ঢাকা, শনিবার 4 July 2020, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

২ হাজার ২৭৬ জন স্টাফের দুই মাসের বিল ২০ কোটি টাকা: ঢামেক পরিচালক

ফাইল ফটো

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ-ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ২০ কোটি টাকার খাবার বিল নিয়ে যে প্রচারণা চলছে তাতে বিভ্রান্তি রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।তিনি জানান, একমাসে হাসপাতালের ২০০ জন চিকিৎসকের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা বলে যে খবর প্রচারিত হয়েছে, তা ‘মিথ্যা তথ্য’।তাঁর দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ সব ধরনের স্টাফ মিলিয়ে ২ হাজার ২৭৬ জন স্টাফের দুই মাসের বিল হিসাব করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। সেটিও সবার থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতসহ সব কিছু মিলিয়ে। যারা একমাসে দুইশ জন চিকিৎসকের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা হিসেবে প্রচার করেছে, তাদের বিচারও দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) নিজ কার্যালয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক এসব কথা বলেন। এসময় তিনি জানান, আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) সকালে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

গত কয়েকদিনে দেশব্যাপী আলোচনার অন্যতম বিষয় ‘২০ কোটি টাকা’ বিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০০ জন চিকিৎসকের একমাসের খাবারের বিল ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। বিষয়টি নিয়ে এমনকি জাতীয় সংসদেও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খোদ ঢামেক হাসপাতালের সবখানেও এ বিষয়টি আলোচনার মূল বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক মুখোমুখি হয়েছিলেন কয়েকটি গণমাধ্যমের। তিন সপ্তাহের হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই তিন সপ্তাহে মোট চিকিৎসক কাজ করেছেন ৫১০ জন, নার্স কাজ করেছেন ৬৩৬ জন, কর্মচারী কাজ করেছে ৪৫৬ জন, টেকনিশিয়ান ৭৬ জন, সিকিউরিটি ২১৬ জন। মোট তিন সপ্তাহের জন্য কাজ করেছেন ১৮৯৪ জন। এর বাইরে বিশ্রামে ছিলেন ৩৮২ জন। অর্থাৎ একমাসে কাজ করেছেন মোট ২২৭৬ জন।তাঁর দাবি অনুযায়ী ২২৭৬ জন স্টাফের দুই মাসের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত বাবদ খরচ হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, স্টাফদের প্রতিদিনের তিন বেলার খাবারের জন্য বরাদ্দ পাঁচশ টাকা। তাদের থাকা-খাওয়া ছাড়াও যাতায়াতের বিষয় আছে। এর জন্য ১৩টি মাইক্রোবাস, একটি মিনিবাস ও দুইটি বাস রয়েছে। এই সবকিছুর একটি খরচ আমরা প্রাক্কলন করে উপস্থাপন করেছি। সেটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেখে পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপনা করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। সব খরচ বিল আকারে পাস হওয়ার পর হোটেলগুলোকে পরিশোধ করা হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে এক কোটি টাকা ছিল। সেটি দিয়ে কিছু বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এর বাইরে আমরা কিন্তু এখনো কোনো বিল পাইনি। যেকোনো কাজে খরচসহ আমাদের যেকোনো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষ আছে। কোথাও যদি অতিরিক্ত ব্যয় হয়ে থাকে, সেটি তারা দেখবেন। অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। তাদের কোনো অনুমোদন ছাড়া আমাদের কোনো কাজ হয় না।

হোটেল নির্বাচনসহ ঢামেক হাসপাতালের স্টাফদের থাকা-খাওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, হাসপাতালের প্রায় ১৯শ কর্মকর্তা-কর্মচারী তিন ব্যাচে হোটেলে থাকছেন। এই জনবলের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩০টি হোটেল রাখা হয়েছে। এই হোটেলগুলো নির্বাচন ও সেখানে আমাদের স্টাফদের রাখার বিষয়ে একটি কমিটিও কাজ করছে। হোটেল নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সেটি যাচাই-বাছাই করেছে। তারা হোটেলের থাকা-খাওয়ার খরচ জেনে কমিটিকে অবহিত করে তারপরই হোটেল চূড়ান্ত করেছে।

নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল দেশের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, যারা ৭৪ বছর ধরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ আজ এখানে যারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন, তাদের থাকা-খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে— এটি দুঃখজনক। আমরা মনে করি, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে এরকম অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাদের সবাইকে অপদস্থ করা হয়েছে। আমরা সবাই অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি এবং দুঃখ পেয়েছি। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, কাল হয়তো তদন্ত কমিটির সামনে বক্তব্য দিতে হবে— এটি কোনো প্রত্যাশিত নয়।

তবে যারা এমন ‘অপপ্রচার’ চালিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক। তিনি বলেন, যারা এরকম বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আমরা জানতে চাই। যিনি মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি কিভাবে ও কোথা থেকে এ তথ্য পেয়েছেন, তা তার গণমাধ্যমের সামনে এসে বলা উচিত। এই যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের হেয় করা হয়েছে, সেজন্য আমি বিচার চাই।

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ