তু তাতেও জনগণের ঘুম ভাঙ্গছে না। এর ফলে পরীক্ষা যত বাড়ানো হচ্ছে ততই পজিটিভ এর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ